শনিবার, ২৬ মে, ২০১৮

নিঝুম রাতে...


যেদিন তুমি আমার হবে, হবে যে আপন
আঁচলে লুকাবে আঁখী, প্রেমময় ক্ষণ।

নিঝুম রাতে আসবে একা, বসবে তুমি পাশে
সেদিনও কী থাকবে এমন শান্তমতি বেশে?
নাকি আধেক অন্ধকারে আসবে চুপিসারে?
প্রতিক্ষাতে নিরব রবে, আমায় মিলন তরে।

সেদিন আমি চুপটি করে থাকবো অনেকক্ষণ
বিরহের জ্বালাগুলোয় পুড়বে না আর মন।
সলাজেতে চুপি চুপি আসবে আমার কাছে
বৃষ্টি হয়ে ভিজাবো তোমায় অপার তৃষাতে।

সেদিন কী সাত সাগরে উঠবে উথাল ঢেউ?
তুলবো তুফান তোমার মনে জানবেনা আর কেউ
নিশিথ রাইতে আইসো বন্ধু বইসো আমার পাশে
বাক্যহারা দৃষ্টি দিয়া ডুববো তোমার মাঝে।

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১৮

মহাসত্যের হক আদায় অবশ্য কর্তব্য

উহুদের ময়দান। আল্লাহর রসুল (স.) সেনাবিন্যাস শেষ করলেন। সেনাবিন্যাস শেষে তিনি তাঁর আদেশের জন্য সেনাদলকে অপেক্ষা করতে বললেন ও নির্দেশ দিলেন যেন আদেশ পাওয়া মাত্রই যুদ্ধ শুরু হয়। মূর্তিমান মিথ্যা দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাকে প্রতিহত করার জন্য সত্যের সৈনিকরা তৈরি। উপরে ও নিচে দুটি বর্ম পরিহিত রসুল (স.) তখন একটি তলোয়ার বের করে উঁচু করে ধরে বললেন, “এর হক আদায় করতে পারবে এমন কেউ কী আছ? তাঁর এ কথা শোনার সাথে সাথে আলী ইবনে আবু তালিব (রা.), হযরত যোবয়ের ইবনে আওয়াম (রা.) এবং ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) অগ্রসর হন। এ সময় আনসারদের মধ্য থেকে আবু দোজানা সেমাক ইবনে খারশা (রা.) এগিয়ে যান এবং জিজ্ঞেস করেন, “এর হক আদায় অর্থ কী?” তখন রসুল (স.) বলেন, “এ তরবারী দিয়ে শত্রুর সাথে এমনভাবে লড়াই করতে হবে যাতে এই তলোয়ার ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।” আবু দোজনা এ কথা শুনার পর সেই তলোয়ারের হক আদায় করতে চাইলেন ও রসুল তাঁর হাতে সে তলোয়ার তুলে দিলেন। তিনি সে তলোয়াড়ের হক পরিপূর্ণভাবে আদায় করেন।

প্রতিটি বস্তুর হক আদায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিটি বিষয়ের হক আদায় হয়েছে কিনা সে বিষয় নিয়ে আল্লাহ জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। একজন মানুষের সকল সামর্থ্য আল্লাহ থেকেই প্রেরিত হয়। আল্লাহ একজন ব্যক্তিকে সামর্থ্য প্রদান করলেন কিন্তু সে সেই সামর্থকে ভুল খাতে ব্যবহার করল, সে তার মাধ্যমে সমাজে অন্যায়, অশান্তির সৃষ্টি করল এবং এতে অনেক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হল তখন এই কাজের জন্য জন্য তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে এবং তিনি এর জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হবেন। যার জ্ঞান রয়েছে তাকে সেই জ্ঞানের জন্য জবাবদিহীতা করতে হবে, যার শক্তি রয়েছে তাকে সেই শক্তির জন্যই প্রশ্ন করা হবে। সেই জ্ঞান ও শিক্ষার সঠিক ব্যবহার করেছে কিনা তার জন্য তাকে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হতে হবে।

আল্লাহ যাকে যে ক্ষমতা প্রদান করেন নি তাকে তার জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে না। আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কাজ দেন না (সুরা বাকারাহ ২৮৬)। যার যে জ্ঞান, যে সামর্থ্য নেই তাকে সে কাজের জন্য কোনরূপ জবাবদিহিতা করা লাগবে না। আল্লাহ একজন মানুষকে সেই সামর্থ্যগুলোই প্রদান করেন যাকে নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য সেই মানুষটির রয়েছে। মানুষ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন কারণ তার মধ্যে আল্লাহর রূহ বিদ্যমান (সুরা হিজর ২৯)। এ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির ফলে আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শক্তি, বুদ্ধিমত্তাকে সে সত্য বা মিথ্যা উভয় দিকে লাগতে পারে। সে ইচ্ছা করলেই তার এই সামর্থ্য দ্বারা দেশ সমাজ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে অথবা এর মাধ্যমে দেশ, সমাজ ও জাতির অনিষ্ট সাধন করতে পারে। সিদ্ধান্ত তার হাতে, সে কী করবে? সে কোন পথে যাবে? সত্যের পথে নাকি মিথ্যার পথে?

