সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮

বিষের সুর



বালিকা তুমি আমার প্রেমের মর্ম বুঝলে না
তবুও তোমার জন্য আমি হলাম দেওয়ানা।

ক্যানভাসেতে ঢেলে দিলাম মনের সকল রং,
ছবির মাঝে বন্দী হলো তোমার সকল ঢং।
একটা সময় তোমার হাসি তুলত মনে ঝড়,
সেই হাসিতে অন্ধ হত বিশ্ব চরাচর।

ভুলেই গেলাম দিনের পরে আসে কালো রাত
ফুলের সুবাস নিতে হলে কাঁটায় কাটে হাত।
তোমায় আপন করে নিলাম শুনে মনের কথা
কিন্তু তুমি চললে শেষে আমায় করে একা।
.
সুতো কাটা ঘুড়ি যেমন ঊড়ে বহুদূর
ভালোবাসার সেতারে আজ বাজে বিষের সুর।

রূপসী তুমি দূরেই থাকো কাছে এসো না,
চেনা রূপটা লাগছে আমার বড্ড অচেনা।
পুষ্পচোরের হৃদয় থেকে মুক্ত হলে আজ,
মাতো আবার ভিন্ন মোহে নিয়ে নতুন সাজ।

বুধবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৮

প্রাণনাথ

বর্তমানে বিবাহিত নারীদের প্রেম আর্টিফিসিয়াল হয়ে গেছে। এই আর্টিফিসিয়াল যুগেও যদি সত্যিকারের প্রেম হয় তবে স্বামীর প্রতি একজন স্ত্রীর অব্যাক্ত কথাই চেষ্টা করেছি কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য।


কতকাল একা রবো এ সংসারে?
শুধিয়েছি বহুবার শুধু নিজেরে।
বুঝিনি তো স্রষ্টা রেখেছে তোমায়
তোমায় মিলন তরে মন তরপায়।

প্রথম যেদিন প্রাতে হয়েছিল দেখা,
হৃদয়ের আকাশেতে প্রেমের রেখা।
সেতারের তার প্রাণে সুর তুলে যায়;
তাল, লয় ভুলে শুধু তোমাকেই চায়।

শ্রাবণের ধারা আনে কদম বাহার
সখা তুমি চিরদিন শুধুই আমার।

কৃষ্ণ তুমি আমি তোমার রাধা,
দুজনের প্রাণ এক সুতোয় বাঁধা।
শিব হলে তুমি ওগো দূর্গা আমি,
তুমি মোর প্রাণনাথ, আমার স্বামী।

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

পাগলামী

Image result for angry emoji

তোর টেবিলের ল্যাপটপটা বড্ড বেহায়া

কেমন করে রূপ দেখে তোর চক্ষু তুলিয়া!

হিংসায় যেন গা জ্বলে যায়, মাথাটা হয় হট!

তৃষ্ণা কাতর মনটা আমার করে যে ছটফট।

বুধবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

Reality!

Related image

Mind is knocking, saying at night,
Why are you silent? Go and write.
Abandoned all reality, let's paint bright.

Forget the society, close your sight,
Imagine the party in a moonlit night,
But a girl was raped and didn't get her right.

Oh!
Don't think rubbish, never think this thing
Ponder the beauty of cherry-blossom spring
Stop worrying for those human being.

Is that true?
World countries are at daggers drawn?
Are we just seer in this global war?
Won’t a single bomb drop upon us?

Shut up moron!
Now it's your time to enjoy the life.
Why think about bomb and fight?
Seek for coitus and have fun tight.

You win I lost it's all done,
Omit the humanity cheer for fun,
Savagery win in election with love.

মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৮

সময়ের দাবি

দেখো দেখো দেখো
ঐ পূর্ব পানে,
এ যুগের প্রভাকর আকাশ কোনে
উঠেছে এবার নিয়ে প্রভুর আলো,
চিরে দেবে মেঘ সব আঁধার কালো।
মস্তকে জ্বলজ্বল সত্যের তাজ।
.
এসেছে সঙ্গে নিয়ে এক বারতা,
দুর্জয়, দুর্বার, আদর্শিকতা।
অথৈ সাগরে ঠাঁই মিলবে এবার
সুবচার দণ্ডের শোনো ঝঙ্কার।
শান্তি পুনর্বার করবে বিরাজ।
.
কাঁদছে মানবজাতি হাহাকার করে,
ছুটছে লক্ষ্যছাড়া প্রাণের তরে-
কালকূট বিষে গোটা ধরণী অচল ,
সাপেদের বধ করো- ওগো মহাজন। 
পথহারা সারথীরা পথ খুঁজে আজ।
.
জানি তুমি এসেছো অগ্নি হয়ে,
তুলবে ন্যায়ের ঝড় নতুন করে।
সমাজের ব্যাধীতে ইন্দ্রের বাজ, 
পরে এসেছো তুমি যুদ্ধের সাজ। 
হবে ফের ধরণীতে ধর্মের রাজ।
.
স্বপ্ন হবে আজি সত্যি সকল, 
খুশিতে আত্মহারা চক্ষু সজল।
প্রাণহারা জাতি ফের ফিরে পাবে প্রাণ, 
ধন্য করো জীবন পরশে তোমার।
তুমিই চোখের মণি- ওগো মহারাজ।

শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৮

বিষের ব্যাথা

চুপ চুপ শুনো ভাই প্রেমে পড়ে গিয়েছি ললনা রাজি না তাই পথ চেয়ে রয়েছি। পুষ্পচোর বোকারে প্রেম কভু আসে না যুগটা যে পাল্টেছে কেউ ভালোবাসে না। সময়ের দোষ নাই টিপ টিপ বরষে মন বলে তাকে চাই চোখে দেখি সরষে। তার মনে বেশ ভয় কী করে করি জয়? তার সাথে বয়সের গ্যাপটা যে বেশ হয়। ছোট মেয়ে লক্ষ্মী পরিবার খুশি হয়। দাদা আমার প্রেয়সী বয়সে যে ছোট নয়। শেষে তবে এই কথা! সমাজ কী বলবে? কী ভাবো তুমি খোকা, শেক্সপিয়র বোনবে? খোকা শুনে হেসে যায় বলেনা কথা হৃদয় গহীনে তার বিষের ব্যাথা!

শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

শুধুই বন্ধু


সকল হাসির সঙ্গী আমি
রাগ দুঃখ উভয় চিনি
কেনো তবুও বলছো শুনি?
‘শুধুই বন্ধু’ আমার তুমি।

আবদার ওই তোমার যত
মিষ্টি শাসন রঙ্গ শত
কোমল কঠোর চোখ রাঙ্গানী
সব কিছুতেই যুক্ত আমি।

রাত জেগে সব নতুন লেখা
মেসেঞ্জার ও ইমোর পাতা
কাব্যের নামে প্যানপ্যানানী
তবুও ‘শুধুই বন্ধু’ আমি?

