রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

অতিরিক্ত কোন কিছুই উত্তম নয়


আমাদের সমাজে বর্তমানে অতি ধার্মিক হওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এরা মনে করেন আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তার থেকেও যদি অধিক করা যায় তবে হয়তো আল্লাহ খুশি হবেন। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। আল্লাহ কখনই বাড়াবড়ি পছন্দ করেন না।
আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর আলেম রয়েছেন যারা সত্যিকারের সত্যনিষ্ঠ আলেম নন, ধর্মব্যবসায়ী। তাদের প্ররোচনায় ও প্রভাবে সাধারণ মানুষ বাড়াবাড়ির দিকে ধাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ী আলেমগণ ধর্মকে নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবহার করে এবং এরই প্রেক্ষিতে তাদের হিতে ইচ্ছেমতো মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রদান করে। এর ফলে ধর্মের ভারসাম্য বজায় থাকে না। এক শ্রেণীর ধর্মের প্রতি এতটাই বুঁদ হয়ে যায় যে তারা সমাজ, সংসার ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করে না। তারা মনে করে এই কর্দমাক্ত, ময়লা আবর্জনাময় দুনিয়া থেকে একবার কোনোভাবে সাবধানে চলে পার করতে পারলেই পরকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যাবে। আরেক শ্রেণী ধর্মব্যবসায়ীদের মুখে ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ও রীতিনীতি শুনে ধর্মের প্রতি বিরূপ ধারণা লাভ করে এবং ধর্মবিমুখী বা কখনো কখনো নাস্তিকে পরিণত হয়। কারণ ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যায় তারা ধর্মের যে রূপটি লাভ করে সেটি আসলে কোনো সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
যেমন ধরুন নারীদের হিজাবের বিষয়টি। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ নারীদের পোশাকের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন। কিন্তু সেই স্পষ্ট ধারণা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই জানে না। ফলে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের মনগড়া ফতোয়া অনুযায়ী নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করে রাখে। যারা নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করেন না তারাও মনে মনে নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হন এবং প্রায়ই তাদের মুখে এই অনুতাপের কথা শোনা যায়। কিন্তু আল্লাহ কখনোই এ ধরনের বোরকা সদৃশ কাপড় নারীদের জন্য চয়ন করেন নি। ইসলাম ফিতরাতের দীন অর্থাৎ প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থা। ইসলাম ভারাসাম্যপূর্ণ দীন। আল্লাহ এই শেষ দীনকে প্রেরণ করেছেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য। তাহলে অবশ্যই সেই মহান ¯্রষ্টা এটা বিবেচনায় রেখেছেন যে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এক নয়। কারণ তিনি নিজেই এই বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছেন। কোর’আনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, “হে মানবজাতি, আমি তোমাদের এক নারী ও পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও (সুরা হুযরাত ১৩)।” এ কারণে মহান আল্লাহ পোশাকের ব্যাপারেও ন্যূনতম একটি বিধান দিয়ে দিয়েছেন যাতে তা সকল পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষের জন্য ধারণ করা সহজ হয়। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, “মো’মেন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। যা সাধারণ প্রকাশমান অঙ্গ তা ছাড়া যাতে তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের বক্ষদেশ ঢেকে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, দাসি, যৌনকামনামুক্ত পুরষ ও বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতিত কারো কাছে নিজেদের আভরন প্রকাশ না করে (সুরা নুর ৩১)।” উপরাক্ত আয়াতটিতে স্পষ্ট যে মো’মেন নারীদের পোশাক কীরূপ হবে। স্পষ্ট আল্লাহ প্রকাশমান অঙ্গগুলো খোলা রাখতে বললেন। প্রকাশমান অঙ্গগুলো কোনগুলো? সেগুলো হচ্ছে হাত, মুখমণ্ডল ইত্যাদি। অর্থাৎ এক কথায় যদি বলি স্বাভাবিক পোশাক পড়বে যাতে করে তাদের দৈহিক বিশেষ সৌন্দর্য্য প্রকাশ না পায়। অনেকেই প্রকাশমান অঙ্গে মুখমণ্ডলকে ফেলতে চান না, তাদের মন্তব্য হচ্ছে মুখমণ্ডলও ঢাকতে হবে। কিন্তু মুখমণ্ডল প্রকাশের ব্যাপারটিও আল্লাহ অপর একটি জায়গায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মো’মেন নারীদের বলুন তারা যাদের চাদর কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সুরা আহযাব ৫৯)।” এখানে স্পষ্ট আল্লাহ বলছেন তাদের চেনা সহজ হবে। অর্থাৎ মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে নয়তো তাদের চেনার প্রসঙ্গ এখানে আসতো না। মুখমণ্ডলই হচ্ছে একজন মানুষকে চেনার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