মানুষকে দেয়া প্রতিটি জিনিসের হক আদায় জন্য অবশ্যকর্তব্য। সে এই কর্তব্য থেকে মুক্ত হতে পারে না। আল্লাহ তাকে যা কিছু দান করেছেন সেগুলোকে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করাই হলো সেগুলোর হক আদায়। আমরা হেযবুত তওহীদ এক মহাসত্যের দিকে সমগ্র মানবজাতিক আহ্বান করছি। এ মহাসত্য আমরা পেয়েছি এমামুয্যামান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নীর মাধ্যমে। তিনি যখন এ জ্ঞান আল্লাহর অশেষ করুণায় বুঝতে পারলেন, তখন তিনি এর হক আদায়ের জন্যই বই লিখলেন ও হেযবুত তওহীদ আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করলেন। আমরা এ মহাসত্যকে সমগ্র মানবজাতির কাছে পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে তুলে নিয়েছি। এ মহাসত্যকে যদি আমরা সমগ্র মানবজাতির জীবনে প্রতিষ্ঠা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সত্য, সুন্দর ও শান্তিময় পৃথিবী উপহার দিতে না পারি তবে আমরা এ সত্যের হক আদায়ে ব্যর্থ হব। এটাই আমাদের জীবন ধারণের কারণ, এটাই আমাদের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য। আমরা যারা এ মহাসত্য পেয়েছি তাদের প্রধান কর্তব্যই হল সুষ্ঠভাবে এর হক আদায় করা। এ সত্যই সত্যযুগের সূচনা করবে। যদি আমরা এ মহান দায়িত্ব থেকে পিছপা হই তবে আল্লাহ আমাদের কঠিন শাস্তি দিবেন। আমরা ইহকালে হবো লাঞ্ছিত এবং পরকালে ভোগ করব কঠিন শাস্তি। কেননা আল্লাহর রসুল বলেছেন, “কোন ব্যক্তির নিকট এমন জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যা সে জানে, কিন্তু সে তা গোপন করলো তবে কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তিকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেয়া হবে (আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযী থেকে মিশকাতে)।

ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর যারা

যুগে যুগে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারাই নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের সকলকেই বেছে নিতে হয়েছে কণ্টকময় ত্যাগের রাস্তা। তারা নিজেদের ত্যাগের বিনিময় সত্য, ন্যায় ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাদের জীবনকে করেছেন সার্থক। আমাদের হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সদস্যগণও এই তালিকার বাইরে নয়। তারা যে মহাসত্য নিয়ে মানবজাতির সামনে দাঁড়িয়েছেন, যে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তার জন্য তাদেরকেও অনেক বড় বড় ত্যাগ করতে হয়েছে যা বর্তমানের স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক দুনিয়ায় কল্পনাও করা যায় না। আমরা তাদের সে সকল ত্যাগের ঘটনাসমূহ বজ্রশক্তিদের পাঠকদের সামনে তুলে ধরছি।

জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার চাঁপাগাছি হরিসপুর গ্রামের সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান জনাব মো. মাহদী হাসান সাগর। তিনি ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত মো. নুরুল ইসলাম। তিনি তার উপজেলার এফ ইউ পাইলট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম হাটহাজারী মেখল কওমী মাদ্রাসা থেকে পড়াশুনা শেষ করেন। আমাদের দেশের মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণীর কাছে ধর্মব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তিনিও প্রথামাফিক মসজিদের ইমামতি ও মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন।

