আমাদের সমাজে বর্তমানে অতি ধার্মিক হওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এরা মনে করেন আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তার থেকেও যদি অধিক করা যায় তবে হয়তো আল্লাহ খুশি হবেন। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। আল্লাহ কখনই বাড়াবড়ি পছন্দ করেন না।
আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর আলেম রয়েছেন যারা সত্যিকারের সত্যনিষ্ঠ আলেম নন, ধর্মব্যবসায়ী। তাদের প্ররোচনায় ও প্রভাবে সাধারণ মানুষ বাড়াবাড়ির দিকে ধাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ী আলেমগণ ধর্মকে নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবহার করে এবং এরই প্রেক্ষিতে তাদের হিতে ইচ্ছেমতো মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রদান করে। এর ফলে ধর্মের ভারসাম্য বজায় থাকে না। এক শ্রেণীর ধর্মের প্রতি এতটাই বুঁদ হয়ে যায় যে তারা সমাজ, সংসার ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করে না। তারা মনে করে এই কর্দমাক্ত, ময়লা আবর্জনাময় দুনিয়া থেকে একবার কোনোভাবে সাবধানে চলে পার করতে পারলেই পরকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যাবে। আরেক শ্রেণী ধর্মব্যবসায়ীদের মুখে ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ও রীতিনীতি শুনে ধর্মের প্রতি বিরূপ ধারণা লাভ করে এবং ধর্মবিমুখী বা কখনো কখনো নাস্তিকে পরিণত হয়। কারণ ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যায় তারা ধর্মের যে রূপটি লাভ করে সেটি আসলে কোনো সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
যেমন ধরুন নারীদের হিজাবের বিষয়টি। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ নারীদের পোশাকের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন। কিন্তু সেই স্পষ্ট ধারণা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই জানে না। ফলে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের মনগড়া ফতোয়া অনুযায়ী নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করে রাখে। যারা নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করেন না তারাও মনে মনে নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হন এবং প্রায়ই তাদের মুখে এই অনুতাপের কথা শোনা যায়। কিন্তু আল্লাহ কখনোই এ ধরনের বোরকা সদৃশ কাপড় নারীদের জন্য চয়ন করেন নি। ইসলাম ফিতরাতের দীন অর্থাৎ প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থা। ইসলাম ভারাসাম্যপূর্ণ দীন। আল্লাহ এই শেষ দীনকে প্রেরণ করেছেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য। তাহলে অবশ্যই সেই মহান ¯্রষ্টা এটা বিবেচনায় রেখেছেন যে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এক নয়। কারণ তিনি নিজেই এই বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছেন। কোর’আনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, “হে মানবজাতি, আমি তোমাদের এক নারী ও পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও (সুরা হুযরাত ১৩)।” এ কারণে মহান আল্লাহ পোশাকের ব্যাপারেও ন্যূনতম একটি বিধান দিয়ে দিয়েছেন যাতে তা সকল পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষের জন্য ধারণ করা সহজ হয়। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, “মো’মেন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। যা সাধারণ প্রকাশমান অঙ্গ তা ছাড়া যাতে তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের বক্ষদেশ ঢেকে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, দাসি, যৌনকামনামুক্ত পুরষ ও বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতিত কারো কাছে নিজেদের আভরন প্রকাশ না করে (সুরা নুর ৩১)।” উপরাক্ত আয়াতটিতে স্পষ্ট যে মো’মেন নারীদের পোশাক কীরূপ হবে। স্পষ্ট আল্লাহ প্রকাশমান অঙ্গগুলো খোলা রাখতে বললেন। প্রকাশমান অঙ্গগুলো কোনগুলো? সেগুলো হচ্ছে হাত, মুখমণ্ডল ইত্যাদি। অর্থাৎ এক কথায় যদি বলি স্বাভাবিক পোশাক পড়বে যাতে করে তাদের দৈহিক বিশেষ সৌন্দর্য্য প্রকাশ না পায়। অনেকেই প্রকাশমান অঙ্গে মুখমণ্ডলকে ফেলতে চান না, তাদের মন্তব্য হচ্ছে মুখমণ্ডলও ঢাকতে হবে। কিন্তু মুখমণ্ডল প্রকাশের ব্যাপারটিও আল্লাহ অপর একটি জায়গায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মো’মেন নারীদের বলুন তারা যাদের চাদর কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সুরা আহযাব ৫৯)।” এখানে স্পষ্ট আল্লাহ বলছেন তাদের চেনা সহজ হবে। অর্থাৎ মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে নয়তো তাদের চেনার প্রসঙ্গ এখানে আসতো না। মুখমণ্ডলই হচ্ছে একজন মানুষকে চেনার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
