সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, “রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।” নিঃসন্দেহে সত্য বলেছেন কিন্তু কথা হচ্ছে ভাবমূর্তির এই উজ্জ্বলতা কতটা টেকসই হবে সেটা নির্ভর করে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রমের উপর। রোহিঙ্গারা আমাদের দেশের জন্য কেবল ভাবমূর্তিই নিয়ে আসে নি বরং তাদের উপর চলা দুঃসহ নির্যাতন দেখে আমাদেরও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ও সতর্ক হওয়া উচিত, কারাণ তাদের এই অবস্থার মূল কারণ তাদের মুসলিম পরিচয় যা কিনা আমরাও ধারণ করি।
মায়ানামারের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়ন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা আমাদের দেশে এসেছেন। তাদের দুর্দশার খবর আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিছুদিন আগেও তাদের সব ছিল, জমিজমা, বাড়ি গাড়ি, চাকরি, ব্যবসা অর্থাৎ পার্থিব যা কিছু মানুষের থাকে। আজ তাদের কিছুই নেই, সম্মান নেই, সম্পদ নেই। কেবল দু মুঠো ত্রাণের জন্য তাদেরকে সকাল সন্ধ্যা দৌঁড় ঝাপ করতে হচ্ছে। তাদের একটাই পরিচয়- তারা সবাই উদ্বাস্তু। নিয়তি তাদের সবার অবস্থা এক করে দিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে আমরা দেখেছি কীভাবে একজন রোহিঙ্গা চেয়ারম্যান ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে অঝোরে অশ্রুবিসর্জন করছিলেন। তিনি বললেন, এক সপ্তাহ আগে তিনিও তার এলাকায় দুঃস্থদেরকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন, অথচ এক সপ্তাহ পরে তিনি নিজেই ত্রাণের জন্য হাত পেতে আছেন। এর অর্থ যদি আমরা বৃহৎ পরিসরে চিন্তা করি দেখব ইরাক যখন মার্কিন বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন সিরিয়াতে আশ্রয় নেওয়া ইরাকীদেরকে সিরিয়া ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেছে। এখন সিরিয়ার নাগরিকরাও উদ্বাস্তু, তারাও কোনো না কোনো ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় খুঁজে ফিরছে। আজ বাংলাদেশ ত্রাণ বিতরণ করছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে বলে আত্মভরিতায় স্ফীত হওয়ার কোনো মানে নেই। যুদ্ধ সংক্রামক যা প্রতিবেশী দেশকে আক্রান্ত করে, আর সংকটটা মুসলিম জাতি কেন্দ্রিক। কোনোভাবে শুধু জঙ্গিবাদ ইস্যুটাকে বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপাতে পারলেই কেল্লা ফতেহ হয়ে যাবে অস্ত্রব্যবসায়ী কথিত উন্নত, সভ্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর। তারা কেবল একমনে দেখে যাচ্ছে কোথাকার জল কোথায় গড়ায়। বিশ্ব রাজনীতিতে বিবৃতির তুফান উঠেছে কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ কেউই নিচ্ছে না।
বহু সামরিক বিশেষজ্ঞ বলে দিয়েছেন বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুর দরুন নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে, তাদের সামরিক কপ্টার, ড্রোন ইত্যাদি উনিশবার বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করেছে, তাদের ধর্মনেতারা ফেনী পর্যন্ত আরাকানের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া-চীন-ভারতের মত পরাশক্তি। ভারত অস্ত্রও বিক্রি করতে চাচ্ছে মায়ানমারের কাছে, ইসরাইল তো বিক্রি করছেই। সুতরাং বলা যায় না ঘটনা কোনদিকে মোড় নেয়। যে কোনো মুহূর্তে এ সংকট বাংলাদেশের দিকেও ধেয়ে আসতে পারে, আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও মগ দস্যুদের দ্বারা আবারও আক্রান্ত হতে পারে। সু-শাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য বিরাট সংকট।’ এমনটা আরো অনেকেই বলেছেন।