তাহলে এই দুটি আয়াত থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে একজন মো’মেন নারীর পোশাক হবে মার্জিত, রুচিশীল, ভদ্র এবং স্বাভাবিক যা পরিধান করে সে যাবতীয় কাজ কর্ম করতে পারবে এবং তাকে চেনাও যাবে। কালো বোরকায় আবৃত করে নারীকে বস্তাবন্দী করার প্রবণতা ইসলামের নেই সেই প্রবণতা রয়েছে ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের। আমাদের সমাজের অনেকেই এই আয়াতগুলো জানেন না। আবার অনেকে জেনেও অধিক তাকওয়াবান সাজার জন্য কারণ ছাড়াই নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন। এই অতিরিক্ত মুত্তাকী সাজার বিষয়টিই ইসলামে নিষিদ্ধ। এটাই হচ্ছে বাড়াবাড়ি। আল্লাহর রসুলের জীবনী যদি আমরা দেখি তবে আমরা দেখবো তিনি এই অতি মুসলিম সাজার বিষয়টি বরাবরই নিষিদ্ধ করছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলাল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে কড়াকড়ি করে দীন তার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং দীনের নিকটবর্তী থাক, নিয়মিত পূণ্যের কাজে পুরস্কারের সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।” এছাড়াও দীন শিক্ষা দেয়ার সময় রসুল দীনকে সহজভাবে তুলে ধরার কথাও বলেছেন। রসুলাল্লাহ মুয়াজ ও আবু মুসা (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণের প্রাক্কালে এ উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “(জনগণের কাছে ধর্মীয় বিষয়গুলো) সহজ করে তুলে ধরো, কঠিনরূপে নয়। একে অপরকে মান্য কর, বিভেদে লিপ্ত হয়ো না।” রসুলাল্লাহর আরেকটি হাদিস আবু ইয়ালা তার মুসনাদে আনাস ইবনে মালিকের বরাতে এবং ইবনে কাছীর সুরা হাদীদের ২৭ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন। সেই হাদিসে রয়েছে, রসুল বলতেন, “নিজের উপর এমন অতিরিক্ত বোঝা চাপিও না যাতে তোমার ধ্বংস হওয়ার আশংকা থাকে। তোমাদের পূর্ববর্তী জনগোষ্ঠী নিজেদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে ধ্বংস হয়েছে। তাদের ধ্বংসাবশেষ পুরাতন মঠ-মন্দিরে খুঁজে পাওয়া যায়।” অন্যত্র আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, “একদল লোক নবী সহধর্মিণীদের কাছে এসে রসুলাল্লাহর ইবাদত স¤পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। এ ব্যাপারে অবহিত হওয়ার পর তারা তাদের ইবাদত-বন্দেগীকে অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে একজন বললেন, আমি সর্বদা সারারাত নামাজ পড়ব; আরেকজন বললেন, আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো ভাঙ্গবো না। এ সময় আল্লা হর নবী তাদের কাছে এলেন এবং বললেন: “আল্লাহর শপথ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য আমারই সবচেয়ে বেশি এবং তাঁকে বেশি ভয় করি তোমাদের চেয়ে; তথাপি আমি রোযা রাখি এবং ভাঙ্গিও, আমি ঘুমোই এবং নারীকে বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহকে অনুসরণ করে না সে আমার অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।”
তাহলে রসুল যে অতিরিক্ত করতে নিষেধ করেছেন তা এখানে স্পষ্ট। তাহলে বর্তমানে আমরা যে অতি ধার্মিক হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তা যে ইসলামে নিষিদ্ধ তা উপর্যুক্ত বর্ণনা থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। অতএব আমাদের এখন এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ একজন মো’মেন, মুসলিম কখনোই ভারসাম্যহীন হতে পারে না। না কম না অতিরিক্ত। কারণ মহান আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, “আমি তোমাদের মধ্যাপন্থী জাতি করেছি যাতে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমণ্ডলীর জন্য এবং রসুল সাক্ষ্যদাতা হোন তোমাদের জন্য (সুরা বাকারা ১৪৩)।”

