বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২০

‘সামাজিক দূরত্ব’


২০২০ এর সময়টা, শুধু ইতিহাসে নয়, থাকবে সর্বত্র।
কিছু অভ্যাস আর নতুন কিছু শব্দ রয়ে যাবে মানুষের মনে-
এ যেমন, লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব।

শব্দগুলো আগেও ছিল- তবে লুকায়িত।
আগুন জ্বালা সিগারেটের ধোঁয়ার মত বর্তমান তাকে সামনে এনেছে।
সমাজে এগুলো আগেও হতো, কিন্তু অভ্যাস হিসেবে নয়;
বরং তখন এক প্রকার বদোভ্যাস্যের অসভ্য চর্চাই ছিল সভ্যতার আধার।

দূরত্বটা এখন শারীরিক, ঘর্ষণহীন, স্পর্শবর্জিত।
কিন্তু এর আগেও ‘সামাজিক দূরত্ব’ ছিল, এ সমাজেই।
দূরত্ব ছিল ধর্মের নামে, ছিল জাতের নামে, ছিল শ্রেণীর নামে।

প্রেম ছিল, কিন্তু তার আগে ছিল ‘সামাজিক দূরত্ব’।
বিয়ে হতো, তবে প্রাধান্য পেতে ‘সামাজিক দূরত্ব’।
মসজিদে, মন্দিরেও সর্বাগ্রে বসত ‘সামাজিক দূরত্ব’।
অধিকার, আইন, সম্মানের সাথে মিশে ছিল ‘সামাজিক দূরত্ব’।

রক্তের কণায়, অস্থির মজ্জায় ছিল ‘সামাজিক দূরত্বের’ বদোভ্যাস,
দূরে ঠেলে দিয়ে দেয়াল গড়া ছিল সভ্য হওয়ার প্রতিমূর্তি।
‘মানুষ’ নয় বরং ‘দূরত্ব’ গড়ার কারিগরী বিদ্যা শেখাত, শিক্ষা।
পিতা-মাতা থেকে প্রেম-প্রীতি-ন্যায় নয় বরং দেয়া হতো ‘দূরত্বের’ দীক্ষা।

আজ সবাই পৃথক।
আজ সর্বত্র আলাদা থাকার প্রতিশ্রুতি।
‘স্টে হোম, স্টে সেফ’ এর স্লোগান আজ কান পাতলেই শোনা যায়।
আজ যেনো বহু বছরের চর্চা উলঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
আজ যেনো মন খুলে সব বলছে তাদের হৃদয়ের সুপ্ত কথা-
”দূরে থাক। দূরে থাক, হতোচ্ছাড়া।”
“তোর শরীরের জন্য”
“তোর বুদ্ধির জন্য”
“তোর ধর্মের জন্য”
“তোর শ্রেণীর জন্য”
“দূর হ, দূর হ”।

আজ এ দূষিত চিন্তা প্রকাশ্য।
আজ এ অবিভক্তির রূপ পরিষ্কার।
আদম-হাওয়া তো লজ্জায় নিজেদের আবৃত করেছিলেন, সংযত হয়েছিলেন।
কিন্তু এ আদম সন্তানেরা আজ যদি নিজেদের উলঙ্গ রূপে লজ্জা না পায়-
তবে হে ধরা, দ্বিধা হও।
চিন্তার এ বিভক্তি, মনুষ্যত্বের ‘লকডাউন’ ও ‘সামাজিক দূরত্বের’ মিথ্যে চর্চা-
আর নয়, এভাবে চলাটা আর মোটেই নয়।

অদ্ভুত ফল

কোনো নির্দিষ্ট দল যখন আইনানুগ কোনো পন্থা ব্যাতিত পরিকল্পনামাফিক পিটিয়ে, ফাঁসি দিয়ে বা আগুনে পুড়িয়ে কাউকে হত্যা করে তখন তাকে ইংরেজিতে ‘লিঞ্চিং’ বলা হয়। (ভার্জিনিয়ার, ক্যাপ্টেন উইলিয়াম লিঞ্চের নামে শেষের এই লিঞ্চ থেকে শব্দটি নেয়া হয়েছে)।
.
আমেরিকার ইতিহাসের এক ঘৃণ্য অধ্যায় এ লিঞ্চিং। উনিশ শতকের শেষের দিকে, আমেরিকায় সংঘটিত গৃহযুদ্ধের পর, এ ধরনের ঘটনাগুলো বহুলাংশে বৃদ্ধি প্রায়। আমেরিকার দক্ষিণ অংশে সবচেয়ে বেশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার বা লিঞ্চিং এর ঘটনাগুলো ঘটেছিল এবং যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল তাদের বেশিরভাগই ছিল আফ্রিকান আমেরিকান পুরুষ।
.
আমেরিকার ইতিহাসের বর্ণবাদী মনোভাবের এক ন্যাক্কারজনক উদাহারণ এই লিঞ্চিং। লিঞ্চিং নিয়ে ১৯৩৯ সালে আবের মিরোপল ‘স্ট্রেঞ্জ ফ্রুট’ (Strange Fruit) নামক একটি কবিতা লিখেন যা বিলি হলিডে পরবর্তীতে গান হিসেবে রেকর্ড করেন।.

কবিতাটি বাংলায় অনুবাদের চেষ্টা করলাম একটু (ভুল-ক্রটি ধরিয়ে দিবেন আর ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)।

অদ্ভুত ফল


দক্ষিণের যে গাছগুলো, তাতে এক অদ্ভুত ফল হয়-
রক্তবিন্দু, তাদের পাতায় ও শেকরে লেপ্টে রয়।
কালো বর্ণের কিছু দেহ, দোল খায় ঐ মৃদু বায়
অদ্ভুত সেই ফলগুলো, ঝুলে থাকে তুলা শাখে, হায়।

দক্ষিণের সামর্থ? তার শ্যামল চারণভূমি।
সেই দৃশ্যে চোখ ছানাবড়া, অবাক মুখখানি।
ম্যাগনোলিয়া ফুলের সেই সতেজ মিষ্টি ঘ্রাণ
হঠাৎ; আরে!
এ তো পোড়া মাংসের ঘ্রাণ।

কাকেরা খুবলে খাবে এই তো সে ফল,
মুক্তবাতাস শুষবে, জমবে বৃষ্টি জল।
রবির বর্ণ পচবে, ধ্বসে পড়বে সকল গাছ-
বড় আজব ও অদ্ভুত, এ তিক্ত ফলের শাঁস।

অনুবাদক: মুস্তাফিজ শিহাব
২১ মে ২০২০ (রাত সাড়ে তিনটায়)



সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...