শনিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৮

কে সে?

ভাইটি আমার যাচ্ছো কোথায় বলতো দেখি?
ভিত্তি করে মিষ্টি হাসি, হয়েছেটা কী?
ভাবছি আমি তাহার কথা হাসছি আমি তাই।
প্রশ্ন করি জবাবটি দাও নামটা শোনা চাই।
মনের মাঝের গল্পে তোমার কে?
দুই নয়নের রানী আমার সে।
দুই কানেতে সুধা ঢালে কে?
মনের খাতায় আঁকা আছে যে।
ভেঙে যাওয়া মিষ্টি স্বপন কে?
চোখ বুঝলেই মনে আসে সে।
রাতের আকাশে পূর্ণ চন্দ্র কে?
হৃদয়ে আমার বসত করে যে।
ছন্নছাড়া ডাকবে তোমায় কে?
অন্তরে যার নামটি বাজে সে।
স্বর্গের সেই অপ্সরাটি কে?
নাম কবো না, ভালোবাসা যে।
তোমার ঠোঁটের মিষ্টি হাসি কে?
মানুষরূপী একটি পরী সে।
তোমার কথা জানে তো সব সে?
পাগল আমি, ভালোবাসবে কে?
ভাইটি আমার মিছে মিছে পাগল হলে নাকি?
সত্যি করে বলতো তুমি, মিথ্যে নাকি ফাঁকি?
নামটি তাহার আমায় তুমি বলে যাওনা ভাই
নাম যে তাহার শুভ্র সাদা, কোথায় খুঁজে পাই?

বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮

ঘুম আসে না

রাত দুপুরে ঘুম আমার চলিয়া কই গেল সই?
মন হয়ে যায় উতলা আমার, তোমার কথা ভাবি সই!
.
পড়াতে মন বসে না
কাজে তে টালবাহানা
ধীর এই মনটা আমার
এমন কেন করে সই?
.
রাস্তায়় দেখি সখা-সখী
বিলে দেখি চখা-চখী
প্রেম সাগরে ডুবা-ডুবী
প্রেম যাতনায় ভুগী সই।
.
তোমার ঐ মধুর হাসি
গলায় যেন পড়লো ফাঁসি
মন কয়েদী জেলের ভিতর
যামিন কবে পাবো সই?
.
একবার না হয় কাছেই এলে
ভালোবাসা একটু দিলে
মন ভ্রমরের প্রাণ ফিরালে
মনের জ্বালা মিটলো সই!
.
আর কতকাল দূরে রই?
তোমার কথা ভাবি সই!

শিক্ষা-সিস্টেম

আজিকার সমাজে শিক্ষা যে সু নয়
ছোট থেকে হর-রোজ
ভুল কথা শেখা হয়।
লেখা পড়া করে যে গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে
স্বার্থপরের কাজ
কভু নাকো ভুলে সে।
ছোট থেকে শুরু হলো এই কথা শিক্ষা
মেনে চলে হরদম
মানে এই দীক্ষা।
একটু বড় হয়
স্কুলে পাড়ি দেয়
শুরু হয় অনশন
মা বাবার টেনশন।
পাশের অঙ্ক নিয়ে চিন্তিত বাবা মা
শিক্ষক মহাশয় তোয়াজে করে ক্ষমা
উপায় বাতলায় সোজা কাজ বলে সে
পড়তে হবে যে প্রাইভেট তার কাছে।

বাবা মা টেনশন
হবে কি যে উপশম
দিয়ে দিবে নাকি আজি
প্রাইভেট টিউশন?
নিমরাজী বাবা মা
শিক্ষক মহাশয়
টিউশনে ছেলের
পড়াশুনা কমই হয়।
সাজেশনে পাশ করে
খাতায় হয় জালিয়াত
শিক্ষক মহাশয় আছেন তো
চিন্তা থাক।
স্কুল পাশ করে
শিক্ষকের গুণেতে
হল কিনা, বোর্ড ধরা
নিত্য কার্য সে।
ভুরি ভুরি গোল্ডেন
জিপিএ তে পাঁচ পাঁচ
ভিতরে নেই চার আনা
ষোল আনা বৃথা তার।
এবার নিউ টেনশন
ভার্সিটি কি হবে?
নেই কি গো ডোনেশন?
ম্যানুপুলেটর খোঁজে।
চিন্তাতে চুল শেষ মাথায় পড়ে যে টাক
বাবা মা ভেবে সাড়া কি করলাম আজতাক?
ছেলে ভাবে সারাজীবন চলেছি যে স্বার্থে
টাকার বস্তা কই? টাকাই যে পারবে।
ডোনেশন, মামা চাচা দিয়ে পার হয়ে যায়
শপথ করে সে এই টাকা তোলা চাই!
জীবনের প্রতিক্ষণে এই কথা ঘোরে যে
টাকা সব আদায় করে তবেই থামবে সে।
ডাক্তার সেজে যায়
প্রকৌষলী হয় সে
সব টাকা তুলে নিয়ে
তবেই থামবে সে।
ডাক্তার পিশাচ হয়
প্রকৌষলী ঘুষখোর
স্বার্থের জয় হয়
রসাতলে দেশ মোর।
চলবে কতদিন সিস্টেম এহেন ভাই?
যেখানে স্বার্থ সব
সত্যের দাম নাই।
সিস্টেমে পরে দেশ মোর হলো রসাতল
বলি চলুন পাল্টাই সিস্টেম এই ক্ষণ।
ন্যায় হবে, জ্ঞান দিবে শিক্ষক মহাশয়
শিক্ষক হবেন না স্বার্থপর, ব্যবসায়ী।
সমাজে থাকবে না স্বার্থপর কেউ যে
অপরের জন্য কাটাবে জীবন সে।
আসুন তবে আজ ঐক্য করি সবাই
ভাঙবো এই সিস্টেম
আনবো নতুন ঠাঁই।
গোলামীর শৃঙ্খল ভেঙে দিবো আজকে
নতুন ব্যবস্থায় বাঁধবো সমাজকে।
যেথা হবে ন্যায় সব, সাম্য ও শান্তি
মিলিবে তবেই সুখ, সারা পৃথিবীব্যাপি।

বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

জীবন থাকতে মৃত

খুব বেশিদিন আগের কথা না। তখন আমি মিরপুর থাকতাম। আমার বাসার পাশেই একজন ভদ্রলোক থাকতেন। এলাকায় তার খুব নাম-যশ ছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী মানুষ। পড়াশুনা করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। এর সুবাদে খুব নামী-দামী একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন। আমার তখন অভ্যাস ছিল সকালে উঠে একটু হাটাহাটি করার। তো আমি খুব ভোরে উঠে যখন প্রাত ভ্রমণে বের হতাম তখন দেখতাম সেই ভদ্রলোক অফিসে যাচ্ছেন। তিনি ছিলেন বিবাহিত তাই আমি তাকে আঙ্কেল বলে সম্বোধন করতাম। তিনি নিয়মিত একটি মোটর-সাইকেলে যাতায়াত করতেন। আবার বিকেলে যখন আমি খেলাধুলা শেষ করে বাসায় ফিরে আসতাম তখন দেখতাম তিনি ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরছেন। এরপর তাকে আমি আর বাসার বাইরে খুব একটা দেখতাম না। তিনিও এর পরের সময়টি বাসায় থাকতে পছন্দ করতেন। খুব জরুরি না হলে বের হতেন না। এমনকি এলাকায় কোনো গোলমাল হলেও তিনি সে ব্যাপারে কোন কিছু বলতেন না। এগুলো এড়িয়ে চলতেন। এভাবেই তার দিন কেটে যেত। আমার মনে মাঝে মধ্যে প্রশ্ন জাগত, এটাই কী একজন মানুষের জীবন?
.
একটি পশুর জীবনের দিকে যদি আমরা দৃষ্টিপাত করি তবে আমরা এ দৃশ্যই দেখি। একটি পশু জন্ম নেয়। জন্মের পর পরই তাকে শেখানো হয় কীভাবে শিকার করতে হয়। পশু জগতে শিকারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি কারণ সেখানে টিকে থাকতে হলে শিকারে দক্ষতা অর্জন অনিবার্য। এরপর দেখা যায় পশু বড় হয়, পশু পরিণত বয়সে বংশ বৃদ্ধি করে ও একসময়ে পশুটি মারা যায়। মাটির সাথে মিশে যায়। তাহলে পশু ও আমার চেনা সেই ভদ্রলোকের জীবনের মধ্যে তফাৎ কী দাঁড়ালো?
.
আল্লাহ পবিত্র কোর’আনের সুরা বাকারায় মানুষের সৃষ্টির কালে আল্লাহর সাথে মালায়েকদের যে কথোপকথন হয় সে বিবরণ তুলে ধরেছেন। সেখানে আল্লাহ যখন মালায়েকদেরকে বললেন তিনি পৃথিবীতে তাঁর খলিফা প্রেরণ করবেন তখন মালায়েকরা বলেছিল যে এ সৃষ্টি ফ্যাসাদ ও সাফাকুদ্দিমা অর্থাৎ অন্যায়-অশান্তি ও রক্তপাত করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদের কথা সত্ত্বেও আদম (আ) কে তৈরি করলেন। এরপর তিনি তাঁকে বিজ্ঞানের শিক্ষা দিলেন ও মালায়েকদের সামনে যখন তিনি প্রমাণ করলেন যে আদম (আ) তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তখন তিনি মালায়েকদের বললেন তাঁকে সেজদাহ করার জন্য। সবাই করলো কিন্তু ইবলিস করলো না। ইবলিস অহংকার করলো ও এর জন্য সে আল্লাহর নৈকট্য থেকে বিতাড়িত হল। এই কারণে ইবলিস আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করল যে সে আদম (আ.) ও তাঁর বংশধরদের অর্থাৎ আমাদেরকে সহজ সরল পথ থেকে বিচ্যুতি করবে। সেই থেকে চলে আসছে মানুষ ও ইবলিসের দ্বন্দ। আমাদের মূল কাজই হল আল্লাহকে এ চ্যালেঞ্জে জয়যুক্ত করা।
.
আজকে গোটা মানবজাতি সেই ফাসাদ ও সাফাকুদ্দিমায় পতিত, অন্যায় অশান্তি রক্তপাতে নিমজ্জিত হয়ে ইবলিসকে বিজয়ী করে রেখেছে। বর্তমান সিস্টেমের চাপে পড়ে মানুষ তার প্রকৃত লক্ষ্য উদ্দেশ্য ভুলে গিয়েছে। তারা সকলেই পাশ্চাত্য বস্তুতান্ত্রিকতায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ে একটি যান্ত্রিক জীবনে প্রবেশ করেছে। তারা এখন চাইলেও কিছু করতে পারছে না। তাদের মেধা-চিন্তা-চেতনা এখন আর মানবতার কল্যাণে ব্যায় হচ্ছে না। তাদের সামনে যাই হোক না কেন, সমাজের ভালো বা মন্দ তারা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করে না। তারা অনেকটা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে নিজেদের জীবন ধারণ করে।
এই লোকগুলোই জীবন থাকা সত্ত্বেও মৃত কারণ তারা তাদের এ জীবনে কাজে লাগাচ্ছে না। আল্লাহর মানুষকে যে কাজের জন্য তৈরি করেছে সে কাজটি তারা করছে না। তারা ভুলে গিয়েছে যে তারা পশু নয়, মানুষ। তাদের মধ্যে আল্লাহর রূহ রয়েছে।
তবে তাদের মধ্যেই অনেক লোক রয়েছে যারা তাদের মধ্যকার মেধা, শ্রম, প্রজ্ঞাকে মানবতার কল্যাণে লাগাতে চায় কিন্তু তারা বর্তমানের এই ব্যবস্থার জন্য পারছে না। ধরুন একটি হাঙর মাছের বাচ্চা, যে স্বপ্ন দেখে সে একদিন তার ধারালো দাঁতের প্রয়োগে পুরো সমুদ্রের রাজত্ব করবে তবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু সে সেই স্বপ্ন দেখছে একটি অ্যাকুরিয়ামের মধ্যে থেকে। সেই চাইলেও তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে না কারণ সিস্টেম তাকে স্বপ্ন পূরণ করার কোন সুযোগ দিবে না। যদি সে তার স্বপ্ন পূরণ করতেই চায় তবে তাকে অ্যাকুরিয়াম নামক জীবন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে সাগরে যেতে হবে।
.
তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে এ জীবনব্যবস্থাকে পরিত্যাগ করি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করলেই এই জীবনব্যবস্থাকে আমরা পরিত্যাগ করতে পারব। এ সভ্যতা পঁচে গেছে। মানবজাতিকে ধ্বংসের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এখন যদি একে পরিত্যাগ করে নতুন জীবনব্যবস্থাকে ধারণ না করা হয় তবে তা হবে মস্ত বড় বোকামী। তাই এখন আমাদের একমত হতে হবে যে নতুন একটি সভ্যতার নির্মাণ প্রয়োজন। তাই আসুন ঐক্যবদ্ধ হই। আসুন আল্লাহ প্রেরিত ন্যায় ও সাম্যের জীবনব্যবস্থাকে গ্রহণ করি। অন্যথায় আমাদের মধ্যকার মনুষ্যত্বকে আমরা প্রকাশ করেতে ব্যর্থ হবো। আমরা যে কারণে এ পৃথিবীতে এসেছি সেই কাজে ব্যর্থ হবো। এখনই সময় এ স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার। আমাদের ধমনীতে রক্ত তো বইবে, আমাদের হৃদপিণ্ড প্রতিনিয়ত আন্দোলিত হবে কিন্তু আমরা প্রত্যেইকেই এক একটি জীবন্ত লাশে পরিণত হবো।
.
লেখক: সহকারী সাহিত্য সম্পাদক, দৈনিক বজ্রশক্তি।

রবিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮

জীবকোষ ও মানবসমাজ


সমাজের মধ্যে অনৈক্য, অন্যায়, অবিচার, রক্তপাত ইত্যাদি যখন চরম আকারে বৃদ্ধি পায় তখন সমাজ ধ্বংসের প্রহর গুনতে থাকে। বর্তমান বিশ্ব সেইরকমই এক ধ্বংসযজ্ঞের প্রহর গুনছে। সমাজে বসবাসকৃত প্রতিটি মানুষ যারা ঐ সমাজেরই অংশ তারাও এই ধ্বংসের হাত থেকে রেহাই পাবে না। কিন্তু বর্তমানে সমাজের দিকে তাকালে দেখা যায় মানুষের মধ্যে এই সংকট নিয়ে কোন চিন্তুাই নেই। তারা এখনও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে রয়েছে এবং স্বার্থপরের মতো নিজেদের আখের গুছানো নিয়ে ব্যস্ত। আমাদের দেশের মানুষগুলিও নিজেদের দেশ ও জাতির কথা ভুলে স্বার্থপরের ন্যায় আচরণ করছে। ধর্মের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক কারণে নিজেদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি করছে। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের জন্য এখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যান্ত জরুরী। আসন্ন সংকট থেকে মুক্তির জন্য ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

এই বিষয়ে কোষ ও মানবদেহের উদাহারণ দেয়া যায়। কোষকে জীবদেহের একক বলা হয় অর্থাৎ প্রত্যেক জীবদেহ কোষ দিয়ে গঠিত। মানবসভ্যতার সাথে মানবদেহের কোষের মিল চমৎকার।
আমরা জানি শুক্রাণু এবং ডিম্বানুর মিলনের ফলে সর্বপ্রথম জাইগোট নামের কোষ উৎপন্ন হয়। পরবর্তিতে এই জাইগোট বিভাজিত হয়ে হয়ে একটি ছোট শিশুর দেহ ধারণ করে। মানব সভ্যাতর সূচনা হয়েছে এক আদম ও এক হাওয়া থেকে। পরবর্তিতে এই মানব সভ্যতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি মানবদেহের একাধিক কোষ মিলে গঠিত হয়ে কোষগুচ্ছ বা টিস্যু। একাধিক টিস্যু মিলে একটি অঙ্গ (Organ) গঠন করে।

মানবদেহের প্রতিটি কোষের কাজ, আকার ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন। কোন কোষ দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়, কোন কোষ জননে সহায়তা করে, কোন কোষ খাদ্য ও শক্তি জমা রাখে, কোন কোষ প্রতিরক্ষা স্তরকে সাহায্য করে ইত্যাদি আরও অনেক কাজ কোষ করে থাকে। এই কোষগুলির মতো মানবসমাজের প্রতিটি মানুষ আলাদা আলাদা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। কেউ কৃষক, কেউ শ্রমিক, কেউবা ডাক্তার। আবার প্রত্যেকের ধর্মও আলাদা আলাদা, কেউ হিন্দু, কেউ বৌদ্ধ, কেউ বা মুসলিম। কিন্তু কোষগুলির কাজ ও ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের সবার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটিই। আর তা হলো দেহকে সুরক্ষিত রাখা এবং দেহেকে সচল ও জীবিত রাখা এবং জীবের সামগ্রিক উন্নতি সাধন। এই কাজের জন্য কোষগুলি সর্বদা তৎপর থাকে। এই কাজ করার জন্য অনেক সময় কোষগুলি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করে, কখনওবা অন্য কোষকে ভক্ষণ করে অথবা ধ্বংস করে দেয়, অনেক সময় শক্তি ও তাপের তারতম্য ঘটিয়ে অর্থাৎ যে সকল কোষের শক্তি ও তাপ বেশি দরকার তাদের শক্তি ও তাপ দিয়ে অন্য কোষ কম শক্তি ও তাপ নিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখে। তারা এই সকল কাজই করে একটি জীবের সামগ্রিক উন্নতির জন্য।
একবার ভেবে দেখুন তো, যদি এই কোষগুলি পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে বসবাস না করে শুধু নিজেদের নিয়ে চিন্তা করতো? অন্য কোষকে সহায়তা না করে, তাদের সাথে একযোগে কাজ না করে যদি শুধু নিজের চিন্তায় চিন্তিত হতো তবে কি আপনার দেহ টিকতে পারতো? পারতো না! তখন আপনার আমার এবং সমস্ত জীবের ধ্বংস হতো সুনিশ্চিত।