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভাবনা

Related image

মনের হাসি মনে- লুকাই সংগোপনে, চোখ বুজিয়া ভাবি কিছুক্ষণ। ফুল যদি হও তুমি- মৌমাছিটা আমি, তোমায় ঘিরে উড়বো সারাক্ষণ। নদী হবে তুমি- ঢেউটা হবো আমি, করবো সদা তোমায় আলিঙ্গন। নতুন পাতা তুমি- বাতাস হবো আমি, পরশে জুড়াবো তোমার দেহ-মন। আকাশ হলে তুমি- ছাড়বো ধরা আমি, মেঘের ভিড়ে খুঁজবো তোমার রঙ। হেসে হেসে মনে- ভাবি সারাক্ষণে, পুষ্পচোরের ভাবনা চিরন্তন।

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ইসলামে গান-বাজনা হারাম নয়, হারাম হচ্ছে অশ্লীলতা


বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময় অতিবাহিত করছি। পুরো বিশ্ব আজ দাজ্জালীয় সভ্যতার করতলগত। এখানে ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই। এখানে শক্তি ও অর্থই সব। অর্থই এখানে সম্মানিত হওয়ার একমাত্র মানদণ্ড। মানুষের মধ্যকার মনুষ্যত্ব আজ ধ্বংসপ্রায়। তাহলে এই যুগসন্ধিক্ষণে এসে আমাদের করণীয় কী? আমাদের একমাত্র করণীয় হচ্ছে এই দাজ্জালীয় সভ্যতাকে ভেঙ্গে একটি নতুন সভ্যতার নির্মাণ করা। একটি পুরাতন জরাজীর্ণ অট্টালিকাকে ভেঙ্গে সেই জায়গায় নতুন একটি অট্টালিকা নির্মাণ চাট্টিখানি কথা নয়। 
.
প্রচলিত বিকৃত ইসলামের ধারক-বাহকেরা চায় নারীদের ঘরে বন্দী করে রাখতে, তারা সুস্থ বিনোদন ও মননে অস্বীকার জানায়, তারা গান-বাজনাকে হারাম বলে ঘোষণা করে। অথচ ইসলামে কোথাও গান-বাজনাকে হারাম করা হয় নি। মানুষের মধ্যকার সুকুমার বৃত্তি আল্লাহই দান করেছেন, সুতরাং ইসলাম এর চর্চাকে হারাম করতে পারে না। ইসলামের ব্যাপারে যদি আমরা কোন মতামত পেশ করি তবে তা অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের (স.) জীবনাদর্শ অনুযায়ী হতে হবে।
.
বর্তমানে যারা ইসলামের ধারক-বাহক সেজে বসে আছেন তারা গান-বাজনার নাম নিলেই ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ জপতে থাকেন, ভাবটা এমন যেন গান-বাজনা বিশাল পাপের বিষয়। ছোটবেলায় আমরা শুনতাম গান শুনা যাবে না, সিনেমা দেখা যাবে না। কিন্তু এ ধারণার জন্ম হয়েছে সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে দাজ্জালীয় সভ্যতা থেকে আগত অশ্লীলতার সংমিশ্রণের জন্য। কিন্তু উচিত ছিল সংস্কৃতি থেকে অশ্লীলতাকে বিতাড়ন করার চেষ্টা করা। সেটা না করে আমাদের আলেম সমাজ গানকেই হারাম ঘোষণা করে দিলেন। এ যেন মাথা ব্যাথা হওয়ায় মাথা কেটে ফেলা।
.
সঙ্গীত একটি শিল্প। আবহমান কাল থেকেই তা সকল জাতির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ অংশ। আমি পূর্বে বলে এসেছি আমরা একটি কঠিন সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি। এই কঠিন সময়ে যে বিপ্লব প্রয়োজন সেই বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে সংগীত। ইতিহাসের দিকে যদি আমরা তাকাই তবে বেশি দূর যেতে হবে না, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গানগুলো এখনো আমাদেরকে বিপ্লবের চেতনায় উদ্দিপ্ত করে। আজকের এই দুঃসময়ে গান হতে পারে পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। এজন্য যারা মনে করেন ইসলাম গানকে হারাম করেছে তাদেরকে এ ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। 
.