এরই মধ্যে আল্লাহ তার উপর বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দিলেন এবং তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করলেন। তার এক দুলাভাই (চাচাতো বোনের স্বামী) ছিলেন হেযবুত তওহীদের সদস্য। তিনি বগুড়ায় থাকতেন এবং বগুড়া থেকে প্রায়ই শশুর বাড়ি গেলে শ্যালক সাগরের সঙ্গে সময় কাটাতেন। তিনি প্রায়ই সাগরকে বলতেন যে ‘ভালো হয়ে যা’। সাগর দুলাভাইয়ের কাছ থেকে হেযবুত তওহীদের বক্তব্য শুনতেন, কিন্তু তার দুলাভাই তখনও হেযবুত তওহীদের নাম তার কাছে প্রকাশ করেন নি। সাগর অবাক হয়ে আমাদের দেশের আর সব ইসলামিক দলগুলোর সাথে এই বক্তবকে মিলানোর চেষ্টা করতেন কিন্তু মিলাতে পারতেন না। একদিন ঐ দুলাভাই শশুর বাড়ি থেকে বিদায় নেবার সময় সাগরকে বললেন যে তিনি সত্য পেয়েছেন। এই কথা সাগরের মনে নাড়া দিল, কথাটি তিনি ভুলতে পারলেন না। “সত্য!” এ কথার পর তিনি ছুটলেন দুলাভাইকে ধরার জন্য যাতে এই কথার অর্থ বুঝতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে তার দুলাভাই বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গিয়েছেন। দীর্ঘ এক মাইল পথ ছুটে গিয়েও তিনি তার দেখা পেলেন না।
তারপর যেদিন তার দুলাভাই আবার আসেন তখন সাথে একটি পোর্টেবল ডিভিডি প্লেয়ার নিয়ে আসেন ও সর্বপ্রথম তাকে ‘ধর্মব্যবসা’ শিরোনামের প্রামাণ্য চিত্রটি দেখান। এরপর তার মনে আরো প্রশ্ন জাগে এবং তিনি স্থানীয় গোপিনাথপুর বাজার থেকে দৈনিক বজ্রশক্তি পত্রিকা সংগ্রহ করে পড়তে থাকেন। পত্রিকার নিবন্ধগুলো তাকে প্রচ-ভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি ধীরে ধীরে সত্যকে উপলব্ধি করতে শুরু করেন। কিন্তু তার মনে একটি প্রশ্ন বরাবরই আসতো। তাহলে আমাদের ওস্তাদরা সবাই ভুল? আমরা সবাই ভুল? এতদিন তাহলে কী করলাম! দৈনিক বজ্রশক্তির আর্টিক্যালগুলো পড়ে যুক্তি খাতিরে তিনি প্রতিটি বিষয় মেনে নিলেও মন তখনও এই একটি প্রশ্নের জন্য আনচান করতো। এরপর তিনি কোর’আন ও হাদিসের চর্চা পুনরায় শুরু করলেন এবং তার সাথে হেযবুত তওহীদের বক্তব্যগুলোকে পুনরায় মিলাতে লাগলেন। এরফলে তার মনে সাহস বৃদ্ধি পেল এবং এরপর তিনি হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের জনসভার ভাষণগুলো শুনলেন।

এতকিছুর পর তার মনে একটিই আকাঙ্খা তৈরি হলো, হেযবুত তওহীদ সত্য, হেযবুত তওহীদে যোগ দিতে হবে! কিন্তু তিনি জানতেন যে ধর্মব্যবসা করলে হেযবুত তওহীদ করা যায় না, হেযবুত তওহীদের নীতিগুলোর একটি হচ্ছে ধর্মের কাজ করে কোন বিনিময় নেয়া যাবে না। তিনি তার দুলাভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে ধর্মব্যবসা ত্যাগ করলেন এবং গত ২৩ জুলাই ২০১৭ সাথে হেযবুত তওহীদে যোগদান করেন।

হেযবুত তওহীদে যোগদানের সাথে সাথে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়। প্রথমে তিনি ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। তার প্রতি সবার শ্রদ্ধার দৃষ্টি ছিল। কিন্তু হেযবুত তওহীদের সদস্য হওয়ার সাথে সাথে সকলের তাকানোর ভাবভঙ্গি পাল্টে গেল। তাদের থানার ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের সাথে পাশের থানার ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের সম্পর্ক ছিল সাপে-নেউলের মতো। কিন্তু সাগরের বিরুদ্ধে তারা একতাবদ্ধ হয়ে তাকে নানা রকম হুমকি দিতে লাগলো। তারা তাকে বুঝাতে লাগলো যে হেযবুত তওহীদ করলে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, হেযবুত তওহীদ বাতিল দল, হেযবুত তওহীদের এমাম মিথ্যা, হেযবুত তওহীদ মিথ্যা। তিনি তাদেরকে পবিত্র কোর’আনের কয়েকটি আয়াত খুলে দেখানে এবং স্পষ্ট করে নিজের মতামত জানিয়ে দিলেন। এরপর ধর্মজীবীরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করলো এবং তার অভিভাবকদেরকে তার বিরুদ্ধে উসকে দিতে লাগলো। বিশেষ করে তার নানাকে তার বিরুদ্ধে উসকে দিল। সাগর জানতে পারলেন যে তাকে মারধোর করা হবে এবং তাকে বিচার-শালিসের সম্মুখীন করা হবে। এ কথা জানতে পেরে তিনি তার নানাকে ধর্মব্যবসা সম্পর্কে জানান ও প্রামাণ্যচিত্রটি দেখান। নানাও বুঝতে পারেন যে, হেযবুত তওহীদ প্রচলিত বিকৃতির বেড়াজাল থেকে মুসলিম জাতিকে মুক্ত করতে চাচ্ছে। নানার হস্তক্ষেপের কারণে আর তাকে মারধোর বা বিচার-শালিসের মুখোমুখি হতে হয় না। কিছুদিন পর তার বাসায় চরমোনাই পীরের ১০-১৫ জন মুরিদ আসে এবং তাকে তালাশ টিমের অপপ্রচারমূলক ভিডিও দেখায়। ভিডিওটি দেখানোর মাধ্যমে তারা সাগরকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সাগরকে তারা সত্যের পথ থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়।