তোমায় নিয়ে স্বপ্ন বুনি
মনের খাতায় চিত্র তুলি
তবুও তোমার পুরনো বুলি
‘শুধুই বন্ধু’ আমার তুমি।

জানি না এ কোন মায়াজাল
পাষাণ নিথর অকূল পাথার
জলছাড়া এক মরুর বাগান
পুষ্পচোর যে বড্ড নাদান।

দরকার কি এই ছলনার?
ছিঁড়বে কভু জট বেড়াজাল?
হৃদয়ঘরে তালা দিবো হায়?
'শুধুই বন্ধু' কে হতে চায়?

শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮

মোহ


তোমার খোঁপার গোলাপখানী
তোমার ঠোঁটের রঙ।
রূপসী, তোমার চোখের মণি
তোমার সকল ঢং।

তোমার গালের মিষ্টি আভা
সঙ্গে কাটা দাগ
তারই সাথের ছোট্ট তিলে
শুধুই আমার ভাগ।

তোমার কানের ক্ষুদ্র দুলে
আকাশসম প্রেম
পায়ের সাদা নুপুরজোড়া
চাঁদের টুকরো, হেম।

তোমার চিবুক আমার বুকে
বাড়ায় মনের আশ।
তোমার বুকে ঝড় যে তোলে
আমার তপ্তশ্বাস।

তোমার হাতের নরম পরশ
মরু সাহারাতে
বরফ যেন গলছে আমার
হাতের ছোঁয়ার সাথে।

তোমার মোহে মোহিত আমি
বাহুডোরে নাও
ভালোবাসার আবেশে সখী
আবার ধরা দাও।

সুন্দরী তুমি, হরিণী তুমি
কোজাগরী পূর্ণিমা
হৃদয়ের এই শূণ্য ঘরে
বাজাও আলোর বীণা।

(ছবি- প্রতীকী)

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৮

অন্ধকার

Related image

স্মৃতির পাতা ঘেঁটে যাবো শুধু
গাইবো না বৃথা তোমার গান;
জোছনা কাটাবো একলা বিরহে
একলা সাগরে করিব স্নান।

প্রেম এসেছিল করেছিল ভর
আশা নিয়ে মনে বেঁধেছিল ঘর।
ভাঙ্গলো সে ঘর, সোনার স্বপন
আলেয়ার আলো মিথ্যে শান।

পুষ্পচোর আজ মন্দ কালো, চরিত্রহীন অন্ধকার।
তুমি ভালো পূত পবিত্র, কষ্টই আজ আমার প্রাণ ।

অনলের তেজে জ্বলছে হৃদয়
সতিহারা শিব গাইছে গান,
তাণ্ডব নাচে নাচছে দেখো
নটরাজ এই হৃদয়খান।

রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

অতিরিক্ত কোন কিছুই উত্তম নয়


আমাদের সমাজে বর্তমানে অতি ধার্মিক হওয়ার একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এরা মনে করেন আল্লাহ যা বিধান দিয়েছেন তার থেকেও যদি অধিক করা যায় তবে হয়তো আল্লাহ খুশি হবেন। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। আল্লাহ কখনই বাড়াবড়ি পছন্দ করেন না।
আমাদের সমাজে এক শ্রেণীর আলেম রয়েছেন যারা সত্যিকারের সত্যনিষ্ঠ আলেম নন, ধর্মব্যবসায়ী। তাদের প্ররোচনায় ও প্রভাবে সাধারণ মানুষ বাড়াবাড়ির দিকে ধাবিত হয়। ধর্মব্যবসায়ী আলেমগণ ধর্মকে নিজেদের পেশা হিসেবে ব্যবহার করে এবং এরই প্রেক্ষিতে তাদের হিতে ইচ্ছেমতো মনগড়া ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ প্রদান করে। এর ফলে ধর্মের ভারসাম্য বজায় থাকে না। এক শ্রেণীর ধর্মের প্রতি এতটাই বুঁদ হয়ে যায় যে তারা সমাজ, সংসার ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা করে না। তারা মনে করে এই কর্দমাক্ত, ময়লা আবর্জনাময় দুনিয়া থেকে একবার কোনোভাবে সাবধানে চলে পার করতে পারলেই পরকালে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যাবে। আরেক শ্রেণী ধর্মব্যবসায়ীদের মুখে ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা ও রীতিনীতি শুনে ধর্মের প্রতি বিরূপ ধারণা লাভ করে এবং ধর্মবিমুখী বা কখনো কখনো নাস্তিকে পরিণত হয়। কারণ ধর্মব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যায় তারা ধর্মের যে রূপটি লাভ করে সেটি আসলে কোনো সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না
যেমন ধরুন নারীদের হিজাবের বিষয়টি। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ নারীদের পোশাকের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করেছেন। কিন্তু সেই স্পষ্ট ধারণা সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষই জানে না। ফলে তারা ধর্মব্যবসায়ীদের মনগড়া ফতোয়া অনুযায়ী নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করে রাখে। যারা নিজেদের কালো কাপড়ে বস্তাবন্দী করেন না তারাও মনে মনে নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত হন এবং প্রায়ই তাদের মুখে এই অনুতাপের কথা শোনা যায়। কিন্তু আল্লাহ কখনোই এ ধরনের বোরকা সদৃশ কাপড় নারীদের জন্য চয়ন করেন নি। ইসলাম ফিতরাতের দীন অর্থাৎ প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থা। ইসলাম ভারাসাম্যপূর্ণ দীন। আল্লাহ এই শেষ দীনকে প্রেরণ করেছেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য। তাহলে অবশ্যই সেই মহান ¯্রষ্টা এটা বিবেচনায় রেখেছেন যে সমস্ত পৃথিবীর মানুষের পোশাক, খাদ্যাভ্যাস এক নয়। কারণ তিনি নিজেই এই বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছেন। কোর’আনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন, “হে মানবজাতি, আমি তোমাদের এক নারী ও পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হও (সুরা হুযরাত ১৩)।” এ কারণে মহান আল্লাহ পোশাকের ব্যাপারেও ন্যূনতম একটি বিধান দিয়ে দিয়েছেন যাতে তা সকল পরিস্থিতিতে, পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষের জন্য ধারণ করা সহজ হয়। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, “মো’মেন নারীদের বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। যা সাধারণ প্রকাশমান অঙ্গ তা ছাড়া যাতে তাদের সৌন্দর্য্য প্রকাশ না করে এবং তারা যেন তাদের বক্ষদেশ ঢেকে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, দাসি, যৌনকামনামুক্ত পুরষ ও বালক যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ তাদের ব্যতিত কারো কাছে নিজেদের আভরন প্রকাশ না করে (সুরা নুর ৩১)।” উপরাক্ত আয়াতটিতে স্পষ্ট যে মো’মেন নারীদের পোশাক কীরূপ হবে। স্পষ্ট আল্লাহ প্রকাশমান অঙ্গগুলো খোলা রাখতে বললেন। প্রকাশমান অঙ্গগুলো কোনগুলো? সেগুলো হচ্ছে হাত, মুখমণ্ডল ইত্যাদি। অর্থাৎ এক কথায় যদি বলি স্বাভাবিক পোশাক পড়বে যাতে করে তাদের দৈহিক বিশেষ সৌন্দর্য্য প্রকাশ না পায়। অনেকেই প্রকাশমান অঙ্গে মুখমণ্ডলকে ফেলতে চান না, তাদের মন্তব্য হচ্ছে মুখমণ্ডলও ঢাকতে হবে। কিন্তু মুখমণ্ডল প্রকাশের ব্যাপারটিও আল্লাহ অপর একটি জায়গায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ ও মো’মেন নারীদের বলুন তারা যাদের চাদর কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু (সুরা আহযাব ৫৯)।” এখানে স্পষ্ট আল্লাহ বলছেন তাদের চেনা সহজ হবে। অর্থাৎ মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে নয়তো তাদের চেনার প্রসঙ্গ এখানে আসতো না। মুখমণ্ডলই হচ্ছে একজন মানুষকে চেনার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম।
তাহলে এই দুটি আয়াত থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে যে একজন মো’মেন নারীর পোশাক হবে মার্জিত, রুচিশীল, ভদ্র এবং স্বাভাবিক যা পরিধান করে সে যাবতীয় কাজ কর্ম করতে পারবে এবং তাকে চেনাও যাবে। কালো বোরকায় আবৃত করে নারীকে বস্তাবন্দী করার প্রবণতা ইসলামের নেই সেই প্রবণতা রয়েছে ধর্মব্যবসায়ী আলেমদের। আমাদের সমাজের অনেকেই এই আয়াতগুলো জানেন না। আবার অনেকে জেনেও অধিক তাকওয়াবান সাজার জন্য কারণ ছাড়াই নিজেদের মুখ ঢেকে রাখেন। এই অতিরিক্ত মুত্তাকী সাজার বিষয়টিই ইসলামে নিষিদ্ধ। এটাই হচ্ছে বাড়াবাড়ি। আল্লাহর রসুলের জীবনী যদি আমরা দেখি তবে আমরা দেখবো তিনি এই অতি মুসলিম সাজার বিষয়টি বরাবরই নিষিদ্ধ করছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলাল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই দীন সহজ-সরল। দীন নিয়ে যে কড়াকড়ি করে দীন তার বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়। কাজেই তোমরা মধ্যপন্থা অবলম্বন কর এবং দীনের নিকটবর্তী থাক, নিয়মিত পূণ্যের কাজে পুরস্কারের সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং সকাল- সন্ধ্যায় ও রাতের কিছু অংশে (ইবাদতের মাধ্যমে) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর।” এছাড়াও দীন শিক্ষা দেয়ার সময় রসুল দীনকে সহজভাবে তুলে ধরার কথাও বলেছেন। রসুলাল্লাহ মুয়াজ ও আবু মুসা (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণের প্রাক্কালে এ উপদেশ দিয়েছিলেন যে, “(জনগণের কাছে ধর্মীয় বিষয়গুলো) সহজ করে তুলে ধরো, কঠিনরূপে নয়। একে অপরকে মান্য কর, বিভেদে লিপ্ত হয়ো না।” রসুলাল্লাহর আরেকটি হাদিস আবু ইয়ালা তার মুসনাদে আনাস ইবনে মালিকের বরাতে এবং ইবনে কাছীর সুরা হাদীদের ২৭ আয়াতের তাফসীরে উল্লেখ করেছেন। সেই হাদিসে রয়েছে, রসুল বলতেন, “নিজের উপর এমন অতিরিক্ত বোঝা চাপিও না যাতে তোমার ধ্বংস হওয়ার আশংকা থাকে। তোমাদের পূর্ববর্তী জনগোষ্ঠী নিজেদের উপর অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে ধ্বংস হয়েছে। তাদের ধ্বংসাবশেষ পুরাতন মঠ-মন্দিরে খুঁজে পাওয়া যায়।” অন্যত্র আনাস ইবনে মালিক (রা) বর্ণনা করেন, “একদল লোক নবী সহধর্মিণীদের কাছে এসে রসুলাল্লাহর ইবাদত স¤পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। এ ব্যাপারে অবহিত হওয়ার পর তারা তাদের ইবাদত-বন্দেগীকে অপর্যাপ্ত বিবেচনা করে একজন বললেন, আমি সর্বদা সারারাত নামাজ পড়ব; আরেকজন বললেন, আমি সারা বছর রোজা রাখব এবং কখনো ভাঙ্গবো না। এ সময় আল্লা হর নবী তাদের কাছে এলেন এবং বললেন: “আল্লাহর শপথ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য আমারই সবচেয়ে বেশি এবং তাঁকে বেশি ভয় করি তোমাদের চেয়ে; তথাপি আমি রোযা রাখি এবং ভাঙ্গিও, আমি ঘুমোই এবং নারীকে বিয়ে করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাহকে অনুসরণ করে না সে আমার অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়।”
তাহলে রসুল যে অতিরিক্ত করতে নিষেধ করেছেন তা এখানে স্পষ্ট। তাহলে বর্তমানে আমরা যে অতি ধার্মিক হওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তা যে ইসলামে নিষিদ্ধ তা উপর্যুক্ত বর্ণনা থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। অতএব আমাদের এখন এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ একজন মো’মেন, মুসলিম কখনোই ভারসাম্যহীন হতে পারে না। না কম না অতিরিক্ত। কারণ মহান আল্লাহ কোর’আনে বলেছেন, “আমি তোমাদের মধ্যাপন্থী জাতি করেছি যাতে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমণ্ডলীর জন্য এবং রসুল সাক্ষ্যদাতা হোন তোমাদের জন্য (সুরা বাকারা ১৪৩)।”

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভাবনা

Related image

মনের হাসি মনে- লুকাই সংগোপনে, চোখ বুজিয়া ভাবি কিছুক্ষণ। ফুল যদি হও তুমি- মৌমাছিটা আমি, তোমায় ঘিরে উড়বো সারাক্ষণ। নদী হবে তুমি- ঢেউটা হবো আমি, করবো সদা তোমায় আলিঙ্গন। নতুন পাতা তুমি- বাতাস হবো আমি, পরশে জুড়াবো তোমার দেহ-মন। আকাশ হলে তুমি- ছাড়বো ধরা আমি, মেঘের ভিড়ে খুঁজবো তোমার রঙ। হেসে হেসে মনে- ভাবি সারাক্ষণে, পুষ্পচোরের ভাবনা চিরন্তন।

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ইসলামে গান-বাজনা হারাম নয়, হারাম হচ্ছে অশ্লীলতা