প্রথমেই আমাদের ধারণায় আনতে হবে আল্লাহ কোর’আনে কোথাও গান-বাজনা হারাম করেন নি। যা কিছু হারাম তা মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছেন। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে (সুরা আল আনআম ১১৯)।” আল্লাহ পবিত্র কোর’আনের কোথাও গান-বাজনার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন নি। কোর’আনে আল্লাহ মানবজাতির শান্তি-অশান্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একটি ক্ষুদ্র বিষয়ও বাদ রাখেন নি সেখানে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা যা মানবজাতির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, সেটি যদি নিষিদ্ধ হতো তা কি তিনি একবারও উল্লেখ করতেন না? অবশ্যই তিনি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান জানিয়ে দিতেন। আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে অসার বাক্যালাপ করতে নিষেধ করেছেন (সুরা লোকমান-৬)। ইসলামের অতি-বিশ্লেষণকারী পণ্ডিতরা এই ‘অসার বাক্যালাপ বা লাহওয়াল হাদিস’ কথাটিকে ব্যাখ্যা করে গান বানিয়ে দিয়েছেন এবং দাবি করছেন যে এখানে গান গাইতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের এই ব্যাখ্যা যে সম্পূর্ণ মনগড়া তার প্রমাণ রসুলাল্লাহর জীবন। 
.
রসুলাল্লাহ (স.) এর জীবন থেকে যদি আমরা দেখি তবে স্পষ্ট দেখবো তিনি সুস্থ বিনোদন, আনন্দ উৎসব ও গান-বাজনা ইত্যাদি বর্জন করেন নি। তাঁর নবী হওয়ার পর থেকে সমগ্র জীবনটাই কেটেছে সংগ্রামে আর যুদ্ধে, হাজারো ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। মাত্র ২৩ বছরে তাঁকে ৭৮ টি যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে যেখানে অনেকগুলোতেই তিনি নিজে প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। এমন একজন বিপ্লবীর পক্ষে সারাদিন ঘরে বসে থেকে গান শোনা সম্ভব হয় নি, তবুও তিনি চিত্তবিনোদনের জন্য গান শুনেছেন। 
.
হাদিসে রয়েছে, “রসুল (স.) একদিন মদিনার গলিপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকটি বালিকা দফ বাজিয়ে গান গেয়ে বলছিলো, আমরা বনু নাজ্জারের বালিকার দল, কত খোশনসীব! মুহাম্মদ (স.) আমাদের প্রতিবেশী। তখন আল্লাহর রসুল বলেন, আল্লাহ অবগত আছেন, আমি তো তোমাদের ভালোবাসি (সুনানে ইবনে মাজাহ)।” অন্যত্র দেখা যায়, আবু বোরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, “একদিন রসুলাল্লাহ যুদ্ধ থেকে ফিরার পর একজন কালো বর্ণের তরুণী তাঁর কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসুল, আমি মানত করেছিলাম যে আল্লাহ যদি আপনাকে সহিহ সালামত যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরিয়ে আনেন তবে আমি আপনার সামনে দফ বাজাবো ও গান গাইবো। আল্লাহর রসুল জবাব দিলেন, তুমি যদি মানত করে থাকো তবে তা পূর্ণ করো। অতঃপর তরুণীটি গান গাইতে শুরু করলো। এই সময় আবু বকর (রা.) প্রবেশ করলেন তবুও সে বাজাতে থাকলো, হযরত আলী (রা.) প্রবেশ করলেন তবুও সে থামলো না, হযরত উসমান (রা.) প্রবেশ করলেন এবং তখনও সে বাজাচ্ছিল। কিন্তু যখনই উমর (রা.) উপস্থিত হলেন তরুণীটি তার দফ নামিয়ে রাখলো। আল্লাহর রসুল তখন বললেন, হে উমর! শয়তানও তোমাকে ভয় পায়। আমি বসে ছিলাম আর এই তরুণীটি দফ বাজিয়ে গান করছিলো, আবু বকর, আলী যখন প্রবেশ করে তখনও সে বাজাচ্ছিলো, উসমান আসার পরই সে থামেনি