তাহলে এই দুটি আয়াত থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে একজন মো’মেন নারীর পোশাক হবে মার্জিত, রুচিশীল, ভদ্র এবং স্বাভাবিক যা পরিধান করে সে যাবতীয় কাজ কর্ম করতে পারবে এবং তাকে চেনাও যাবে। কালো বোরকায় আবৃত করে নারীকে বস্তাবন্দী করার প্রবণতা ইসলামের নেই সেই প্রবণতা রয়েছে ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের। আমাদের সমাজের অনেকেই এই আয়াতগুলো জানেন না। আবার অনেকে জেনেও অধিক তাকওয়াবান সাজার জন্য কারণ ছাড়াই নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন। এই অতিরিক্ত মুত্তাকী সাজার বিষয়টিই ইসলামে নিষিদ্ধ। এটাই হচ্ছে বাড়াবাড়ি। আল্লাহর রসুলের জীবনী যদি আমরা দেখি তবে আমরা দেখবো তিনি এই অতি মুসলিম সাজার বিষয়টি বরাবরই নিষিদ্ধ করছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলাল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে কড়াকড়ি করে দীন তার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং দীনের নিকটবর্তী থাক, নিয়মিত পূণ্যের কাজে পুরস্কারের সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।” এছাড়াও দীন শিক্ষা দেয়ার সময় রসুল দীনকে সহজভাবে তুলে ধরার কথাও বলেছেন। রসুলাল্লাহ মুয়াজ ও আবু মুসা (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণের প্রাক্কালে এ উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “(জনগণের কাছে ধর্মীয় বিষয়গুলো) সহজ করে তুলে ধরো, কঠিনরূপে নয়। একে অপরকে মান্য কর, বিভেদে লিপ্ত হয়ো না।” রসুলাল্লাহর আরেকটি হাদিস আবু ইয়ালা তার মুসনাদে আনাস ইবনে মালিকের বরাতে এবং ইবনে কাছীর সুরা হাদীদের ২৭ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন। সেই হাদিসে রয়েছে, রসুল বলতেন, “নিজের উপর এমন অতিরিক্ত বোঝা চাপিও না যাতে তোমার ধ্বংস হওয়ার আশংকা থাকে। তোমাদের পূর্ববর্তী জনগোষ্ঠী নিজেদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে ধ্বংস হয়েছে। তাদের ধ্বংসাবশেষ পুরাতন মঠ-মন্দিরে খুঁজে পাওয়া যায়।” অন্যত্র আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, “একদল লোক নবী সহধর্মিণীদের কাছে এসে রসুলাল্লাহর ইবাদত স¤পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। এ ব্যাপারে অবহিত হওয়ার পর তারা তাদের ইবাদত-বন্দেগীকে অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে একজন বললেন, আমি সর্বদা সারারাত নামাজ পড়ব; আরেকজন বললেন, আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো ভাঙ্গবো না। এ সময় আল্লা হর নবী তাদের কাছে এলেন এবং বললেন: “আল্লাহর শপথ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য আমারই সবচেয়ে বেশি এবং তাঁকে বেশি ভয় করি তোমাদের চেয়ে; তথাপি আমি রোযা রাখি এবং ভাঙ্গিও, আমি ঘুমোই এবং নারীকে বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহকে অনুসরণ করে না সে আমার অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।”
তাহলে রসুল যে অতিরিক্ত করতে নিষেধ করেছেন তা এখানে স্পষ্ট। তাহলে বর্তমানে আমরা যে অতি ধার্মিক হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তা যে ইসলামে নিষিদ্ধ তা উপর্যুক্ত বর্ণনা থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। অতএব আমাদের এখন এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ একজন মো’মেন, মুসলিম কখনোই ভারসাম্যহীন হতে পারে না। না কম না অতিরিক্ত। কারণ মহান আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, “আমি তোমাদের মধ্যাপন্থী জাতি করেছি যাতে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমণ্ডলীর জন্য এবং রসুল সাক্ষ্যদাতা হোন তোমাদের জন্য (সুরা বাকারা ১৪৩)।”
আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর আলেম রয়েছেন যারা সত্যিকারের সত্যনিষ্ঠ আলেম নন, ধর্মব্যবসায়ী। তাদের প্ররোচনায় ও প্রভাবে সাধারণ মানুষ বাড়াবাড়ির দিকে ধাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ী আলেমগণ ধর্মকে নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবহার করে এবং এরই প্রেক্ষিতে তাদের হিতে ইচ্ছেমতো মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রদান করে। এর ফলে ধর্মের ভারসাম্য বজায় থাকে না। এক শ্রেণীর ধর্মের প্রতি এতটাই বুঁদ হয়ে যায় যে তারা সমাজ, সংসার ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করে না। তারা মনে করে এই কর্দমাক্ত, ময়লা আবর্জনাময় দুনিয়া থেকে একবার কোনোভাবে সাবধানে চলে পার করতে পারলেই পরকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যাবে। আরেক শ্রেণী ধর্মব্যবসায়ীদের মুখে ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ও রীতিনীতি শুনে ধর্মের প্রতি বিরূপ ধারণা লাভ করে এবং ধর্মবিমুখী বা কখনো কখনো নাস্তিকে পরিণত হয়। কারণ ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যায় তারা ধর্মের যে রূপটি লাভ করে সেটি আসলে কোনো সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
যেমন ধরুন নারীদের হিজাবের বিষয়টি। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ নারীদের পোশাকের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন। কিন্তু সেই স্পষ্ট ধারণা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই জানে না। ফলে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের মনগড়া ফতোয়া অনুযায়ী নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করে রাখে। যারা নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করেন না তারাও মনে মনে নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হন এবং প্রায়ই তাদের মুখে এই অনুতাপের কথা শোনা যায়। কিন্তু আল্লাহ কখনোই এ ধরনের বোরকা সদৃশ কাপড় নারীদের জন্য চয়ন করেন নি। ইসলাম ফিতরাতের দীন অর্থাৎ প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থা। ইসলাম ভারাসাম্যপূর্ণ দীন। আল্লাহ এই শেষ দীনকে প্রেরণ করেছেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য। তাহলে অবশ্যই সেই মহান ¯্রষ্টা এটা বিবেচনায় রেখেছেন যে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এক নয়। কারণ তিনি নিজেই এই বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছেন। কোর’আনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, “হে মানবজাতি, আমি তোমাদের এক নারী ও পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও (সুরা হুযরাত ১৩)।” এ কারণে মহান আল্লাহ পোশাকের ব্যাপারেও ন্যূনতম একটি বিধান দিয়ে দিয়েছেন যাতে তা সকল পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষের জন্য ধারণ করা সহজ হয়। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, “মো’মেন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। যা সাধারণ প্রকাশমান অঙ্গ তা ছাড়া যাতে তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের বক্ষদেশ ঢেকে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, দাসি, যৌনকামনামুক্ত পুরষ ও বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতিত কারো কাছে নিজেদের আভরন প্রকাশ না করে (সুরা নুর ৩১)।” উপরাক্ত আয়াতটিতে স্পষ্ট যে মো’মেন নারীদের পোশাক কীরূপ হবে। স্পষ্ট আল্লাহ প্রকাশমান অঙ্গগুলো খোলা রাখতে বললেন। প্রকাশমান অঙ্গগুলো কোনগুলো? সেগুলো হচ্ছে হাত, মুখমণ্ডল ইত্যাদি। অর্থাৎ এক কথায় যদি বলি স্বাভাবিক পোশাক পড়বে যাতে করে তাদের দৈহিক বিশেষ সৌন্দর্য্য প্রকাশ না পায়। অনেকেই প্রকাশমান অঙ্গে মুখমণ্ডলকে ফেলতে চান না, তাদের মন্তব্য হচ্ছে মুখমণ্ডলও ঢাকতে হবে। কিন্তু মুখমণ্ডল প্রকাশের ব্যাপারটিও আল্লাহ অপর একটি জায়গায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মো’মেন নারীদের বলুন তারা যাদের চাদর কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সুরা আহযাব ৫৯)।” এখানে স্পষ্ট আল্লাহ বলছেন তাদের চেনা সহজ হবে। অর্থাৎ মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে নয়তো তাদের চেনার প্রসঙ্গ এখানে আসতো না। মুখমণ্ডলই হচ্ছে একজন মানুষকে চেনার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