কথা হচ্ছে, যুদ্ধের ইস্যু পাওয়া না গেলেও যুদ্ধ নির্মাণ করার যথেষ্ট কলাকৌশল পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর জানা আছে। ইরাকে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই তবু সেই মিথ্যা অজুহাতে তারা ইরাকে আক্রমণ করে দশ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। টুইন টাওয়ার হামলার নেপথ্যে কারা ছিল সেটা ভালোভাবে তদন্ত হতে না হতেই তারা আফগানিস্তানে আক্রমণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছিল। তারা অজুহাত একটা পেয়ে যাবেই, উপরন্তু যখন জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো একের পর এক হঠকারী ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছে যে তারা নাকি মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তখন স্বতঃস্ফূর্ত ইস্যু তো হাতের নাগালেই রয়েছে। ভারতের পেটের মধ্যে বাংলাদেশ একটি ভূখ- যার ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন তাই মায়ানমারকে সমর্থন দিয়ে এ অঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না বটে, কিন্তু আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ ইস্যু এখানে দৃশ্যমান হলে তারাও বসে থাকবে না। অস্ত্রব্যবসায় নেমে পড়বে। সবদিক বিবেচনা করলে এই দাঁড়ায় যে আমাদের পক্ষে কোন পরাশক্তি নেই।
এদিকে আমাদের দেশের মধ্যেও বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা ধর্মান্ধ ও হুজুগপ্রবণ। কোনো একটা ইস্যু পেলেই তারা মাথা গরম করে হুঙ্কার দিতে থাকে, লক্ষ লক্ষ লোক জমায়েত করে সংখ্যার গরিমা প্রদর্শন করতে থাকে। তাদের সামরিক চরিত্র নেই, আছে দাঙ্গাপ্রবণতা। এটা আমাদের দেশে যেমন আছে পাকিস্তানেও আছে। এরা অকারণেই হৈ চৈ করে জল ঘোলা করে ফেলে, বিশৃঙ্খলা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না। একটা গরম বক্তৃতা দিয়ে তাদের নেতারা যার যার ধর্মব্যবসার কেন্দ্রে গিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন এই ভেবে যে ইসলামের জন্য বড় কিছু করে ফেললাম। মানুষও তাদেরকে ইসলামের পক্ষের লোক ভেবে সাহস পায়। কিন্তু এই আবেগসর্বস্ব আন্দোলন বা রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তব সংকটের সামনে বড়ই অসহায়। কেননা দাঙ্গা দিয়ে কোনোদিন যুদ্ধ মোকাবেলা করা যায় নি, কোনোদিন যাবেও না। এদের লম্ফঝম্ফ দেখে বরং বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদী, উগ্রবাদী দেশ বলে চিনে নিতে পারবে।
এসব কিছুর সম্মিলনেই ইরাকে, সিরিয়ায় যেমন হয়েছে আমাদের দেশেও রণাঙ্গণ প্রস্তুত করা হতে পারে। জঙ্গিাবাদের ভুল আদর্শ একবার ছড়িয়ে পড়লে তা থাকুক বা না থাকুক পশ্চিমা পরাশক্তি ও আঞ্চলিক পরাশক্তিরা উভয়ে মিলে বাংলাদেশকে ইরাক সিরিয়ার মতো পরিণত করবেই। তখন বাংলাদেশের অবস্থা কীরূপ হবে তা বুঝাই যায়।
অতএব মন্ত্রীমহোদয়ের কথা অনুসারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হলেও তা দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করতে পারছে না। সুতরাং আমাদের আত্মপ্রসাদ উপভোগের সময় এখনও আসে নি, এখনই বলা যায় না দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে নাকি দেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী, অস্ত্রব্যবসায়ী ও ধর্মব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র আরো গাঢ় হয়েছে। বরং দেশকে যদি অস্থিতিশীল হওয়া থেকে বিরত রেখে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা যায় এবং এই সমস্যার সঠিক সমাধান করা যায় তখন এই কথা বলা সময়োপযোগী হবে। “শেষ ভালো যার সব ভালো তার”- কথাটি ভুললে চলবে না। এখনও বাংলাদেশ প্রবল হুমকির মুখেই রয়েছে, এখন সেটা থেকে মুক্তির পথ সন্ধান করতে হবে, দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ রাখতে হবে।
মায়ানামারের সেনাবাহিনী কর্তৃক নিপীড়ন, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তারা আমাদের দেশে এসেছেন। তাদের দুর্দশার খবর আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিছুদিন আগেও তাদের সব ছিল, জমিজমা, বাড়ি গাড়ি, চাকরি, ব্যবসা অর্থাৎ পার্থিব যা কিছু মানুষের থাকে। আজ তাদের কিছুই নেই, সম্মান নেই, সম্পদ নেই। কেবল দু মুঠো ত্রাণের জন্য তাদেরকে সকাল সন্ধ্যা দৌঁড় ঝাপ করতে হচ্ছে। তাদের একটাই পরিচয়- তারা সবাই উদ্বাস্তু। নিয়তি তাদের সবার অবস্থা এক করে দিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে আমরা দেখেছি কীভাবে একজন রোহিঙ্গা চেয়ারম্যান ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে অঝোরে অশ্রুবিসর্জন করছিলেন। তিনি বললেন, এক সপ্তাহ আগে তিনিও তার