সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

সমাজ পরিবর্তনের প্রথম পদক্ষেপ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

ধরুন আপনি একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেড়াতে গিয়েছেন। গিয়ে দেখলেন সেখানের লোকদের পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নেই। আপনি বিষয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করতে চাইলেন এবং বললেন যে, এর জন্য যে কর্মপরিকল্পনা দরকার তা আপনার কাছে রয়েছে। তারা যদি আপনার কথা মোতাবেক কাজ করে তবেই সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব। খেয়াল করুন, পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে প্রথমে আবশ্যক কাজ হচ্ছে আপনার নির্দেশ, হুকুম সকলের মেনে নেয়া। সবাই আপনার হুকুম অনুযায়ী কাজ করলেই তবে সমাজের উন্নয়ন হবে, সবার দুঃখ লাঘব হবে।

এখন চিন্তা করুন যদি সবাই আপনার হুকুম মানবে শর্ত মেনে নেয় তবেই কিন্তু আপনি তাদের জীবনব্যবস্থায় উন্নতি আনতে পারবেন আর যদি তারা আপনার কথা শুনবে শর্ত মেনে না নেয় তবে আপনার পরিকল্পনা তাদের কোন উপকারে আসবে না আর আপনি আপনার পরিকল্পনা তাদের দিবেনও না কারণ তারা তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয় নি। তারা আপনার অনেক প্রশংসা করলেও আপনি তাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন না কারণ আপনার কাম্যই ছিল তাদের সমাজের উন্নয়ন সাধন।

মহান আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করলেন পরবর্তীতে পৃথিবীতে মানুষকে প্রেরণ করলেন। এই মানুষ দুনিয়ায় এসে পরিবার, সমাজ রাষ্ট্র গঠন করল। মানুষ যাতে পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে জন্য আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রসুলদের প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাই মানুষ কিভাবে জীবনযাপন করলে শান্তিতে থাকতে পারবে তা আল্লাহর চেয়ে ভালো আর কেউ বলতে পারবে না। এরই প্রেক্ষিতে আল্লাহ নবী-রাসুলদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব দিয়েছেন মানুষকে তওহীদের উপর ঐক্যবদ্ধ করতে অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানি না। আল্লাহ সর্বপ্রথম মানবজাতির কাছ থেকে একটি কথাই মেনে নেয়ার অঙ্গীকার চেয়েছেন যে তাঁর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানা যাবে না। মানুষ যদি এই কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হয় তবেই আল্লাহ তার পরিকল্পনা দিবেন সেই অনুযায়ী চললে মানুষের জীবনে, সমাজে রাষ্ট্রে শান্তি নেমে আসবে।

আমরা যদি পূর্ববর্তী নবী-রসুলদের জীবনীর দিকে দৃষ্টিপাত করি তবে দেখবো তাঁরা সবাই সর্বপ্রথম মানুষদের কলেমা অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ- এর উপর ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাঁরা সর্বপ্রথম তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার পর আল্লাহ পরবর্তী ওহী নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী তাঁরা জাতিকে পরিচালনা করেছেন। আল্লাহর শেষ রসুল আমদের প্রিয় নবীও মক্কার ১৩ বছর মানুষকে শুধু কলেমার ডাক দিয়েছেন। তাদেরকে আল্লাহর এক হুকুমদাতা হিসেবে মেনে নিতে বলেছেন। পরবর্তীতে যখন তারা আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসেবে মেনে নিয়েছে তখন আল্লাহর অল্প অল্প করে তাঁর ওহি সম্বলিত পবিত্র কোরআন নাযিল করছেন। আল্লাহর হুকুম সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে অর্ধ দুনিয়ায় যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার সাক্ষী ইতিহাস।

বর্তমানে আমরা যে পরিস্থিতি রয়েছি সেখান থেকে আমাদের উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো কলেমার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধতা। সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সামাজিক ব্যবস্থা সকল কিছু আমরা গঠন করেছি পাশ্চাত্যের অনুকরণে ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া সিস্টেমের উপর। এর ফলে আমাদের সমাজ হয়ে পরেছে ভারসাম্যহীন। আমরা যদি আবার সমাজের উন্নয়ন চাই তাহলে এখনই আমাদের সর্বপ্রথম আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসেবে মেনে নিতে হবে। আমরা যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করছি তাদের উচিত বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা। আমরা বহুপূর্বেই আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসেবে বাদ দিয়ে পাশ্চাত্যের সৃষ্টি তথা মানুষের সৃষ্টি আইন-কানুন দিয়ে আমাদের জীবন পরিচালনা করছি। এর ফলে আমরা কার্যত ভাবে কাফের মোশরেকে পরিণত হয়ে গিয়েছি। আমরা আল্লাহকে হুকুমদাতা হিসেবে বাদ দিয়ে যখন তাঁর নামে প্রশংসা বাক্য পাঠ করি তখন যে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন তা সাধারণ চিন্তায় (Common sense) বোঝা যায়।

অতএব আমাদের এখন কর্তব্য প্রথমে নিজেরাএক আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানি নাএই কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া পরবর্তীতে সকল মানুষকে এর উপর ঐক্যবদ্ধ করা। আমাদের বর্তমানের সংকটময় পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় এই একটিই। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লার হুকুম মেনে নেই তবেই আমাদের সমাজে শান্তি নেমে আসবে। অন্যথায় আমরা যতই তাঁর গুণগান করি না কেন তাতে তিনি আমাদের উপর করুণা করার বদলে আমাদের উপর রাগান্বিত হবেন।

সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

মহাসত্যের হক আদায় অবশ্য কর্তব্য


উহুদের ময়দান। আল্লাহর রসুল (.) সেনাবিন্যাস শেষ করলেন। সেনাবিন্যাস শেষে তিনি তাঁর আদেশের জন্য সেনাদলকে অপেক্ষা করতে বললেন নির্দেশ দিলেন যেন আদেশ পাওয়া মাত্রই যুদ্ধ শুরু হয়। মূর্তিমান মিথ্যা দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাকে প্রতিহত করার জন্য সত্যের সৈনিকরা তৈরি। উপরে নিচে দুটি বর্ম পরিহিত রসুল (.) তখন একটি তলোয়ার বের করে উঁচু করে ধরে বললেন, “এর হক আদায় করতে পারবে এমন কেউ কী আছ? তাঁর কথা শোনার সাথে সাথে আলী ইবনে আবু তালিব (রা.), হযরত যোবয়ের ইবনে আওয়াম (রা.) এবং ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) অগ্রসর হন। সময় আনসারদের মধ্য থেকে আবু দোজানা সেমাক ইবনে খারশা (রা.) এগিয়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, “এর হক আদায় অর্থ কী?” তখন রসুল (.) বলেন, “ তরবারী দিয়ে শত্রুর সাথে এমনভাবে লড়াই করতে হবে যাতে এই তলোয়ার ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।আবু দোজনা কথা শুনার পর সেই তলোয়ারের হক আদায় করতে চাইলেন রসুল তাঁর হাতে সে তলোয়ার তুলে দিলেন। তিনি সে তলোয়াড়ের হক পরিপূর্ণভাবে আদায় করেন।

প্রতিটি বস্তুর হক আদায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিটি বিষয়ের হক আদায় হয়েছে কিনা সে বিষয় নিয়ে আল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। একজন মানুষের সকল সামর্থ্য আল্লাহ থেকেই প্রেরিত হয়। আল্লাহ একজন ব্যক্তিকে সামর্থ্য প্রদান করলেন কিন্তু সে সেই সামর্থকে ভুল খাতে ব্যবহার করল, সে তার মাধ্যমে সমাজে অন্যায়, অশান্তির সৃষ্টি করল এবং এতে অনেক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হল তখন এই কাজের জন্য জন্য তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে এবং তিনি এর জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হবেন। যার জ্ঞান রয়েছে তাকে সেই জ্ঞানের জন্য জবাবদিহীতা করতে হবে, যার শক্তি রয়েছে তাকে সেই শক্তির জন্যই প্রশ্ন করা হবে। সেই জ্ঞান শিক্ষার সঠিক ব্যবহার করেছে কিনা তার জন্য তাকে আল্লাহর সামনে ণ্ডায়মান হতে হবে।

আল্লাহ যাকে যে ক্ষমতা প্রদান করেন নি তাকে তার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে না। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কাজ দেন না (সুরা বাকারাহ ২৮৬) যার যে জ্ঞান, যে সামর্থ্য নেই তাকে সে কাজের জন্য কোনরূপ জবাবদিহিতা করা লাগবে না। আল্লাহ একজন মানুষকে সেই সামর্থ্যগুলোই প্রদান করেন যাকে নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য সেই মানুষটির রয়েছে। মানুষ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন কারণ তার মধ্যে আল্লাহর রূহ বিদ্যমান (সুরা হিজর ২৯) স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির ফলে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শক্তি, বুদ্ধিমত্তাকে সে সত্য বা মিথ্যা উভয় দিকে লাগতে পারে। সে ইচ্ছা করলেই তার এই সামর্থ্য দ্বারা দেশ সমাজ জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে অথবা এর মাধ্যমে দেশ, সমাজ জাতির অনিষ্ট সাধন করতে পারে। সিদ্ধান্ত তার হাতে, সে কী করবে? সে কোন পথে যাবে? সত্যের পথে নাকি মিথ্যার পথে?

মানুষকে দেয়া প্রতিটি জিনিসের হক আদায় জন্য অবশ্যকর্তব্য। সে এই কর্তব্য থেকে মুক্ত হতে পারে না। আল্লাহ তাকে যা কিছু দান করেছেন সেগুলোকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করাই হলো সেগুলোর হক আদায়। আমরা হেযবুত তওহীদ এক মহাসত্যের দিকে সমগ্র মানবজাতিক আহ্বান করছি। মহাসত্য আমরা পেয়েছি এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর মাধ্যমে। তিনি যখন জ্ঞান আল্লাহর অশেষ করুণায় বুঝতে পারলেন, তখন তিনি এর হক আদায়ের জন্যই বই লিখলেন হেযবুত তওহীদ আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করলেন। আমরা মহাসত্যকে সমগ্র মানবজাতির কাছে পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে নিয়েছি। মহাসত্যকে যদি আমরা সমগ্র মানবজাতির জীবনে প্রতিষ্ঠা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সত্য, সুন্দর শান্তিময় পৃথিবী উপহার দিতে না পারি তবে আমরা সত্যের হক আদায়ে ব্যর্থ হব। এটাই আমাদের জীবন ধারণের কারণ, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য। আমরা যারা মহাসত্য পেয়েছি তাদের প্রধান কর্তব্যই হল সুষ্ঠভাবে এর হক আদায় করা। সত্যই সত্যযুগের সূচনা করবে। যদি আমরা মহান দায়িত্ব থেকে পিছপা হই তবে আল্লাহ আমাদের কঠিন শাস্তি দিবেন। আমরা ইহকালে হবো লাঞ্ছিত এবং পরকালে ভোগ করব কঠিন শাস্তি। কেননা আল্লাহর রসুল বলেছেন, “কোন ব্যক্তির নিকট এমন জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যা সে জানে, কিন্তু সে তা গোপন করলো তবে কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তিকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে (আহমাদ, আবু দাউদ তিরমিযী থেকে মিশকাতে)

সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...