সাগর ধর্মজীবিকার আরাম আয়েশের জীবনকে ত্যাগ করে ছোটখাটো পণ্য হকারী করে জীবনধারণ করতে শুরু করেন। এরফলে তার পরিবরের লোকজন তাকে অবজ্ঞা করে এবং তার সাথে খারাপ আচরণ করে। স্বামী আলেম এই ভেবে যে স্ত্রী তার প্রতিটি কথা কোর’আনের অক্ষরের মত সত্য বলে মেনে নিত, যে স্ত্রী তার আরাম আয়েশের জন্য সকল প্রকার কষ্ট সহ্য করতো সেই স্ত্রী আজ তিনি হেযবুত তওহীদ করেন বলে তার সাথে রাত-দিন ঝগড়া করে, তার খাবার-দাবারের প্রতি খেয়াল রাখে না এমনকি এমনও দিন যায় লাগাতার তিন-চারদিন সাগরকে বাসায় খাবার দেয়া হয় না। তথাপি তিনি সত্যের উপর অটল আছেন। তিনি যে আলোর সন্ধান পেয়েছেন সেই আলোই তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং তাকে পূর্বের সম্মানের চেয়ে অনেক বেশি সম্মান প্রদান করবে এটিই তার বিশ্বাস।

ভুল ফতোয়া নারীদেরকে হাজার বছর পিছিয়ে রেখেছে

সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানবজাতির অগ্রযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপের পিছনে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সভ্যতার নির্মাণে আমরা পুরুষকে অগ্রণী ভূমিকায় দেখতে পেলেও লোকচক্ষুর অন্তরালে সেই পুরুষের পেছনে থেকে কোনো না কোনো নারীর প্রেরণা, সহযোগিতা সক্রিয় ছিল। আল্লাহ প্রথমে একজন পুরুষ সৃষ্টি করেছিলেন। মহান আল্লাহ সৃষ্টির শুরুতে মালায়েকদের ডেকে বললেন তিনি পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে এক নতুন সৃষ্টিকে প্রেরণ করতে চান। মালায়েকরা এই সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে মতামত ও যুক্তি পেশ করলেও মহান স্রষ্টা তাদের কথা শুনলেন না, স্রষ্টার চাওয়ায় সৃষ্টি হল সৃষ্টির। আল্লাহ নিজ হাতে মানবসভ্যতার প্রথম মানুষ, আদি পিতা, আদি পুরুষ, আদমকে তৈরি করলেন। তৈরি করে তাঁর মাঝে নিজের রূহ ফুঁকে দিলেন, তাঁকে জ্ঞান দিলেন, বিজ্ঞান শেখালেন যার ফলে মানুষ মালায়েকদের থেকে শ্রেষ্ঠ হওয়ার গৌরব অর্জন করলো, সম্মান লাভ করলো এবং তাদের থেকে রোজ কিয়ামত পর্যন্ত সেবা পাওয়ার অঙ্গিকার লাভ করলো। এরপর আদমের বসবাসের স্থান হিসেবে জান্নাত নির্ধারিত হল।

জান্নাতে প্রথম পা রাখলেন বাবা আদম। তিনি বিস্ময়ের সাথে চারিদিকে দেখতে লাগলেন। জান্নাতের পরম শান্তি, নয়ানাভিরাম সৌন্দর্য, ফুল ও ফলের বাগান তার চিত্তে পুলকের সৃষ্টি করলো। কিন্তু এক পর্যায়ে গিয়ে দেখা গেল তাঁর চিত্তে আর শান্তি নেই। আদমের কাছে জান্নাতের সৌন্দর্য, সুখ-সম্ভোগ, রং-রূপ-রস সবকিছু বিবর্ণ-মলিন মনে হলো। স্রষ্টা জানেন সৃষ্টির মনস্তত্ত¡, তাই তিনি নরের জন্য, আদমের জন্য একজন সঙ্গিনী সৃষ্টি করলেন। তিনিই হলেন আমাদের সবার জন্মদাত্রী মা হাওয়া। মা হাওয়াকে লাভ করার পর পিতা আদমের জান্নাত পূর্ণতা পেল। প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ সেই জন্যই বোধ হয় তার একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছিলেন, ‘বিধাতা নর সৃষ্টি করেন এবং সেই নরকে বাঁচিয়ে রাখে নারী।’ আদম ও হাওয়াকে মহান আল্লাহ তাঁর পরিকল্পনা অনুসারে একটি ভুলের শাস্তি স্বরূপ পৃথিবীতে প্রেরণ করলেন। শুরু হলো পৃথিবীতে নারী-পুরুষের একত্রে ইবলিসের বিরুদ্ধে মহাসংগ্রাম।