বর্তমানে আমরা একটি কঠিন সময় অতিবাহিত করছি। পুরো বিশ্ব আজ দাজ্জালীয় সভ্যতার করতলগত। এখানে ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই। এখানে শক্তি ও অর্থই সব। অর্থই এখানে সম্মানিত হওয়ার একমাত্র মানদণ্ড। মানুষের মধ্যকার মনুষ্যত্ব আজ ধ্বংসপ্রায়। তাহলে এই যুগসন্ধিক্ষণে এসে আমাদের করণীয় কী? আমাদের একমাত্র করণীয় হচ্ছে এই দাজ্জালীয় সভ্যতাকে ভেঙ্গে একটি নতুন সভ্যতার নির্মাণ করা। একটি পুরাতন জরাজীর্ণ অট্টালিকাকে ভেঙ্গে সেই জায়গায় নতুন একটি অট্টালিকা নির্মাণ চাট্টিখানি কথা নয়। 
.
প্রচলিত বিকৃত ইসলামের ধারক-বাহকেরা চায় নারীদের ঘরে বন্দী করে রাখতে, তারা সুস্থ বিনোদন ও মননে অস্বীকার জানায়, তারা গান-বাজনাকে হারাম বলে ঘোষণা করে। অথচ ইসলামে কোথাও গান-বাজনাকে হারাম করা হয় নি। মানুষের মধ্যকার সুকুমার বৃত্তি আল্লাহই দান করেছেন, সুতরাং ইসলাম এর চর্চাকে হারাম করতে পারে না। ইসলামের ব্যাপারে যদি আমরা কোন মতামত পেশ করি তবে তা অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রসুলের (স.) জীবনাদর্শ অনুযায়ী হতে হবে।
.
বর্তমানে যারা ইসলামের ধারক-বাহক সেজে বসে আছেন তারা গান-বাজনার নাম নিলেই ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ জপতে থাকেন, ভাবটা এমন যেন গান-বাজনা বিশাল পাপের বিষয়। ছোটবেলায় আমরা শুনতাম গান শুনা যাবে না, সিনেমা দেখা যাবে না। কিন্তু এ ধারণার জন্ম হয়েছে সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে দাজ্জালীয় সভ্যতা থেকে আগত অশ্লীলতার সংমিশ্রণের জন্য। কিন্তু উচিত ছিল সংস্কৃতি থেকে অশ্লীলতাকে বিতাড়ন করার চেষ্টা করা। সেটা না করে আমাদের আলেম সমাজ গানকেই হারাম ঘোষণা করে দিলেন। এ যেন মাথা ব্যাথা হওয়ায় মাথা কেটে ফেলা।
.
সঙ্গীত একটি শিল্প। আবহমান কাল থেকেই তা সকল জাতির সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ অংশ। আমি পূর্বে বলে এসেছি আমরা একটি কঠিন সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি। এই কঠিন সময়ে যে বিপ্লব প্রয়োজন সেই বিপ্লবের অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে সংগীত। ইতিহাসের দিকে যদি আমরা তাকাই তবে বেশি দূর যেতে হবে না, ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গানগুলো এখনো আমাদেরকে বিপ্লবের চেতনায় উদ্দিপ্ত করে। আজকের এই দুঃসময়ে গান হতে পারে পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। এজন্য যারা মনে করেন ইসলাম গানকে হারাম করেছে তাদেরকে এ ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। 
.
প্রথমেই আমাদের ধারণায় আনতে হবে আল্লাহ কোর’আনে কোথাও গান-বাজনা হারাম করেন নি। যা কিছু হারাম তা মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছেন। পবিত্র কোর’আনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে (সুরা আল আনআম ১১৯)।” আল্লাহ পবিত্র কোর’আনের কোথাও গান-বাজনার ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন নি। কোর’আনে আল্লাহ মানবজাতির শান্তি-অশান্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় একটি ক্ষুদ্র বিষয়ও বাদ রাখেন নি সেখানে শিল্প সংস্কৃতির চর্চা যা মানবজাতির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, সেটি যদি নিষিদ্ধ হতো তা কি তিনি একবারও উল্লেখ করতেন না? অবশ্যই তিনি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান জানিয়ে দিতেন। আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে অসার বাক্যালাপ করতে নিষেধ করেছেন (সুরা লোকমান-৬)। ইসলামের অতি-বিশ্লেষণকারী পণ্ডিতরা এই ‘অসার বাক্যালাপ বা লাহওয়াল হাদিস’ কথাটিকে ব্যাখ্যা করে গান বানিয়ে দিয়েছেন এবং দাবি করছেন যে এখানে গান গাইতে নিষেধ করা হয়েছে। তাদের এই ব্যাখ্যা যে সম্পূর্ণ মনগড়া তার প্রমাণ রসুলাল্লাহর জীবন। 
.
রসুলাল্লাহ (স.) এর জীবন থেকে যদি আমরা দেখি তবে স্পষ্ট দেখবো তিনি সুস্থ বিনোদন, আনন্দ উৎসব ও গান-বাজনা ইত্যাদি বর্জন করেন নি। তাঁর নবী হওয়ার পর থেকে সমগ্র জীবনটাই কেটেছে সংগ্রামে আর যুদ্ধে, হাজারো ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। মাত্র ২৩ বছরে তাঁকে ৭৮ টি যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে যেখানে অনেকগুলোতেই তিনি নিজে প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। এমন একজন বিপ্লবীর পক্ষে সারাদিন ঘরে বসে থেকে গান শোনা সম্ভব হয় নি, তবুও তিনি চিত্তবিনোদনের জন্য গান শুনেছেন। 
.
হাদিসে রয়েছে, “রসুল (স.) একদিন মদিনার গলিপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকটি বালিকা দফ বাজিয়ে গান গেয়ে বলছিলো, আমরা বনু নাজ্জারের বালিকার দল, কত খোশনসীব! মুহাম্মদ (স.) আমাদের প্রতিবেশী। তখন আল্লাহর রসুল বলেন, আল্লাহ অবগত আছেন, আমি তো তোমাদের ভালোবাসি (সুনানে ইবনে মাজাহ)।” অন্যত্র দেখা যায়, আবু বোরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত, “একদিন রসুলাল্লাহ যুদ্ধ থেকে ফিরার পর একজন কালো বর্ণের তরুণী তাঁর কাছে হাজির হলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসুল, আমি মানত করেছিলাম যে আল্লাহ যদি আপনাকে সহিহ সালামত যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরিয়ে আনেন তবে আমি আপনার সামনে দফ বাজাবো ও গান গাইবো। আল্লাহর রসুল জবাব দিলেন, তুমি যদি মানত করে থাকো তবে তা পূর্ণ করো। অতঃপর তরুণীটি গান গাইতে শুরু করলো। এই সময় আবু বকর (রা.) প্রবেশ করলেন তবুও সে বাজাতে থাকলো, হযরত আলী (রা.) প্রবেশ করলেন তবুও সে থামলো না, হযরত উসমান (রা.) প্রবেশ করলেন এবং তখনও সে বাজাচ্ছিল। কিন্তু যখনই উমর (রা.) উপস্থিত হলেন তরুণীটি তার দফ নামিয়ে রাখলো। আল্লাহর রসুল তখন বললেন, হে উমর! শয়তানও তোমাকে ভয় পায়। আমি বসে ছিলাম আর এই তরুণীটি দফ বাজিয়ে গান করছিলো, আবু বকর, আলী যখন প্রবেশ করে তখনও সে বাজাচ্ছিলো, উসমান আসার পরই সে থামেনি কিন্তু যখনই তুমি আসলে সে দফটি রেখে দিল (তিরমিযি শরীফ, দ্বিতীয় খণ্ড)। আল্লাহর রসুলের জীবনে এরূপ ঘটনার অভাব নেই যেখানে তিনি গান শুনেছেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, “একদিন আবু বকর (রা.) তাঁর নিকট এলেন। এ সময়ে মিনার উৎসবের দিনগুলোর একটি দিনে তাঁর নিকট দুটি মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল। নবী (স.) তাঁর চাদর আবৃত অবস্থায় শুয়েছিলেন। তখন আবু বকর (রা.) মেয়ে দুটিকে ধমক দিলেন। তখন আল্লাহর রসুল মূখমÐল থেকে কাপড় সরিয়ে বললেন, হে আবু বকর, তাদের বাধা দিও না, এটা তাদের ঈদের দিন (সহিহ বোখারী)।” এছাড়াও “মোহাম্মদ বিন হাতবি (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসুলাল্লাহ (রা.) বলেছেন, হালাল ও হারাম বিবাহের মধ্যে পার্থক্য হলো ঢোল বাজানো ও শব্দ করা বা ঘোষণা প্রচার (সুনানে আবু দাউদ)।”
.
তাহলে রসুলের জীবনী থেকেও আমরা স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছি যে তিনি গান শুনেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র সহযোগেই শুনেছেন। অনেকেই দাবি করেন বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে শুধু দফ হালাল আর অন্য সকল বাদ্যযন্ত্র হারাম। কিন্তু এ ধারণাটিও সঠিক নয়। আমাদের তৎকালীন অবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। মদিনা একটি কৃষিপ্রধান গ্রাম্য এলাকা। সেই এলাকার মানুষজন কৃষিজীবি তাই তারা ফসল কাটার গান, গ্রাম্য পরিবেশের গান অর্থাৎ আমাদের ভাটিয়ালী গানের মতো গানগুলো গাইতেন। সেই সকল গান গাওয়ার জন্য তারা নিজস্ব সহজলভ্য বাদ্যযন্ত্রগুলোই ব্যবহার করতেন। যেমন আমাদের দেশে গ্রামগঞ্জে এখনো একতারা, ডুগি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। আল্লাহর রসুল কোন বাদ্যযন্ত্রের উপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেননি। যদি করতেন তবে তিনি দফের উপরেই আরোপ করতে পারতেন। অতএব যারা দাবি করেন যে দফ ছাড়া অন্যান্য সকল বাদ্যই হারাম তারা আসলে তাদের জ্ঞানের সংকীর্ণতার পরিচয় দেয়। আর একটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো জায়েজ হওয়ার অর্থ সকল বাদ্যযন্ত্রই জায়েজ হওয়া- এটা সাধারণ জ্ঞান। আল্লাহর রসুল তীর-ধনুক, ঢাল তলোয়ার দিয়ে যুদ্ধ করেছেন। এর অর্থ হলো যুদ্ধে তিনি সমসাময়িক যুগের অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। আজ যখন তাঁর উম্মাহ যুদ্ধ করবে তখনও কি তারা তীর-ধনুক আর ঢাল-তলোয়ার দিয়েই যুদ্ধ করবে? অবশ্যই নয়। তাদেরকেও সমসাময়িক যুগে উপযোগী অস্ত্রসস্ত্রই ব্যবহার করতে হবে।
.
তবে হ্যাঁ, অশ্লীলতাকে ইসলাম অবশ্যই হারাম ঘোষণা করেছে। পবিত্র কোর’আনে রয়েছে, “আল্লাহ মন্দ কাজের আদেশ দেন না (সুরা আরাফ ২৮)।” তাহলে যে সকল গান সমূহের মাধ্যমে অশ্লীলতার প্রসার ঘটানো হয় সে সকল গান অবশ্যই হারাম। তবে দেশ ও জাতির কল্যাণে, মানুষের মধ্যকার সৃজনশীলতা বিকাশে, সুস্থ বিনোদনের জন্য গান অবশ্যই হালাল। তাই আশা করছি যারা এতদিন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করতেন তাদের ধারণার পরিবর্তন আসবে এবং ইসলামের উদারতা তারা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