কিন্তু যখনই তুমি আসলে সে দফটি রেখে দিল (তিরমিযি শরীফ, দ্বিতীয় খণ্ড)। আল্লাহর রসুলের জীবনে এরূপ ঘটনার অভাব নেই যেখানে তিনি গান শুনেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, “একদিন আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট এলেন। এ সময়ে মিনার উৎসবের দিনগুলোর একটি দিনে তাঁর নিকট দুটি মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল। নবী (স.) তাঁর চাদর আবৃত অবস্থায় শুয়েছিলেন। তখন আবু বকর (রা.) মেয়ে দুটিকে ধমক দিলেন। তখন আল্লাহর রসুল মূখমÐল থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, হে আবু বকর, তাদের বাধা দিও না, এটা তাদের ঈদের দিন (সহিহ বোখারী)।” এছাড়াও “মোহাম্মদ বিন হাতবি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসুলাল্লাহ (রা.) বলেছেন, হালাল ও হারাম বিবাহের মধ্যে পার্থক্য হলো ঢোল বাজানো ও শব্দ করা বা ঘোষণা প্রচার (সুনানে আবু দাউদ)।”
.
তাহলে রসুলের জীবনী থেকেও আমরা স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছি যে তিনি গান শুনেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র সহযোগেই শুনেছেন। অনেকেই দাবি করেন বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে শুধু দফ হালাল আর অন্য সকল বাদ্যযন্ত্র হারাম। কিন্তু এ ধারণাটিও সঠিক নয়। আমাদের তৎকালীন অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। মদিনা একটি কৃষিপ্রধান গ্রাম্য এলাকা। সেই এলাকার মানুষজন কৃষিজীবি তাই তারা ফসল কাটার গান, গ্রাম্য পরিবেশের গান অর্থাৎ আমাদের ভাটিয়ালী গানের মতো গানগুলো গাইতেন। সেই সকল গান গাওয়ার জন্য তারা নিজস্ব সহজলভ্য বাদ্যযন্ত্রগুলোই ব্যবহার করতেন। যেমন আমাদের দেশে গ্রামগঞ্জে এখনো একতারা, ডুগি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। আল্লাহর রসুল কোন বাদ্যযন্ত্রের উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। যদি করতেন তবে তিনি দফের উপরেই আরোপ করতে পারতেন। অতএব যারা দাবি করেন যে দফ ছাড়া অন্যান্য সকল বাদ্যই হারাম তারা আসলে তাদের জ্ঞানের সংকীর্ণতার পরিচয় দেয়। আর একটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো জায়েজ হওয়ার অর্থ সকল বাদ্যযন্ত্রই জায়েজ হওয়া- এটা সাধারণ জ্ঞান। আল্লাহর রসুল তীর-ধনুক, ঢাল তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। এর অর্থ হলো যুদ্ধে তিনি সমসাময়িক যুগের অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। আজ যখন তাঁর উম্মাহ যুদ্ধ করবে তখনও কি তারা তীর-ধনুক আর ঢাল-তলোয়ার দিয়েই যুদ্ধ করবে? অবশ্যই নয়। তাদেরকেও সমসাময়িক যুগে উপযোগী অস্ত্রসস্ত্রই ব্যবহার করতে হবে।
.
তবে হ্যাঁ, অশ্লীলতাকে ইসলাম অবশ্যই হারাম ঘোষণা করেছে। পবিত্র কোর’আনে রয়েছে, “আল্লাহ মন্দ কাজের আদেশ দেন না (সুরা আরাফ ২৮)।” তাহলে যে সকল গান সমূহের মাধ্যমে অশ্লীলতার প্রসার ঘটানো হয় সে সকল গান অবশ্যই হারাম। তবে দেশ ও জাতির কল্যাণে, মানুষের মধ্যকার সৃজনশীলতা বিকাশে, সুস্থ বিনোদনের জন্য গান অবশ্যই হালাল। তাই আশা করছি যারা এতদিন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করতেন তাদের ধারণার পরিবর্তন আসবে এবং ইসলামের উদারতা তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