জান্নাত থেকে বিতাড়িত করে আল্লাহ পুরুষ ও নারীকে শাস্তিসহ পৃথিবীতে প্রেরণ করলেন। পুরুষ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে উপার্জন করবে ও পরিবারের ভরণ-পোষণ করবে এবং নারী গর্ভযাতনা সহ্য করবে ও সন্তান লালন-পালন করবে। এ দায়িত্ব ছাড়াও খেলাফতের যে মহান দায়িত্ব নিয়ে আদম ও হাওয়া পৃথিবীতে এসেছিলেন সেই দায়িত্বের সমান অংশীদার হলেন তারা দুইজন। আদমসন্তানদের বংশবিস্তারের ধারাবাহিকতায় পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল মানবজাতি। সর্বযুগে, সর্বস্থানে আল্লাহ মানুষকে দুনিয়াতে তাদের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এবং এই দায়িত্ব পালনের পথ বেয়ে জান্নাতে ফিরে যাওয়ার জন্য নবী-রসুল-অবতার তথা পথপ্রদর্শক পাঠাতে থাকলেন। নবী-রসুলদের বিদায়ের পর কালের আঘাতে বিকৃত হয়ে যায় তাদের শিক্ষা, ফলে আবার সৃষ্টি হয় বিপর্যয়ের। সেই শিক্ষাকে সংস্কার করতে আসেন নতুন কোনো নবী। যতবারই দীন বিকৃত হয়ে যায়, পৃথিবীতে অন্যায়-অশান্তির বিস্তার হয় তাতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারীরা। যেহেতু পুরুষের পেশীশক্তি অধিক তারাই হয় সমাজের নিয়ন্তা, আর নারীকে মুখ বুঁজে পুরুষতান্ত্রিক নির্যাতন সয়ে যেতে হয়। তাদেরকে বার বার পরিণত করা হয় বিনোদনের সামগ্রীতে, ভোগ্যপণ্যে। নতুন নবী এসে আবার সমাজে নারী ও পুরুষের যথাস্থান নিশ্চিত করেন, প্রত্যেকের মর্যাদা পুনঃস্থাপন করেন। তাঁদের এই সংগ্রামে নারী ও পুরুষ উভয়েই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন, কিন্তু নারীর ভূমিকা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইতিহাসের পাতায় অনুক্ত থেকে যায়।

ন্যায়প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের আবির্ভাবের এই পালাক্রমিক ঢেউ একের পর এক এসে মানব ইতিহাসের তটদেশ ছুঁয়ে যায়। নবী-রসুলদের আগমনের ধারাবাহিকতায় মহান আল্লাহ আজ থেকে চৌদ্দশ’ বছর আগে তাঁর শেষ রসুলকে প্রেরণ করেন। তিনি মক্কার আরব সমাজে বেড়ে উঠতে লাগলেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই মক্কার পরিবেশ দেখে যারপরনাই ব্যথিত হতেন। যুগটাকে বলা হয় আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা অন্ধত্ব-অজ্ঞানতার যুগ। নারীদের অবস্থা সেখানে ছিল সবচেয়ে করুণ। কোনো পরিবারে কন্যাশিশু জন্মগ্রহণ করলে সেই পরিবারের সকলের মুখ অন্ধকার হয়ে যেত। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেয়া ছিল নিত্য দিনের ব্যাপার। গোত্রে গোত্রে নারীদের নিয়ে কোন্দল হত, শক্তিশালী গোত্রের লোকেরা দুর্বল গোত্রে কোন সুন্দরী নারী থাকলে তাকে ভোগ করার জন্য আক্রমণ করতো। এই ভয়েও অনেকে কন্যা সন্তান জীবিত রাখত না। নারীদের দেহপসারিনী বাঈজী হিসাবে ব্যবহার করা হতো। এমনকি পবিত্র কাবায় উলঙ্গ হয়ে হজ করতেও বাধ্য করা হত। এরূপ একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে রসুল আসলেন এবং এই সমাজকে আলোকময় করার উপায় সন্ধান করতে লাগলেন। মহান আল্লাহ তাঁকে পথ দেখালেন, হেদায়াহ প্রদান করলেন। তাঁর উপর নাজেল করলেন ইসলামের শেষ সংস্করণ যার লক্ষ্য সমগ্র মানবজাতি। তিনি সমগ্র মানবজাতির জীবন থেকে যাবতীয় অন্যায় অবিচার দূর করে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হিসাবে দায়িত্ব প্রাপ্ত হলেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় সমগ্র আরব উপদ্বীপে সেই অনাবিল শান্তি প্রতিষ্ঠা করে স্রষ্টার কাছে চলে গেলেন। আরবদের সমাজে ফিরে এলো ভারসাম্য।

আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থায় নারীরা আবার তাদের মর্যাদা ফিরে পেল। তারা তাদের সৃষ্টির মূল কারণ উপলব্ধি করতে সক্ষম হলো। তারা জীবনের সঠিক লক্ষ্য খুঁজে পেল। রসুলাল্লাহর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ তাদেরকে পরিণত করল দুঃসাহসী যোদ্ধায়। তারা সমাজের প্রতিটি অঙ্গনে তাদের প্রতিভা ও যোগ্যতার ছাপ রাখতে লাগলেন। তারা হলেন হাসপাতালের অধ্যক্ষ, হলেন বাজার ব্যবস্থাপক, তারা সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেন। যারা ছিল সমাজের বোঝা, তারাই হলো সমাজের শক্তি।

সময়ের চাকা যতই ঘুরেছে ইসলাম ততই তার প্রকৃত রূপ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। নারীদের পর্দা সংক্রান্ত মাসলা মাসায়েল নিয়ে, ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে হাজার হাজার মাসলা মাসায়েল নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে বিরাট বিরাট কেতাবের পাহাড় গড়ে তোলা হয়েছে। এভাবে সহজ সরল ইসলাম বিকৃত, বিপরীতমুখী, জটিল ও দুর্বোধ্য হয়ে গেছে। এখন এই যুগে এসে সেই মাসলা-মাসলায়েলগুলো পাঠ করলে ইসলামকে একটি নারী-নিগ্রহকারী, নারী অধিকার হরণকারী ও পুরুষতান্ত্রিকতার হেফাজতকারী একটি প্রাচীনপন্থী ধর্ম বলেই প্রতীয়মান হয়। মনে হয় যেন ইসলাম নারীকে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে আবৃত করে রাখতে চায়, তাকে গৃহবন্দী করে রাখতে চায়, তার অবদানকে রান্না ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করতে চায়। এসব দেখে আধুনিকমনস্ক মানুষ ইসলামের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছে। নারীরা হয়ে পড়েছে পাশ্চাত্যের পূজারী কারণ পাশ্চাত্য মূল্যবোধ নারীকে গৃহবন্দী করে রাখার পক্ষপাতী নয়। তারা তাদের নারীদেরকে চাঁদের দেশে নিয়ে গেছে বহু আগে, তাদের জাতীয় জীবনের সর্ব অঙ্গনে নারীর অবাধ পদচারণা ও অংশগ্রহণ। এদিকে মুসলিম নারীরা আজও শিক্ষা অধিকার নিয়েই সংগ্রাম করে যাচ্ছে, তাদেরকে অনুদান দিয়ে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে হচ্ছে। মেয়েরা অত শিক্ষিত হয়ে কী হবে – এমন কথা এখনও হরহামেশাই শোনা যাচ্ছে। ধর্মের বিকৃত মাসলা মাসায়েল দিয়েই নারীদেরকে এভাবে শত শত বছর পশ্চাৎবর্তী করে রেখেছে ধর্মব্যবসায়ী ফতোয়াবাজ গোষ্ঠী। তাদের সৃষ্ট এই ফতোয়ার নিগড় থেকে মুক্ত হতে গিয়েই পাশ্চাত্যের প্রদর্শিত অশ্লীল জীবনাচরণের ফাঁদে পা দিয়েছে আমাদের নারীরা। তারা যে আবার সেখানে গিয়ে মানুষের মর্যাদা খুইয়ে পণ্যেই পরিণত হয়েছে সেটা তারা উপলব্ধি করতে পারছে না। তাদেরকে আধুনিকতা ও স্বাধীনতার নামে আরেকটি ভারসাম্যহীন জীবন উপহার দিচ্ছে পশ্চিমা জীবনদর্শন।