কিন্তু আমরা সবাই কোষের মতো ভিন্ন ভিন্ন কাজ করলেও আমরা কোষের মতো ঐক্যবদ্ধ ও নিঃস্বার্থ নই বরং আমরা স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিকতাকে গ্রহণ করেছি। আমরা আমাদের জাতি ও দেশকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমরা শুধু আমাদের ফায়দা দেখছি এবং দেশ ও জাতির জন্য কোন চিন্তাই করছি না। কোষের মতো আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও একটিই হওয়া উচিত আর তা হচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির উন্নতি সাধন। জাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা।

আমরা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে রয়েছি, আমরা ধর্মের ভিত্তিতে, ফেরকা মাজহাব ইত্যাদির কারণে একই দেশের, একই জাতির অংশ হয়েও একজন আরেকজনের সাথে বিবাদ সংঘাত করেই চলেছি। এতে কোন লাভ তো হচ্ছেই না বরং আমাদের দেশ ও জাতির ক্ষতি হচ্ছে। আমরা স্বার্থপরের মতো ভাবছি আমাদের পকেট গরম হচ্ছে, সাময়িক সুখ মিলছে কিন্তু আমরা ভুলে যাচ্ছি যে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব না থাকলে আমাদের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। জীবদেহের কোষ এই কথা জানে তাই সে সবকিছুর চিন্তা বাদ দিয়ে সবার আগে জীবদেহের উন্নতি সাধনে নিজেকে নিয়োজিত করে।

আমাদেরও এখন কোষের ন্যায় হতে হবে। নিজের নিজের স্বার্থকে না দেখে সবার আগে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে হবে। ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমানের সংকটময় পরিস্থিতি এবং আসন্ন সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধার করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা সবাই এই মাটির সন্তান। এই বাংলা মায়ের কোল যতদিন থাকবে ততদিন আমরা সুরক্ষিত। এই বাংলাকে রক্ষার জন্য এখন যদি ঐক্যবদ্ধ না হই তবে সব শেষ হয়ে যাবে। এই জাতি একটি দেহের ন্যায় এবং আপনি আমি আমরা সবাই সেই দেহের একেকটি কোষ। তাই আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে জাতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে ও আসন্ন সংকট থেকে মুক্ত করতে। মনে রাখবেন, আপনি এই জাতির ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ যতটা দেহের জন্য কোষ।

[লেখক: সহকারী সাহিত্য সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ]

সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮

কেন এ সংগ্রাম?

Image may contain: 2 peopleআল্লাহর রসুল এমন একটি সময়ে পৃথিবীতে আসলেন যখন আরবের অবস্থা ছিল চরম অস্থিতিশীল। চারদিকে অন্যায়, অশান্তি, রক্তপাত, যুদ্ধ বিগ্রহ। দারিদ্র্য ও গোলামীর বেড়াজালে বন্দী ছিল সমাজ। নারীদের কোন সম্মান ছিল না। যুগের নীতি ছিল ‘Might is Right’ – ‘জোর যার মুল্লুক তার’। ইব্রাহীম (আ.) এর রেখে যাওয়া দীনে হানিফের বিকৃতির ফলে সমাজে ধর্ম ছিল শুধু উপাসনার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সমাজ চলত গোত্রপতিদের কথা মতো। এ সময়ে আল্লাহর রসুলের আগমন ঘটে এবং তিনি এসে এ জাহেলিয়াত থেকে সমাজকে উদ্ধার করেন।
বর্তমান দুনিয়াটাও আবারও জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত। একদিকে যান্ত্রিক প্রগতি অন্যদিকে মানবতার চরম বিপর্যয়, অন্যায় অশান্তি নিরাপত্তহীন, রক্তপাতে রঞ্জিত পৃথিবী। ন্যায় অন্যায় মিলে মিশে একাকার। পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকির সামনে ন্যায় কথা বলার সাহস সকলেই হারিয়ে বসে আছে।
.
কালের এমনই একটি অন্ধকারময় পর্বে সত্যের আলোকবর্তিকা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন শেষ নবী। তিনি সেই অন্ধকারকে দূর করেছিলেন কী দিয়ে? সেটা হচ্ছে একটি কথা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ যার ভাবার্থ হচ্ছে, জীবনের সর্ব অঙ্গনে আল্লাহর দেওয়া মানদ-কে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসাবে গ্রহণ করতে হবে, আল্লাহকে সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ হিসাবে গ্রহণ করে নিতে হবে। সেই আরবরা যখন এই কথাটির মধ্যে একমত হলো, তখন আল্লাহর রসুল আল্লাহর বিধি-বিধানগুলো তাদের জীবনের বাস্তব অঙ্গনে প্রয়োগ করতে লাগলেন। যার পরিণতিতে অশান্তির মেঘ কেটে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলো। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পেল।
.
আজ সেই ইসলামকে বলা হচ্ছে সন্ত্রাসীর ধর্ম। বলা হচ্ছে মুসলিমরা জঙ্গি, তারা অন্ধ, অসভ্য। কোনো সভ্য দেশে থাকার যোগ্যতা আমাদের নেই। আমাদের একটার পর একটা দেশ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। ইরাক, সিরিয়ার মতো সমৃদ্ধ জনপদ আজকে ধ্বংসস্তূপ। যে লিবিয়া ছিল আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্র, দাতাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সেই লিবিয়ার মানুষ চরম অরাজকতার মধ্যে এবং অপরের দানের আশায় বসে আছে। সাগরে সাগরে অনাহারী মুসলমানরা ভেসে বেড়াচ্ছে একটু আশ্রয়ের আশায়। কেবল নারীরা নয়, পুরুষরাও ইউরোপে গিয়ে দেহব্যবসায় লিপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের কীভাবে দেশ থেকে বিতাড়ন করা হলো, হত্যাযজ্ঞ চালানো হলে সে কথা সকলেরই জানা।
.
আমাদের দেশের নব্বই ভাগ জনগোষ্ঠী ধর্মপরিচয়ে মুসলিম। তাদের এই ধর্মবিশ্বাসকে হাইজ্যাক করে নানা গোষ্ঠী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থোদ্ধার করছে, জাতিবিনাশী কর্মকা- ঘটাচ্ছে। এর ফলে আমাদের সমাজে ধর্মব্যবসা, ধর্মের নামে অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদ ইত্যাদি হাজারো সমস্যা আগ্রাসী রূপ লাভ করেছে। আমরাও পরিণত হয়েছি পরাশক্তিধর সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর টার্গেটে। আমাদের অবস্থাও মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকার ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশগুলোর মতো হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাদের মোকাবেলা করার মতো কোনো শক্তিই আমাদের নেই। এমন কি আমাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ইরাক সিরিয়া লিবিয়ার থেকে আরো বেশি নাজুক।
.
তাই আমরা হেযবুত তওহীদ আন্দোলন বাংলার মানুষদের সচেতন করছি। আমরা বলছি, পারমাণবিক শক্তির চেয়ে বড় শক্তি ঐক্যের শক্তি। আর মহান আল্লাহ বলেছেন, মোমেনদের সঙ্গে তিনি অভিভাবক ও রক্ষাকারী হিসাবে থাকেন। আমাদেরকে রক্ষা পেতে হলে মহান আল্লাহর সাহায্য লাগবে। আমাদেরকে সর্বপ্রথম ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তিতে। মুসলিমরা সকলেই মুখে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে থাকেন। কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে তারা হাজারো ফেরকা মাজহাবে বিভক্ত। এখন ঐ সব বিভক্তি ভুলে যে কথাটি সবার বিশ্বাস সেই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-কে ঐক্যসূত্র হিসাবে গ্রহণ করতে হবে। এই কথাটির তাৎপর্য পূর্বেও বলেছি- সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ হচ্ছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দাবি। এইখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এক জাতি হতে পারে কারণ মানুষ মাত্রই ন্যায়কে ন্যায় বলবে, অন্যায়কে অন্যায় বলবে এমন মানদ-ে আসার জন্য তাদের যার যার ধর্ম ও বিশ্বাস দ্বারা দায়বদ্ধ। আমরা জানি যে মাটি না থাকলে কিছুই থাকবে না, ধর্ম থাকবে না, জীবনও থাকবে না। সুতরাং যে যে বিশ্বাসই ধারণ করি না ন্যায়ের পক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এখন সবাইকে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা মুসলিম বলে নিজেদেরকে দাবি করেন তাদের এখন সবচেয়ে বড় এবাদতই হচ্ছে দেশের এই সংকটকালে, মানবজাতির এই সংকটকালে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসা। কেননা মুসলিমদেরকে সৃষ্টিই করা হয়েছে জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য, বসে বসে পরিস্থিতিকে মাথা পেতে গ্রহণ করার জন্য নয়। আমরা হেযবুত তওহীদ এই সত্যটিই ষোলো কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রাণান্তকর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কোনো আর্থিক বা রাজনৈতিক স্বার্থ নেই, আমরা কেবল দেশটাকে বাঁচাতে চাই, মানুষকে রক্ষা করতে চাই, পৃথিবীতে শান্তি চাই। এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলেই আমাদের জীবন সার্থক হবে এবং আমরা পরকালেও মুক্তি পাবো বলে আমরা বিশ্বাস করি।