তুমি


সকালের সূর্যেতে তোমারই ছায়া কাঁচা রোদে লেগে থাকে তোমারই মায়া। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় তুমি আছো রব, তুমি স্বামী এ ধরায়। নদীর ধারায় তুমি, সাগরের গর্জনে চাঁদের স্নিগ্ধতায়, বনফুলের সুঘ্রাণে তুমি আছো মিশে যেনো, আমারই তনুমনে অনুভবে অনুভবে, নিঃশ্বাসে জাগরণে। তুমি বিনে দিন বৃথা, রাত যেনো কালিমাখা তুমি বিনে আমি একা, ধরার এই মায়াবনে। আঁধারেতে তুমি আসো হয়ে যেন আঁখিতারা তোমায় যে সপে নিজে হয় নাকো পথহারা। অকূল পাথারে তুমি প্রাণপ্রিয় ধ্রুবতারা সৃষ্টি এই সুন্দর প্রাণহীন তুমি ছাড়া। তোমায় পেয়েই ধনী কুবেরের ধন ছাড়া তোমার প্রেমেই আমি হয়েছি পাগলপারা। সৃষ্টিতে তুমি আছো রোজ দেখি তাই নত শিরে সবিনয়ে প্রণাম জানাই চরণ-‘পরে লও প্রণাম আমার।

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

জানেমান



তুমি আমার নিঝুম রাতের
পূর্ণিমারই চান্দ।
তোমার লাইগা করছি আমার
জীবনটা কোরবান।
আজকে তুমি নাই
নিকষ কালো তাই
লাইন ছাড়া আজ রেলগাড়িটা
কেমনে যে চালাই?