একদিকে ধর্মব্যবসায়ীদের ফতোয়ার বেড়াজাল আরেকদিকে মুক্তির নামে পণ্যে পরিণত করার ফাঁদ এই উভয়প্রকার অন্যায় অবস্থা থেকে জাতিকে উদ্ধার করার পথ আল্লাহ পাক দান করেছেন। নবী-রসুল তো আর আসবেন না, কিন্তু আখেরি নবী যে প্রকৃত ইসলামের মাধ্যমে আরবের নারীদেরকে মুক্তির আস্বাদ প্রদান করেছিলেন, তাদেরকে যথোপযুক্ত মানবিক মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন আমর সেই ইসলাম পেয়েছি। সেটি আমরা মানবজাতির সামনে তুলে ধরে দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আমাদের কাছে পথ আছে। কেবল নারীর মুক্তির পথ নয়, গোটা মানবজাতির মুক্তির সঠিক পথ আমাদের কাছে আছে। প্রতিটি মানুষ তার স্বীয় যোগ্যতা অনুসারে তার ভূমিকা রাখতে পারবে এমন একটি স্বাধীন সমাজব্যবস্থা আমরা মানবজাতিকে উপহার দিতে পারব ইনশাল্লাহ। সেখানে কেউ নিজেকে নিগৃহীত মনে করবে না, সুবিধাবঞ্চিত মনে করবে না, পরাধীন মনে করবে না, অধিকারহারা মনে করবে না, ন্যায্য অধিকার আদায়ে সোচ্চার কারো কণ্ঠই রুদ্ধ হবে না। আজ ইসলামে নারীর পর্দার নামে যে বিরাট অবিচারের পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মুসলিম ধর্মাবলম্বী নারীদের উপর সেই অবিচার থেকে তারা মুক্ত হয়ে আল্লাহর রসুলের নারী আসহাবদের মতোই জীবনের উন্মুক্ত অঙ্গনে পুরুষদের পাশাপাশি সমান ভূমিকা রাখবেন সে নিশ্চয়তা ইসলাম দিয়েছে।
আমরা হেযবুত তওহীদ সেই পথটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। একটি বিরাট বটবৃক্ষের সম্ভাবনা যেমন একটি ছোট বীজের মধ্যে নিহিত থাকে তেমনি আমাদের বক্তব্যের মধ্যে সমগ্র ইসলামের জীবনরীতি সম্পর্কে প্রচলিত ধ্যানধারণাকে পাল্টে দিয়ে একটি স্বর্গীয় পৃথিবী গড়ে তোলার রূপরেখা নিহিত রয়েছে- এই কথা আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে পারি।

মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ

একটি মুদ্রার সর্বদা দুটি পিঠ থাকে -এ কথাটির সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এর ভাবার্থও খুবই গভীর। প্রতিটি বস্তুর ব্যবহারের মধ্যেই দুটো দিক থাকে- ভালোমন্দ, ডান ও বামের ভারসাম্য নিয়েই জগৎ।

একজন ব্যক্তি যিনি প্রচুর সম্পদের মালিক, সারাজীবন কষ্ট করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যাতে শেষ জীবনে সুখে সে সম্পদ ভোগ করতে পারেন। বাইরে থেকে তাকে হয়তো অনেক সুখী দেখছেন কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখুন, তার বড় ছেলে আজ মাদকের নেশায় বুঁদ। ছোট মেয়েটি বেসুমার টাকা হাতে পেয়ে নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে আমোদ-প্রমোদ করছে। স্ত্রীর দুর্বব্যবহার তাকে পারিবারিক জীবনকে তিক্ত করে তুলেছে। সুতরাং সম্পদের পাহাড় তাকে সুখী করতে পারছে না। একই মুদ্রার দুটো পিঠ দুই রকম।

অপর একজন লোকের সুন্দরী আধুনিকা স্ত্রী আছেন। সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সবাই তাকে ঈর্ষার দৃষ্টিতে দেখে আর হায় আফসোস করে। কিন্তু তাদের জীবনেও ভিন্ন প্রেক্ষাপট আছে। কারণ তার স্ত্রী আত্মগরিমায় এতটাই উন্নতনাসিকা যে রান্নাবান্না, ঘর-সংসারের কাজে তার কোনো আগ্রহ নেই। ভদ্রলোক নিজের স্ত্রীর হাতের রান্নার স্বাদ থেকে বঞ্চিত, গার্হস্থ সুখ তার কপালে জুটলো না। স্ত্রীর সেবাযত্ন কী সেটা তিনি জানতেও পারলেন না। অন্যের সেবাপরায়ণা কিন্তু কুরূপা স্ত্রীর দিকে তিনি ঈর্ষান্বিত চোখে তাকিয়ে থাকেন। একই মুদ্রার দুটো পিঠ দুরকম।