[লেখক: সহকারী সাহিত্য সম্পাদক, হেযবুত তওহীদ]

বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৮

এখন সময় ঐক্যের এখন সময় সমৃদ্ধির

২০০৬-২০০৭ এর কথা। তখন বিটিভিতে একটি কার্টুন দেখতাম। কার্টুনটির নাম ছিল ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট। সেখানে পাঁচ বন্ধুর হাতে পাঁচটি আংটি ছিল। তারা এককভাবে শক্তিশালী হলেও যখন বিশেষ কোনো সংকট আসতো যা থেকে নিজেদের শক্তিতে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব হতো না, তখন তারা পাঁচটি আংটিকে একত্র করত এবং তাদের আংটিগুলোর সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে ক্যাপ্টেন প্ল্যানেটের আবির্ভাব ঘটতো। তারপর? তারপর সব সমস্যার সমাধান। একটি সুন্দর সমাপ্তি। এই পাঁচ জনের একজনও যদি না থাকতো বা তাদের আংটি যদি না থাকতো তবে কিন্তু ক্যাপটেন প্লানেটের মতো সুপার পাওয়ারের আবির্ভাব সম্ভব হতো না।
ঐক্যের শক্তি সম্পর্কে সবাই আপ্তবাক্য শুনে থাকলেও কার্যক্ষেত্রে এ বিষয়টিকে তারা সর্বত্র প্রাধান্য দিতে চায় না। স্বার্থচিন্তা ও আত্মকেন্দ্রিকতা তাদের বাধা দেয়। অন্তর্গত অহংকার তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে দেয় না। কিন্তু সমাজে প্রতিটি স্তরে এমনকি প্রাণীজগতেও ঐক্য সব থেকে মূল্যবান। একটি সিংহ একা একটি মোষকে শিকার করার সাহস সচরাচর করে না কিন্তু কয়েকটি সিংহ ঐক্যবদ্ধ হলে তারা খুব সহজেই শিকার লাভ করে। অপরদিকে চিতাবাঘ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না বলে অনেকদিন পর্যন্তও না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। ছোট ছোট শিকারেই নিজেদের উদরপূর্তি করতে হয়।
আমরা যদি বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকাই তবে দেখাবো বর্তমান বিশ্বের সব থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে ইহুদী জাতি। ইহুদী জাতি দীর্ঘ সংগ্রামের পর ঐক্যকে গ্রহণ করেছে। পৃথিবীতে মাত্র দেড় কোটি ইহুদি কিন্তু তাদেও সবার লক্ষ্য এক, উদ্দেশ্য এক। তারা সবই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমগ্র দুনিয়াকে নিজেদের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত করছে। তাদের ঐক্যের শক্তিকে শুধু উপলব্ধিই করেনি ধারণও করেছে। এরই ফলে তারা নিজেদের স্বার্থের বদলে জাতির স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। ইহুদি জাতি আজ যে ঈর্ষান্বিত পর্যায়ে যেতে পেরেছে তার মূল কারণই হল তাদের ঐক্য।
আসুন এখন মুসলিম জাতির দিকে একটু দৃষ্টি নিক্ষেপ করি। একশত ষাট কোটির এক বৃহৎ জাতি বর্তমানের মুসলিমরা। মুসলিমদের আলাদা আলাদা ৫৭ টি রাষ্ট্র রয়েছে। কিন্তু তাদের অবস্থা কী রূপ? তারা অন্যান্য সকল জাতির কাছে মার খাচ্ছে। তাদের গোলাম হয়ে রয়েছে। এমনকি নিজেরা নিজেরাও দ্বন্দ সংঘাতে লিপ্ত। ইরাক ইরানের সাথে, সৌদি ইয়েমেনের সাথে গোলযোগে লিপ্ত। তারা তাদের স্বার্থচিন্তা ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে ঐক্যকে নিতে পারছে না। ইহুদিদের দেখছে কিন্তু তাদের থেকে শিখতে পারছে না। তারা নিজেদের মধ্যকার অনৈক্যেও জন্য সবচেয়ে নিকৃষ্টতর জাতিতে পরিণত হয়েছে। দেড় কোটি ইহুদিরা ঐক্যের বন্ধনের আবদ্ধ হয়ে একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নিজেদের সব থেকে উপরের অবস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু একশ ষাট কোটির মুসলিম জাতি এখনও নিজেদের স্বার্থ ও অহংকারের জন্য কুকুরের মতো কামড়া কামড়ি করছে।
এখন সময় ঐক্যের, এখন সময় সমৃদ্ধির। ইহুদি জাতি মার খেয়ে, নির্যাতিত হয়ে, দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে এরপর নিজেদের ব্যক্তি অহমিকা, স্বার্থের উপরে জাত্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছে বলেই তারা এখন আবার একটি সম্মানিত ও শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হতে পেরেছে। কিন্তু তারা সত্যের উপর দ-ায়মান হয় নি, তারা দাঁড়িয়েছে শক্তির উপর। শক্তি তো পশুরও থাকে। মানুষ যখন সত্যকে বাদ দিয়ে শক্তিকে আশ্রয় করে তখন তার সাথে পশুর কোনো পার্থক্য থাকে না।
মুসলিমদের উপরও শত শত বছর ধরে আল্লাহর গজব ও লানত অব্যাহত আছে। সে কারণেই আজকে আমাদের এই দুর্দশা। এখন যদি আমরা এই দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে চাই তাহলে আমাদেরকে প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদীর ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেই ঐক্যটি হবে সত্যের ভিত্তিতে, কলেমার ভিত্তিতে। কারণ এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর সকলেই একই কলেমা পাঠ করে থাকে এবং এই কলেমাই হতে পারে তাদের একমাত্র মুক্তির দিশারি। কলেমার তাৎপর্য হচ্ছে এই অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়া যে ‘আমরা সবাই এক আল্লাহর হুকুম ছাড়া আর কারো হুকুম মানবো না’। এই একটি কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারি তবে আমরাও পরিণত হবো এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী জাতিতে। আমরাই হবো সুপার পাওয়ার। আমাদের সাথে কেউ অন্যায় করা দূরে থাক, চোখ তুলে তাকানোরও সাহস পাবে না।

বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৮

জাতি আজ গোলাম কীভাবে?

মহান আল্লাহ যখন আদমকে (আ.) সৃষ্টি করলেন তখন তিনি মালায়েকদের আদেশ দিয়েছিলেন আদমকে (আ.) সেজদাহ করার জন্য। সবাই সেজদাহ করলেও ইবলিস সেজদাহ করে নি। এর ফলে ইবলিসের সাথে আল্লাহর চ্যালেঞ্জ হয় যে ইবলিস আদমকে (আ.) অর্থাৎ মানুষকে আল্লাহর দেয়া সহজ সরল পথ থেকে বিচ্যুত করবে। আল্লাহর ইবলিসের এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন ও তাকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে পৃথিবীতে প্রেরণ করলেন। মানুষকে আল্লাহ জান্নাতে থাকার অধিকার দিলেন কিন্তু একটি গাছের নিকট যেতে নিষেধ করলেন। কিন্তু ইবলিসের প্ররোচনায় আদম (আ.) ও মা হাওয়া জান্নাত থেকে বহিষ্কৃত হলেন এবং পৃথিবীতে চলে আসলেন। আল্লাহ তাঁদের পৃথিবীতে প্রেরণের পর শুরু হল ইবলিসের সাথে মানুষের দ্বন্দ্ব। ইবলিস যে চ্যালেঞ্জ করে এসেছিল তাতে জয়ী হবার জন্য প্রস্তুত হল। আল্লাহ সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে তিনি যুগে যুগে নবী-রসুল প্রেরণের মাধ্যমে মানুষকে সহজ সরল পথের সন্ধান দিবেন। এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে কোর’আনের বিভিন্ন সুরায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ইবলিস তার কাজ করে চললো ও কাবিলের মাধ্যমে হাবিলকে হত্যা করে সর্বপ্রথম অনৈক্যের বীজ বপন করল। পরবর্তীতে মানবজাতি বৃদ্ধি পেয়েছে ও আল্লাহ যুগে যুগে তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাদী বা পথপ্রদর্শক প্রেরণ করেছেন। মানবজাতির মধ্যে অনেকেই এ নবী-রসুলকে গ্রহণ করে সহজ সরল পথে নিজেদের সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্রকে পরিচালনা করেছেন আবার অনেকেই তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে। আল্লাহ প্রতিবার সকল নবী রসুলকে একটি মূল মন্ত্র দিয়েই প্রেরণ করেছেন এবং সেটি হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’- আল্লাহ ছাড়া আর কোন হুকুমদাতা মানি না। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হিসেবে গ্রহণ করে সহজ সরল পথে নিজেদের জীবনকে পরিচালনা করেছে। কিছুদিন যেতেই তারা আবার ইবলিসের প্ররোচনায় ধর্মের শিক্ষাকে বিকৃত করে পথভ্রষ্ট হয়েছে, ফলে আবার আল্লাহ তাদেরকে পথপ্রদর্শনের জন্য নতুন নবী প্রেরণ করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মানবজাতি যখন সমগ্র মানবজাতি জাহেলিয়াতের অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল তখন আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদকে (স.) প্রেরণ করলেন। তারা তাদের পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষাকে ভুলে গিয়ে, ত্যাগ করে, বিকৃত করে ব্যবহার করে সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্র থেকে আল্লাহর হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেরা সে আসনে বসেছিল। তারা নবীদের শিক্ষা ন্যায়, সাম্য, শান্তিকে বাদ দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছিল নিজেদের ইচ্ছে মতো শাসন অর্থাৎ ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি। সে সময়ে আল্লাহর রসুল নবুয়্যত লাভ করলেন ও সর্বপ্রথম মানুষদের ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে হুকুমদাতা মানি না’ এ কথার উপর ঐক্যবদ্ধ করা শুরু করলেন। এর ফলে তখনকার আলেম সমাজ অর্থাৎ আবু জাহেল, উৎবা, শায়েবা আল্লাহর রসুলের বিরোধিতা শুরু করলো। আল্লাহর রসুলের প্রচেষ্টায় আরব উপদ্বীপ ইসলামের সুশীতল ছায়ার অধীনে আসলো। আল্লাহর রসুলের ওফাতের পর এই উম্মাহ সর্বাত্মক সংগ্রামের মাধ্যমে আল্লাহর দীনকে প্রতিষ্ঠার জন্য বের হয়ে পড়লেন। তাঁরা সর্বাত্মক সংগ্রামের মাধ্যমে আল্লাহ-রসুলের আদর্শকে অর্ধ দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেন। সেই অর্ধ দুনিয়ায় নেমে এল অর্থনৈতিক প্রাচুর্য্য, ন্যায়-সাম্য- এক কথায় অকল্পনীয় শান্তি। মুসলিমরা সমগ্র দুনিয়ায় শিক্ষকের জাতিতে পরিণত হলো। তাঁরা জ্ঞানে বিজ্ঞানে, প্রযুক্তিতে বিশ্বের অন্যান্য জাতি থেকে অনেকগুণ এগিয়ে গেল।