তাহলে এই দুটি আয়াত থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে একজন মো’মেন নারীর পোশাক হবে মার্জিত, রুচিশীল, ভদ্র এবং স্বাভাবিক যা পরিধান করে সে যাবতীয় কাজ কর্ম করতে পারবে এবং তাকে চেনাও যাবে। কালো বোরকায় আবৃত করে নারীকে বস্তাবন্দী করার প্রবণতা ইসলামের নেই সেই প্রবণতা রয়েছে ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের। আমাদের সমাজের অনেকেই এই আয়াতগুলো জানেন না। আবার অনেকে জেনেও অধিক তাকওয়াবান সাজার জন্য কারণ ছাড়াই নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন। এই অতিরিক্ত মুত্তাকী সাজার বিষয়টিই ইসলামে নিষিদ্ধ। এটাই হচ্ছে বাড়াবাড়ি। আল্লাহর রসুলের জীবনী যদি আমরা দেখি তবে আমরা দেখবো তিনি এই অতি মুসলিম সাজার বিষয়টি বরাবরই নিষিদ্ধ করছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলাল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে কড়াকড়ি করে দীন তার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং দীনের নিকটবর্তী থাক, নিয়মিত পূণ্যের কাজে পুরস্কারের সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।” এছাড়াও দীন শিক্ষা দেয়ার সময় রসুল দীনকে সহজভাবে তুলে ধরার কথাও বলেছেন। রসুলাল্লাহ মুয়াজ ও আবু মুসা (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণের প্রাক্কালে এ উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “(জনগণের কাছে ধর্মীয় বিষয়গুলো) সহজ করে তুলে ধরো, কঠিনরূপে নয়। একে অপরকে মান্য কর, বিভেদে লিপ্ত হয়ো না।” রসুলাল্লাহর আরেকটি হাদিস আবু ইয়ালা তার মুসনাদে আনাস ইবনে মালিকের বরাতে এবং ইবনে কাছীর সুরা হাদীদের ২৭ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন। সেই হাদিসে রয়েছে, রসুল বলতেন, “নিজের উপর এমন অতিরিক্ত বোঝা চাপিও না যাতে তোমার ধ্বংস হওয়ার আশংকা থাকে। তোমাদের পূর্ববর্তী জনগোষ্ঠী নিজেদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে ধ্বংস হয়েছে। তাদের ধ্বংসাবশেষ পুরাতন মঠ-মন্দিরে খুঁজে পাওয়া যায়।” অন্যত্র আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, “একদল লোক নবী সহধর্মিণীদের কাছে এসে রসুলাল্লাহর ইবাদত স¤পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। এ ব্যাপারে অবহিত হওয়ার পর তারা তাদের ইবাদত-বন্দেগীকে অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে একজন বললেন, আমি সর্বদা সারারাত নামাজ পড়ব; আরেকজন বললেন, আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো ভাঙ্গবো না। এ সময় আল্লা হর নবী তাদের কাছে এলেন এবং বললেন: “আল্লাহর শপথ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য আমারই সবচেয়ে বেশি এবং তাঁকে বেশি ভয় করি তোমাদের চেয়ে; তথাপি আমি রোযা রাখি এবং ভাঙ্গিও, আমি ঘুমোই এবং নারীকে বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহকে অনুসরণ করে না সে আমার অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।”
তাহলে রসুল যে অতিরিক্ত করতে নিষেধ করেছেন তা এখানে স্পষ্ট। তাহলে বর্তমানে আমরা যে অতি ধার্মিক হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তা যে ইসলামে নিষিদ্ধ তা উপর্যুক্ত বর্ণনা থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। অতএব আমাদের এখন এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ একজন মো’মেন, মুসলিম কখনোই ভারসাম্যহীন হতে পারে না। না কম না অতিরিক্ত। কারণ মহান আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, “আমি তোমাদের মধ্যাপন্থী জাতি করেছি যাতে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমণ্ডলীর জন্য এবং রসুল সাক্ষ্যদাতা হোন তোমাদের জন্য (সুরা বাকারা ১৪৩)।”