তোমার লাইগা রাত্রি জাইগা
গাইছি মনের গান,
তোমার লাইগা চিন্তা কইরা
হইছি পেরেশান।
চুল খুলিয়া সেলফি তুমি
দিসো জানেমান,
তোমার মুখের কথায় হইসি
খুশিতে আটখান।

তুমি আমার আনারকলি, তুমিই রূপবান
তোমার লাইগা দিলটা আমার
করে যে আনচান।

গ্যালারিটা খুললে পরেই
তোমার দেখা পাই,
সেই ছবিতে হাসি দেখেই
মনের সুখ মিটাই।
খাচ্ছি আমি প্রেমের বিষ
খাচ্ছি ডুবে জল
সেই নেশাতেই গেল আমার
সময় ও যৌবন।
তোমার লাইগা ভাঙ্গলো আমার
সুখের স্বপনখান।

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আমাদের নারীরা

Image may contain: one or more people and sky


নতুন বেশে সাজ রে এবার
উঠা আজকে তরবারী
প্রমাণ করতে হবে যে তোকে
অবলা নয় আমাদের নারী।
.
চোখে জ্বালা ধূমকেতু জ্বালা
শোন ঐ ডাক হায়দারী
গগণ চিরিয়া করছে রোদন
শোষিত করছে আহাজারী।
.
লোভ লালাসা ত্যাগ কর আজ
ত্যাগ কর আজ ভোগ বিলাস
স্রষ্টার তরে এক হয়ে চল
সর্বনাশের করি বিনাশ।
.
এলোকেশে আজ ঝড় তুলে দে
তুল বৈশাখী ভীম তুফান
মা বসুমতি ডাকছে তোদের
করবি আজকে রক্তস্নান।
.
হাতের চুড়ি ভুলে যা আজ
তুলে নে ‍তুই সুদর্শন
শিবের ত্রিশুল, বলরামের হল
আজকে কর তুই মরণপণ।
.
অভাগারে দিবি তার অধিকার
দিবি অভাবীরে ন্যায্য ধন
গড়বি তোরাই জগত মাঝারে
রাম রাজত্ব আর বৃন্দাবন।
.
হয়ে উঠ আজ দূর্গা, কালী
দেখা আজ তোর চণ্ডিরূপ
নাজুক, শীতল, কল্যাণময়ী
আনতে পারে বিনাশস্তুপ।
.
চাইনাকো আজ বধুবেশ তোর
চাইনা আজকে কোমলতা
নতুন দিনের কাণ্ডারী হবি
গড়বি নতুন সভ্যতা।
.
স্রষ্টা তোদের সহায় হবেন
বাড়িয়ে দিবেন যোগ্যতা
প্রত্যেকে তোরা ছড়িয়ে দিবি
নতুন যুগের বারতা।

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৮

রণনন্দিনী

ওরে আয়, বিপ্লবী যত রণনন্দিনী, ময়দানে ছুটে আয়। . সময় এসেছে দেখো নতুন করে দেখবে জগতবাসী চক্ষু তুলে বজ্রপ্রতিম নারী জেগেছে আবার এই শ্যামল গাঁয়ে। . আম্মা খাদিজার ন্যায় তাদের সবর শৌর্যে সাহসে যেন খাওলার বোন শত বাঁধা দূর করে এগিয়ে যাবে কালো আঁধার চিরে। . দিবসে তারাই হবে শক্তি সাহস নিশিথে তারাই দিবে প্রেরণা পরশ পুরুষের পাশে থেকে কাঁপাবে জগত আজ ন্যায়ের ’পরে। . আঁধার হেরেমে ছিলো বন্দিনী যারা আদর্শ পেয়ে হলো আলোকিত তারা মুছে দিবে কালি আর গ্লানির জরা এক নব্য ঝড়ে। . ধরার দুলালী টর্নেডো দুর্বার যাদের নেইকো ভয় দিতে বলিদান এসেছে সঙ্গে নিয়ে স্বর্গের গান গোটা ধরনী জুড়ে। . এসো হয়ে দশভূজা করি আহ্বান যমপুরী ভেঙ্গে দিয়ে করে খানখান ধরাকে শুদ্ধ করে হও মহীয়ান কোটি হৃদ মাঝারে।

সোমবার, ৬ আগস্ট, ২০১৮

ছবি


ফোনের ছবি ফোনে আছে মনের ছবি মনে তবুও ছবি বলছো ফোনে ডিলিট করতে টেনে। আমি হেসে শান্ত বেশে বুঝাই ধরে ধরে অবুঝ তুমি রাগলে শেষে আমার কথা শুনে। বললে আমায় কত কথা করলে কত বকা-ঝকা বকা শুনে আমি একা গেলাম বোকা বনে। এবার শুনো আসল কথা ছবির মাঝে স্মৃতির ছটা করলে ছবি ডিলিট ক'টা যাবো স্মৃতি ভুলে? তোমার কায়া মনের মাঝে বুজলে আঁখি মনে হাসে সেই হাসিতেই ডুবে ডুবে জল খাবো আনমনে। তুমি সখী থাকো দূরে এসো না আর পাশে ছবিগুলো স্মৃতি হয়ে থাকুক আমার কাছে।

শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮

মাদক সমস্যা .... শুধু শক্তিপ্রয়োগে নির্মূল সম্ভব নয়, প্রয়োজন সঠিক কর্মসূচী


মাদকাসক্তি মানবজীবনের একটি ভয়াবহ ব্যাধি। মানবসমাজ যখনই ধ্বংসের দ্বারগোড়ায় এসে উপনিত হয়েছে তখনই মাদকের কালো থাবায় আক্রান্ত হয়েছে। আইহ্যামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগে রসুলের আগমন ঘটলে তিনি দেখলেন সেই সমাজেরও একই হাল। সমাজ মাদকের কালো থাবায় আক্রান্ত। মদ খেয়ে মানুষ চুর হয়ে পড়ে থাকতো। মদ ব্যবসা ছিল অন্যতম লাভজনক ব্যাবসা। মাদক সমাজের জন্য এত অধিক ভয়াবহ যে একটি সমাজের জনগণ যখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তখন তাদের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তির ঘাটতি হয়, লোপ পায়। মাদকে পুড়ে পুড়ে তাদের জীবন শেষ হয়ে যায়। সেই পোড় খাওয়া মানুষগুলিকে নিয়ে সমাজ-সভ্যতা নির্মাণের কথা চিন্তাও করা যায় না। সমাজ সভ্যতা নির্মাণের জন্য যে অবশ্যম্ভাবী কাজগুলো রয়েছে সেগুলো তাদের, মাদকে আক্রান্ত মস্তিস্ক ও দেহ, দ্বারা করানো সম্ভব হয় না। তাদের দিয়ে মানবজাতির কোন কল্যাণ তো হয়ই না বরং তারা সমাজের বোঝা স্বরূপ সমাজের সম্পদ ধ্বংস করে এবং পশুর চেয়েও নিকৃষ্টভাবে জীবনকাল অতিবাহিত করতে থাকে।
.
আল্লাহর রসুলের জীবনীতে আলোকপাত করলে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাই, তিনি কিভাবে মাদকের কালো থাবা থেকে তৎকালীন সমাজকে উদ্ধার করেছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম পুরো জাতিকে তওহীদের দিকে ডাক দিলেন। তিনি পুরো জাতিকে একটি কথার উপর ঐক্যবদ্ধ করলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া আর কারো হুকুম মানবো না। এই একটি কথার উপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে সমাজের মানুষগুলোর মধ্যকার আন্তঃকলহ হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ, রেষারেষি দূর হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ স্থপিত হলো। এই শান্তিপূর্ণ সমাজের প্রভাব পড়লো মাদকের উপর। শত শত বছরের কাল পরিক্রমায় মাদকের প্রতি জাতি এমনভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে ঘরে ঘরে মাদক ব্যাবসায়ী, মাদকাসক্ত ও মাদকের সাথে সম্পৃক্ত সদস্য পাওয়া যেত। এমনকি তাদের মধ্যে অনেকেই সমাজের কর্তৃত্বের আসনেও আসিন ছিলেন। এমতাবস্থায় আল্লাহর রসুল উপলব্ধি করলেন, যে সমস্যা একদিনে এত বৃহৎ আকাড় ধারণ করে নি সেই সমস্যার পরিত্রাণও একদিনেই পাওয়া সম্ভব নয়। এই শত শত বছরের ব্যাধিকে শরীর থেকে প্রতিকার করতে হলে ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহ তাই এ সমস্যা থেকে সমাধানের জন্য যথাযথ দিক নির্দেশনা প্রেরণ শুরু করলেন। প্রথমে তিনি আয়াত প্রেরণ করলেন, “তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। হে নবী! আপনি বলে দিন, এতদুভয়ের মাঝে রয়েছে মহাপাপ। আর মানুষের জন্য উপকারিতাও রয়েছে। তবে এগুলোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা অনেক বড় (সুরা বাকারা ২১৯)।” এর মাধ্যমে তিনি প্রথমেই মানুষের বিবেককে নাড়া দিলেন। তিনি তাদের সামনে পরিষ্কার করে দিলেন যে মাদকের মধ্যে ভালো ও খারাপ উভয় উপাদানই বিদ্যমান তবে ভালোর তুলনায় খারাপের মাত্রাই বেশি। এর ফলে মানুষ মাদকের ভালো খারাপ বিষয়টি বুঝতে শুরু করলো এবং মাদকের প্রতি তাদের মনে একটি ঘৃণার সৃষ্টি হলো।

এরপর আরো কিছুদিন অতিবাহিত হলো এবং সমাজের দ্রæত পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের মন মানসিকতারও ব্যাপক পরিবর্তন হতে লাগলো। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন, “হে মো’মেনগণ তোমরা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় সালাহর (নামাজের) নিকটবর্তি হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে সক্ষম হও যা তোমরা বলছো (সুরা নিসা ৪৩)।” প্রথমে আল্লাহ একটি রেখা টেনে দিয়েছিলেন এবার এই আয়াত নাযিলের মাধ্যমে তিনি একটি প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করলেন। নির্দেশ দিলেন, অন্তত সালাহর যে পাঁচ ওয়াক্ত সময় সেই সময়টুকু মাদক থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এর ফলে তাদের চেতনায় পুনরায় ধাক্কা লাগলো। মাদকের বিরুদ্ধে তাদের চিন্তা-চেতনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসলো। রসুলাল্লাহর আদর্শের সংস্পর্শে মানুষ ক্রমেই সোনার মানুষে পরিণত হতে লাগলো। একটি পর্যায় আসলো যখন সমগ্র জাতি আল্লাহর প্রতিটি হুকুম মেনে নেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে গেল। তখন আল্লাহ আয়াত প্রেরণ করলেন, “হে মো’মেনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, স্থাপনকৃত মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর অপবিত্র ও শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা ইহা হতে দূরে থাক, যেন তোমরা সফলকাম হতে পার (সুরা মায়িদা ৯০)।” আল্লাহ মাদককে হারাম ঘোষণা করলেন। রসুলও বললেন, “তুমি মদপান করবে না কারণ ইহা সকল মন্দের চাবিকাঠি (ইবনে মাজাহ)।” রসুল আল্লাহর এই ঘোষণার বাস্তবায়ন ঘটালেন। সমাজ থেকে সকল মাদক নির্মূল করার উদ্যোগ নেয়া হলো। যারা ঘরের মধ্যে পরে খাবে বলে মদ গচ্ছিত রেখেছিল তারা সেগুলো মদিনার রাস্তায় ঢেলে দিলেন। মদ খাওয়ার বিশেষ পাত্র ভেঙ্গে ফেললেন যাতে মদ খাওয়ার প্রতি আকাঙ্খা না জন্মে। পরবর্তীতে দীর্ঘদিনের অভ্যাসের কারণে কেউ যদি মদ বা মাদক গ্রহণও করতো তবে তাকে শাস্তিস্বরূপ বেত্রাঘাত করা হতো। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই জাজিরাতুল আরব মদ বা মাদকজাতীয় বস্তুর থাবা থেকে মুক্ত হয়ে গেলো। 
.
এখন আসি বর্তমানে। ফিলিপাইনে যে ঘটনাটি ঘটে গেল। সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকাশ্যে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো। মাদকের সাথে সম্পৃকতা রয়েছে এই কারণে সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হলো। জাতিসংঘও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এমনই ভয়াবহ অবস্থায় এসে উপনীত হয়েছে যে বিচারের আওতায় এনেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদক নির্মূল করার কথা তারাও এর সাথে জড়িত। আবার এই মাদকব্যবসায়ীরাই সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নেতা পর্যায়ের লোক। এমনকি শিক্ষিত জনগোষ্ঠি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীরাও এর থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সমগ্র পৃথিবী আজ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ সংকটের মতো মাদক নিয়েও যথেষ্ঠ চিন্তিত। আমাদের সরকারও, ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ এই শ্লোগান দিয়ে, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তার মানে দেখা যাচ্ছে বড় শত্রু এখন অস্ত্রধারী নয়, সবচেয়ে বড় শত্রু এখন মাদক ব্যবসায়ী। তারা মাদকের থাবায় সমাজকে পরিচালিত করছে ও সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। বহু সংসার ভেঙ্গে যাচ্ছে, বহু নারী বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছে, বহু খুন হচ্ছে। বহু যুবক তাদের সোনালী যৌবনকে নষ্ট করছে মাদকের নেশায়। কোন জাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার এ এক সুদূর প্রসারী চক্রান্ত। বাহ্যিকভাবে অস্ত্রসস্ত্র ও অভ্যান্তরীনভাবে মাদক। এর ফলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যাবে, জাতি আর দাঁড়াতে পারবে না। জাতির অগ্রগতি, উন্নতি, প্রগতি থেমে যাবে। জাতির জনগণের মধ্যে চিন্তার আড়ষ্ঠতা দেখা দিবে।
তাহলে মাদক নিরাময় করে জাতিকে উদ্ধারের উপায় কী? কিভাবে এ মাদককে দমন করা যায়? সরকারের কাছে শক্তি রয়েছে এবং সরকার সেই শক্তির প্রয়োগ ঘটাচ্ছে। কিন্তু আমরা হেযবুত তওহীদ বলছি শুধু শক্তি দিয়ে হবে না। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে রসুল কিভাবে সমাজ থেকে মাদককে নির্মূল করেছিলেন। এখন আমাদেরও সেই একই কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে। পুরো সমাজটাকে সর্বপ্রথম তওহীদের ভিত্তিতে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজন নেতার অধিনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেই নেতা যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন সে সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করতে হবে। মাদকের কোন হীতকাঙ্খী থাকতে পারবে না। প্রশাসনিক কোন ব্যক্তিবর্গ এর সাথে জড়িত থাকতে পারবে না। যদি থাকে তবে মাদক নির্মূল কখনই সম্ভব নয়। 