কিন্তু আকিদা ভুলে যাওয়ার কারণে সত্যদীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ত্যাগ করায় আল্লাহ এ জাতিকে লানত, অভিশাপ দিলেন। এ সময় তাদের সুলতানরা অন্যান্য জাতির রাজা-বাদশাহদের মতো ভোগ-বিলাসে নিমত্ত হল। অন্যদিকে আলেম সমাজ দীনের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করলেন। আল্লাহ তাঁর রসুলের মাধ্যমে দীনের মধ্যে পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর মতো আলাদা পুরোহিত শ্রেণী যাতে না গঠিত হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। দীন নিয়ে যেন চুলচেরা বিশ্লেষণ করা না হয় এজন্য তিনি দীন নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে বারংবার নিষেধ করে গেছেন। একজন সাহাবা তাঁকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি উষ্মাভরে বলেছিলেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী অনেক জাতি তাদের নবীদের এমন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করতো, তারপর এ উত্তরগুলো নিয়ে নানা গবেষণা করে মতভেদ সৃষ্টি করতো এবং এর ফলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমি তোমাদের যতটকু বলেছি তোমরা ততটুকই কর এর বেশি আমাকে প্রশ্ন করো না।” আল্লাহর রসুলের এ হাদীস থেকে তিনটি জিনিস স্পষ্ট, একটি হল দীনের সূক্ষ্মবিচার বিশ্লেষণ করা যাবে না। দ্বিতীয়টি হল, ঐ কাজের পরিণতি জাতির বিভক্তি ও ধ্বংস ও সর্বশেষ হল রসুল যে কাজের আদেশ দিয়েছেন তার থেকে বেশি করা নিষিদ্ধ হয়ে গেল এবং আল্লাহর রসুল যে কাজ করতে নিষেধ করেছেন তা অবশ্যই বর্জনীয় ও হারাম।

কিন্তু আল্লাহর রসুলের এ জাতি তাঁর ওফাতের ৬০-৭০ বছর পর এই কাজটিই শুরু করল। যখন শাসকরা খলিফা থেকে রাজা-বাদশাহতে পরিণত হল তখন দীনে আলাদা পুরোহিত শ্রেণীর উদ্ভব হল। তারা দীনের সকল বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করলেন। তাদের এ অতি বিশ্লেষণের ফলে জাতির মধ্যে শুরু হলো বিভক্তি, বাদানুবাদ, তর্কাতর্কি সৃষ্টি করে জাতিকে ঐক্যহীন করে ফেলল। সহজ সরল দীনকে জটিলতার, দুর্বোধ্যতার চরমে নিয়ে সাধারণ মানুষের বোঝার বাইরে নিয়ে গেল। ভারসাম্যপূর্ণ দীনকে ভারসাম্যহীন সুফীবাদ আমদানী করে উম্মাহর বিস্ফোরণমুখী (Explosive), বহিমুর্খী (Extrovert) চরিত্রকে উল্টিয়ে একেবারে অনঢ় (Static) ও অন্তর্মুখী (Introvert) চরিত্রে পরিবর্তন করে দিয়েছে। এ কাজের ফলেই পৃথিবী সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি সর্ব নিকৃষ্ট জাতিতে পরিণত হয়ে গেল। এর ফলে মোঙ্গলীয় থেকে হালাকু খান এসে মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র বাগদাদকে ধ্বংস করে দিলো। খলিফাকে স্ববংশে নির্মূল করে দিল। পরবর্তীতে মুসলিম সাম্রাজ্যের উপর ইউরোপীয় খ্রিষ্টান জাতিগুলো আক্রমণ চালালো এবং মুসলিম শাসিত সকল অঞ্চলকে নিজেদের করায়ত্ব করে নিল। জাতি সম্পূর্ণভাবে তাদের কাছে পরাজিত হলো এবং পরিণত হলো অন্যান্য জাতির ঘৃণিত ক্রীতদাসে। এখনও তারা দাস হয়েই জীবন কাটিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৮

সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংজ্ঞা

বর্তমানে আমাদের সমাজ অনেক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে রয়েছে। প্রতিদিনের পত্র-পত্রিকায় আমরা এ সকল সমস্যার কথা পড়ি। দুর্নীতি, অপরাজনীতি, ধর্মব্যবসা ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যায় পতিত হয়ে আমাদের সমাজ আজ ধ্বংসের দ্বার গোড়ায়। এর সাথে আরো যুক্ত হয়েছে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা যার ওসিলা ধরে শুধু একটি নির্দিষ্ট সমাজ নয়, সমগ্র দুনিয়া আজ লণ্ডভণ্ড। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান ইত্যাদি মুসলিম দেশগুলোকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের তকমা লগিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। যে সকল সমস্যায় সমাজ জর্জরিত সেসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। আমরা আজকে সন্ত্রাসবাদ শব্দটির আভিধানিক ও ব্যবহারিক অর্থ নিয়ে কথা বলব।
সন্ত্রাস শব্দটি ‘ত্রাস’ থেকে এসেছে। জনমনে ত্রাস সৃষ্টি করে, আতঙ্কের সৃষ্টি করে, ভয়-ভীতির মাধ্যমে মানুষের জান-মালের ক্ষতি করাই মূলত সন্ত্রাস। ইউ. এস কোড অব ফেডারেল রেগুলেশানস সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে, “The unlawful use of force and violence against persons or property to intimidate or coerce a government, the civilian population, or any segment thereof, in furtherance of political or social objectives.” অর্থাৎ “যে কোন রাজনৈতিক বা সামাজিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে সরকার, জনগণ বা কোন গোষ্ঠীর উপর অবৈধভাবে শক্তি প্রয়োগ করা বা তাদের সম্পদের উপর হামলা করে ভীতি সৃষ্টি করা।”
কানাডার আইনে বলা হয়েছে, “জনগণ বা জনগণের কোনো অংশকে ভীতি প্রদর্শনমূলক কোন কর্মকাণ্ড, যা অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসহ (হরতাল, ধর্মঘট ইত্যাদি) সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, যেসব কাজে সহিংসতার কারণে হত্যা বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে, ব্যক্তিজীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় এবং জনগণের জন্য জরুরি সেবা ও সুবিধা ব্যাহত হয়, সে সবই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।”
সংজ্ঞাগুলো থেকে আমরা সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারি। কিন্তু আমাদের দেশের জনগণ এ ব্যাপারে কতটুকু সচেতন? আমাদের দেশের জনগণ এ ব্যাপারে মোটেও সচেতন নয়। আইনের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদ কী সেটা না জানার ফলে যে কেউ যাকে তাকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করছে আর জনগণও বিভ্রান্ত হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত কোন আইন-বিধানের ব্যাপারে তাদের কোন ধারণা নেই। তাদেরকে এখন সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা জানতে হবে। আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, তাহলে তারা বুঝবে যে এই সংজ্ঞার আওতায় যারা পড়বে তারা সবাই হবে সন্ত্রাসী। এ সংজ্ঞায় ইসলাম, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি কোন আলাদা ভাগ নেই। ইসলামের নামে করুক, গণতন্ত্রের নামে করুক, সমাজতন্ত্রের নামে করুক, সন্ত্রাসের সংজ্ঞার সাথে মিললেই তা সন্ত্রাস হবে এবং যেই করুক সে হবে সন্ত্রাসী।
দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে আমাদের সবার কর্তব্য এর উপর গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। আমাদের এ জন্মভূমি আজ পশ্চিামাদের শ্যেন দৃষ্টির শিকার। তারা আমাদের এ প্রিয় জন্মভূমিতে সাম্রাজ্যবাদী ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড ঘটানোর মাধ্যমে আমাদের এ দেশে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা ও অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি গণসচেতনা সৃষ্টি করতে না পারি তবে আমাদের দেশের অবস্থাও ইরাক সিরিয়ার মতই হবে। আমরা যদি আজ সচেতন না হই, আমরা যদি আইন ও ধর্ম সম্পর্ক অজ্ঞ থেকে যাই তবে একদিকে আমাদের ঈমানকে হাইজ্যাক করে জাতি বিনাশী কর্মকাণ্ড ঘটানো হবে ও অপরদিকে আমাদের সামনে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড ঘটলেও আমরা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হব না।
অতএব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এখনই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জনগণকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে নয়তো এ প্রাণের চেয়েও প্রিয় জন্মভূমিকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ধর্মের নামে, আইনের নামে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের সময় এখনই। হেযবুত তওহীদ ছাড়া আর কেউ এই কাজটি করছে না।

সোমবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৮

আমি...

পাগল আমি?
আজব আমি?
ভাবছ আমি অন্যরকম??
আমি তো ভাই একটুখানি
তোমাদের চেয়ে ভিন্নরকম।

বলছি আমি ভিন্ন কথা?
শুনতে লাগে আজব বেশ?
'সত্যি' যদি আজব লাগে-
মিথ্যা চলবেআচ্ছা বেশ!

শুনতে না হয় আজব লাগে
'সত্যি' কি আজব তাই??
এত আজবের মাঝে তুমি-
পাওনা বুঝের একটু ঠাই?

সত্যিই আমি একটু আজব
তবুও বলি সত্য ভাই!
আজব কথা বুঝলে পরে
সত্যে পাবে একটু ঠাই!

আজব ভেবে যাচ্ছো দুরে?
ভুল তুমি কি করছো না?
আজীব কিন্তু জীব তো আমি?
সত্যটা কেন বুঝছো না?

আমি না হয় একটু পাগল
তবুও আমি মিথ্যা না
জানি একটু আজব আমি
তবুও কিন্তু মন্দ না!


আমি পাগল,
আমি আজব,
আমি না হয় ভিন্নরকম!
রাখছি বলে একদিন সব
হবে যে এক অন্যরকম । 

সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...