বছরের শেষ দিন। কয়েকটা জায়গায় গিয়ে শেষে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে এলাকায় ফিরে মামার চায়ের দোকানে বসলাম। তো মামা জানেন আমি কীরকম চা বা কফি খাই। তো কফি দিলেন হাতে। মোবাইলে মেসেজ চেক করছি আর কফি খাচ্ছি এ সময়ে এক ছোট ভাই এসে সালাম দিল। বসতে বললাম।
- কিরে, তোর চেহারা এ অবস্থা কেন?- ভাই, এমনি।
- তুই না এবার ভর্তি হবি? ভর্তি হইসিস?
- জ্বী ভাই। হবো। আর্টস নিয়ে পড়ছি তো, এখনও ভেবে দেখিনি কী পড়ব।
- আচ্ছা, তো এখন কী হয়েছে? চেহারার এ হালত কেন?
- ভাই ঐ পাড়ার সুমনাকে ভালো লাগত। তো কয়েকদিন কথা বলেছি। কিন্তু কেমন জানি করে।
- মানে কী? কেমন করে?
- না, মেয়ে সাহিত্যপ্রেমী টাইপের। দুইদিন পরপর একটা বই পড়ে আর কেমন জানি করে।
- মানে?
- ধরেন, প্রথম প্রথম যখন কথা হতো তখন কী সুন্দর কথা বলত। একদম যেন মিষ্টি গুড়। আমাকে বলত ও পারো হবে। আমাকে আগলে রাখবে। আমি তো ধরেন পুরাই খুশ।
- বুঝছি শরৎচন্দ্র পড়েছে। এরপর?
- এরপর কী একটা পড়া শুরু করল এখন দেখি কাট কাট কথা কয়। পরে শুনলাম সে দীপাবলি হবে। প্রেম-ভালোবাসা এগুলো তার জন্য না। কন তো কেমন লাগে? আমি তো পুরা দেবদাস হয়ে যাচ্ছিলাম আরেকটু হলে।
- তুই ও শরৎ পড়েছিস নাকি?
- হো ভাই। ওরে বুঝতে সে বই পুরাটা পড়তে হয়। কন তো কেমন ফাপর!
- আচ্ছা সমরেশ মজুমদারে বই ধরেছে। দীপাবলি সাতকাহনের ক্যারেক্টার। পড়েছিস তো? মোটকা সাইজের দুইটা খণ্ড। এখন কী অবস্থা?
- এখন মাঝে মাঝে কেমন যেন কথা বলে। নিকনেম চেঞ্জ করে ‘আশালতা’ করেছে।
- কস কী?
- হো ভাই।
- শোন, বিনোদিনীতে রূপান্তরিত হওয়ার আগে কেটে পড়। নয়তো অনুপম হয়ে অপরিচিতা খুঁজতে হবে।
- অ্যা?
- হ্যা, নয়তো সমরেশের জয়িতা কিন্তু আরো ডেঞ্জারাস। জয়িতা হয়ে গেলে কিন্তু গুলি করে দিতে পারে। তাই আগেই বলছি সাধু সাবধান।
#mustafiz_shihab #শিবুর_অনুগল্প