কল্পচাওয়া


কি চেয়েছিলাম জানো?
তোমায় নিয়ে নিঝুম রাতে জোছনা দেখবো বসে
তোমায় নিয়ে নিথর দুপুর কাটাবো না হয় হেসে।
তোমায় নিয়ে হারিয়ে যাবো অজানা এক পথে
তোমায় নিয়েই কাটাবো জীবন বন্ধু একই সাথে।
.
বললে তুমি তোমার জন্য আনবো খোঁপার ফুল
সেই ফুলেতে সাজবে তুমি ধরবে আমার ভুল।
হেসে হেসে বলবে তুমি ভালোবাসার কথা
সেই কথাতে ভুলে যাবো মনের সকল ব্যাথা।
.
ক্লান্ত হয়ে আসবো যখন বসবে এসে কাছে
ক্লান্তিগুলো দূর করবে আমায় ভালোবেসে।
ভালোবাসায় সিক্ত শিবু আদর করবে হেসে
আলতো করে মিষ্টি হাসি হাসবে লজ্জবেশে।
.
তোমায় নিয়ে স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রইলো শুধু
তোমায় নিয়ে চাওয়াগুলো চাওয়াই রইলো শুধু
তবুও তোমায় ভালোবেসে পরম সুখী আমি
তোমায় নিয়ে দেখবো স্বপন...
আমার কাজলা সুন্দুরী।

নিঃসঙ্গ


এ কেমন জ্বলন জ্বালা?
আত্মা আজি মরছে ব্যাথায়
গুরুর গুরুকে ছাড়া।
.
এ কেমন ব্যাথার ধারা?
শাখা কাঁদে একলা বসে
গাছের সঙ্গ ছাড়া।
.
এ কেমন আঁধার ছায়া?
চন্দ্র যেন যাচ্ছে নিভে
সূর্য রশ্মি ছাড়া।
.
এ কেমন ক্ষতর জ্বালা?
যায়না দেখা চর্ম চোখে
অন্তরে রুধির ধারা।


শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮

কাজলা সুন্দরী

আষাঢ়ের এই শশীতে মন হাসে
জোছনামাখা শুভ্রতায় মন ভাসে
হৃদয়দোলা দিয়ে উঠে
নতুন সুরে গেয়ে উঠে
জোছনা রাতে তোমাকে চায়।
.
নিঝুম স্নিগ্ধ রজনী
মনের প্রিয় সজনী
তোমায় ভেবে মন নেচে বেড়ায়।
আষাঢ়ের এই শশীতে মন হাসে
ভালোবেসে চোখে হারায়।
.
কেয়ার গভীর ঘ্রাণেতে, মনের গোপন রঙেতে
কি জানি কোন মোহেতে, নতুন করে নেশা লাগায়।
.
চপল চপল পায়, সে যখন হেটে যায়
মনের আঙ্গিনায়, গুন গুন অলি গায়
মন ডুবে যায় গভীর মায়ায়।
.
শশী তবে আজ শুনে যা
সখীর পানে যা ছুটে যা
মন কাঁদে তার বিরহ জ্বালায়।
.
একলা রাতে আনমনে
জ্বলছি ব্যাথার জ্বলনে
গান গেয়ে যাই ব্যাথার জ্বালায়।
আষাঢ়ের এই শশীতে মন হাসে
সুন্দরী তোর ভালোবাসায়।

বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮

বলোনি তুমি?

হাসিয়া করিয়া রঙ্গ
কেন বলো দেখি নিয়েছিলে মন?
ছাড়িবে যখন সঙ্গ।
.
বলোনি তুমি থাকিবে সদা, বন্ধু প্রতিম হয়ে? 
তাহলে কেন? কেন হে কন্যা ছাড়িয়া চলিয়া গেলে? 
বলোনি তুমি বন্ধু আমি, অনেক আপন তোমার?
তাহলে কেন? জ্বলছি অনলে আজ বিরহে তোমার।
বলোনি তুমি কষ্টে আমার, তোমার হৃদয় জ্বলে?
তাহলে কেন? কেন সেই তুমি কষ্ট দিচ্ছো মনে?
বলোনি তুমি অদ্ভুত আমি, তোমায় ভালোবাসি?
তাহলে কেন? ভূত হলো সুখ, দুঃখ আজ রাশি রাশি।
.
হয়নি গো প্রেম সাঙ্গ
চাইলে বিধাতা ফের ফিরে পাবো
ফিরে পাবো তোর সঙ্গ।

মঙ্গলবার, ১৯ জুন, ২০১৮

O Lady!

Lady! Lady!
Will you be mine? 
From hot summer 
To spring time..
.
Lady! Lady!
know, you can't be mine
But I am a dreamer and
It's not a crime..
.
Lady! Lady! 
Aren't you hurt?
Because I'm missing you
Missing you in heart.

বৃহস্পতিবার, ৭ জুন, ২০১৮

ধর্মব্যবসা

তোমরা ধর্ম বেইচা খাইয়ো না,
আগুন গিলা খাইয়ো না
ধর্মব্যবসা এবার ছাড়ো রে
ধর্মব্যবসা না ছাড়লে তৈরি থাকো ভাই
ফল পাওয়ার সময় হইসে রে।
.
বাড়াবাড়ি কইরো না,
আয়াত গোপন কইরো না
এইগুলা এবার ছাড়ো রে
বাড়াবাড়ি করতে রসুল মানা করছে ভাই
সেই কথাটা ভুইলা গেলা রে।
.
তর্ক-বাহাস কইরো না,
বিভক্ত আর হইয়ো না
ফেরকা-মাজহাব রসুল করে নাই রে
বিভক্ত হইলে পরে দূর্বল হইয়া যাই
সেই কথাটা চিন্তা কইরোরে।
.
ঈমান ছাড়া থাইকো না
জান্নাত তুমি পাইবা না
আকিদা, ঈমান এরপর আমল রে
ঈমান ছাড়া থাকলে আমল হয় না ভাই
সব আলেমেই এইটা বলে রে।
.
হেযবুত তওহীদ ডাইকা চলে রে...
ন্যায়ের পথে ডাইকা চলে রে...
সত্য পথে ডাইকা চলে রে...

সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...