তুমি


সকালের সূর্যেতে তোমারই ছায়া কাঁচা রোদে লেগে থাকে তোমারই মায়া। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় তুমি আছো রব, তুমি স্বামী এ ধরায়। নদীর ধারায় তুমি, সাগরের গর্জনে চাঁদের স্নিগ্ধতায়, বনফুলের সুঘ্রাণে তুমি আছো মিশে যেনো, আমারই তনুমনে অনুভবে অনুভবে, নিঃশ্বাসে জাগরণে। তুমি বিনে দিন বৃথা, রাত যেনো কালিমাখা তুমি বিনে আমি একা, ধরার এই মায়াবনে। আঁধারেতে তুমি আসো হয়ে যেন আঁখিতারা তোমায় যে সপে নিজে হয় নাকো পথহারা। অকূল পাথারে তুমি প্রাণপ্রিয় ধ্রুবতারা সৃষ্টি এই সুন্দর প্রাণহীন তুমি ছাড়া। তোমায় পেয়েই ধনী কুবেরের ধন ছাড়া তোমার প্রেমেই আমি হয়েছি পাগলপারা। সৃষ্টিতে তুমি আছো রোজ দেখি তাই নত শিরে সবিনয়ে প্রণাম জানাই চরণ-‘পরে লও প্রণাম আমার।

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

জানেমান



তুমি আমার নিঝুম রাতের
পূর্ণিমারই চান্দ।
তোমার লাইগা করছি আমার
জীবনটা কোরবান।
আজকে তুমি নাই
নিকষ কালো তাই
লাইন ছাড়া আজ রেলগাড়িটা
কেমনে যে চালাই?

তোমার লাইগা রাত্রি জাইগা
গাইছি মনের গান,
তোমার লাইগা চিন্তা কইরা
হইছি পেরেশান।
চুল খুলিয়া সেলফি তুমি
দিসো জানেমান,
তোমার মুখের কথায় হইসি
খুশিতে আটখান।

তুমি আমার আনারকলি, তুমিই রূপবান
তোমার লাইগা দিলটা আমার
করে যে আনচান।

গ্যালারিটা খুললে পরেই
তোমার দেখা পাই,
সেই ছবিতে হাসি দেখেই
মনের সুখ মিটাই।
খাচ্ছি আমি প্রেমের বিষ
খাচ্ছি ডুবে জল
সেই নেশাতেই গেল আমার
সময় ও যৌবন।
তোমার লাইগা ভাঙ্গলো আমার
সুখের স্বপনখান।

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আমাদের নারীরা

Image may contain: one or more people and sky


নতুন বেশে সাজ রে এবার
উঠা আজকে তরবারী
প্রমাণ করতে হবে যে তোকে
অবলা নয় আমাদের নারী।
.
চোখে জ্বালা ধূমকেতু জ্বালা
শোন ঐ ডাক হায়দারী
গগণ চিরিয়া করছে রোদন
শোষিত করছে আহাজারী।
.
লোভ লালাসা ত্যাগ কর আজ
ত্যাগ কর আজ ভোগ বিলাস
স্রষ্টার তরে এক হয়ে চল
সর্বনাশের করি বিনাশ।
.
এলোকেশে আজ ঝড় তুলে দে
তুল বৈশাখী ভীম তুফান
মা বসুমতি ডাকছে তোদের
করবি আজকে রক্তস্নান।
.
হাতের চুড়ি ভুলে যা আজ
তুলে নে ‍তুই সুদর্শন
শিবের ত্রিশুল, বলরামের হল
আজকে কর তুই মরণপণ।
.
অভাগারে দিবি তার অধিকার
দিবি অভাবীরে ন্যায্য ধন
গড়বি তোরাই জগত মাঝারে
রাম রাজত্ব আর বৃন্দাবন।
.
হয়ে উঠ আজ দূর্গা, কালী
দেখা আজ তোর চণ্ডিরূপ
নাজুক, শীতল, কল্যাণময়ী
আনতে পারে বিনাশস্তুপ।
.
চাইনাকো আজ বধুবেশ তোর
চাইনা আজকে কোমলতা
নতুন দিনের কাণ্ডারী হবি
গড়বি নতুন সভ্যতা।
.
স্রষ্টা তোদের সহায় হবেন
বাড়িয়ে দিবেন যোগ্যতা
প্রত্যেকে তোরা ছড়িয়ে দিবি
নতুন যুগের বারতা।

সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...