এভাবে আরো উদাহরণ দেয়া যাবে যেখানে আপনি দেখবেন যে মুদ্রার বরাবরই দুটো পিঠ রয়েছে। এক পিঠ দেখে কখনই সম্যক ধারণা লাভ করা যায় না। একই ভাবে বর্তমানের দাজ্জালীয় সভ্যতারও দুইটি বিপরীত দিক রয়েছে। আমরা সম্পূর্ন মুদ্রাটিকে না দেখে শুধু এক পিঠ দেখছি এবং এই অজ্ঞতাই আমাদের ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানের দাজ্জালীয় সভ্যতাকে ‘সভ্যতা’ না বলে বরং যান্ত্রিক প্রগতি বলাই শ্রেয় কারণ এ সভ্যতার যা কিছু সভ্য সেগুলো সবই প্রতারণামূলক, মেকি আর কপটতায় পূর্ণ। আপনি আমার সাথে দ্বিমত করতে পারেন যে না, যারাই এ সভ্যতায় উন্নতি লাভ করেছে তারাই সুখ ও শন্তিও পেয়েছে, যারা উন্নতি করতে পারে নি তারাই শুধু পিছিয়ে রয়েছে। কিন্তু আমি বলবো এ ধারণা ভুল। এ সভ্যতা আমাদের একদিকে যেমন বস্তুতান্ত্রিক উন্নতি দিয়েছে তেমনি অপরদিকে এমন একটি সমাজ দিয়েছে যে সমাজের মানুষের মাঝে দয়া, মায়া, ভ্রাতৃত্ব নেই, নেই কোন সুখ-শান্তি। বস্তুগত উন্নয়নের জন্য একজন মানুষ তার মনুষ্যত্বকে বিকিয়ে দিয়ে পশুর চেয়েও নিচে নামতে পারে।

সভ্যতা এই শব্দটি এসেছে ‘সভ্য’ থেকে। সভ্য বলতে বোঝায় ভদ্র, শিষ্ট, মার্জিত, সুরুচিসম্পন্ন, ভাল (civilian, polite, courteous, mannerly) ইত্যাদি। ভাল মন্দের বিবেচনার পর ভালকে গ্রহণ করে ও মন্দকে বর্জন করেই ধীরে ধীরে একটি সভ্যতা (Civilization) গড়ে উঠে। বর্তমান সভ্যতায় এই চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গায় দাজ্জাল তথা বস্তগত ইহুদি খ্রিষ্টান ‘সভ্যতা’ বসে রয়েছে। এর ফলে ব্যক্তিগত দিক থেকে তারা যেমন নৈতিকতাহীন, আত্মাহীন হয়ে পড়েছে তেমনি রাষ্ট্রগতভাবে যুদ্ধ, দলগত হানাহানি করে ক্রমে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। আপনারা এ সভ্যতার যান্ত্রিক প্রগতি দেখছেন কিন্তু এর অপর পিঠটিও আপনাদের বিবেচনায় আনা উচিত। প্রতিটি দেশে আজ খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ ইত্যাদি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। প্রতিটি মানুষ এই সভ্যতার নামে চলা অসভ্যতার শিকারে পরিণত হয়েছে। মানুষ তার মেধাকে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ফলে অর্জিত উন্নতিকে মানুষের ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করছে। আত্মার নিদারুণ পতনের সঙ্গে বিজ্ঞানের প্রযুক্তির (Technology) ধ্বংসকারী শক্তির যোগের পরিণতি চিন্তা করে মানুষ আজ শিউরে উঠছে। একদিকে বস্তুগত উন্নতি এবং অন্যদিকে এরই বিপরীতভাবে নৈতিক অবক্ষয় সমান তালে বেড়েই চলেছে। আমরা মুদ্রার এক পাশ দেখে এ সভ্যতার গুণগান গাইলেও অপর পিঠ দেখে অনেকেই শিউরে উঠছে।

তাহলে এখন আমাদের করণীয় কী? আমাদের মঙ্গলের জন্য, আমাদের সুখের জন্য, শান্তির জন্য, মানবজাতির কল্যাণ ও প্রগতির জন্য, মানবজাতি ও পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য ভাল-মন্দের চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য একটি কর্তৃপক্ষকে মানতেই হবে। যেকোনো জীবনব্যবস্থাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবার জন্য একটি স্থান থাকতে হয় অন্যথায় মানবজাতি যদি যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনায় বসে তবে তা অনন্তকাল চলতে থাকবে। এ সিদ্ধান্ত নেবার ও দেবার কর্তৃত্ব ও অধিকার হচ্ছে সার্বভৌমত্ব (Sovereignty)। এই সার্বভৌমত্ব দুই রকমের হতে পারে। যিনি সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ স্রষ্টার অথবা সৃৃষ্টির নিজের। বর্তমানে দাজ্জালীয় সভ্যতার মাধ্যমে সার্বভৌমত্ব চলছে সৃষ্টির নিজের। তাই এখন আমাদের স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে হবে। সেই চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে দাজ্জালকে সরিয়ে আল্লাহকে বসাতে হবে। তবেই আমরা এ সভ্যতার নামের অসভ্যতার বেড়াজাল থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবো।

সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...