এলাকায় দুঃস্থদেরকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন, অথচ এক সপ্তাহ পরে তিনি নিজেই ত্রাণের জন্য হাত পেতে আছেন। এর অর্থ যদি আমরা বৃহৎ পরিসরে চিন্তা করি দেখব ইরাক যখন মার্কিন বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন সিরিয়াতে আশ্রয় নেওয়া ইরাকীদেরকে সিরিয়া ত্রাণ দিয়ে সহায়তা করেছে। এখন সিরিয়ার নাগরিকরাও উদ্বাস্তু, তারাও কোনো না কোনো ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় খুঁজে ফিরছে। আজ বাংলাদেশ ত্রাণ বিতরণ করছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে বলে আত্মভরিতায় স্ফীত হওয়ার কোনো মানে নেই। যুদ্ধ সংক্রামক যা প্রতিবেশী দেশকে আক্রান্ত করে, আর সংকটটা মুসলিম জাতি কেন্দ্রিক। কোনোভাবে শুধু জঙ্গিবাদ ইস্যুটাকে বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপাতে পারলেই কেল্লা ফতেহ হয়ে যাবে অস্ত্রব্যবসায়ী কথিত উন্নত, সভ্য সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর। তারা কেবল একমনে দেখে যাচ্ছে কোথাকার জল কোথায় গড়ায়। বিশ্ব রাজনীতিতে বিবৃতির তুফান উঠেছে কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ কেউই নিচ্ছে না।
বহু সামরিক বিশেষজ্ঞ বলে দিয়েছেন বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুর দরুন নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে, তাদের সামরিক কপ্টার, ড্রোন ইত্যাদি উনিশবার বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করেছে, তাদের ধর্মনেতারা ফেনী পর্যন্ত আরাকানের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া-চীন-ভারতের মত পরাশক্তি। ভারত অস্ত্রও বিক্রি করতে চাচ্ছে মায়ানমারের কাছে, ইসরাইল তো বিক্রি করছেই। সুতরাং বলা যায় না ঘটনা কোনদিকে মোড় নেয়। যে কোনো মুহূর্তে এ সংকট বাংলাদেশের দিকেও ধেয়ে আসতে পারে, আমাদের প্রিয় জন্মভূমিও মগ দস্যুদের দ্বারা আবারও আক্রান্ত হতে পারে। সু-শাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য বিরাট সংকট।’ এমনটা আরো অনেকেই বলেছেন।
কথা হচ্ছে, যুদ্ধের ইস্যু পাওয়া না গেলেও যুদ্ধ নির্মাণ করার যথেষ্ট কলাকৌশল পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর জানা আছে। ইরাকে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই তবু সেই মিথ্যা অজুহাতে তারা ইরাকে আক্রমণ করে দশ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। টুইন টাওয়ার হামলার নেপথ্যে কারা ছিল সেটা ভালোভাবে তদন্ত হতে না হতেই তারা আফগানিস্তানে আক্রমণ করে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছিল। তারা অজুহাত একটা পেয়ে যাবেই, উপরন্তু যখন জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো একের পর এক হঠকারী ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছে যে তারা নাকি মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তখন স্বতঃস্ফূর্ত ইস্যু তো হাতের নাগালেই রয়েছে। ভারতের পেটের মধ্যে বাংলাদেশ একটি ভূখ- যার ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন তাই মায়ানমারকে সমর্থন দিয়ে এ অঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না বটে, কিন্তু আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ ইস্যু এখানে দৃশ্যমান হলে তারাও বসে থাকবে না। অস্ত্রব্যবসায় নেমে পড়বে। সবদিক বিবেচনা করলে এই দাঁড়ায় যে আমাদের পক্ষে কোন পরাশক্তি নেই।
এদিকে আমাদের দেশের মধ্যেও বিরাট সংখ্যক জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা ধর্মান্ধ ও হুজুগপ্রবণ। কোনো একটা ইস্যু পেলেই তারা মাথা গরম করে হুঙ্কার দিতে থাকে, লক্ষ লক্ষ লোক জমায়েত করে সংখ্যার গরিমা প্রদর্শন করতে থাকে। তাদের সামরিক চরিত্র নেই, আছে দাঙ্গাপ্রবণতা। এটা আমাদের দেশে যেমন আছে পাকিস্তানেও আছে। এরা অকারণেই হৈ চৈ করে জল ঘোলা করে ফেলে, বিশৃঙ্খলা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারে না। একটা গরম বক্তৃতা দিয়ে তাদের নেতারা যার যার ধর্মব্যবসার কেন্দ্রে গিয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করেন এই ভেবে যে ইসলামের জন্য বড় কিছু করে ফেললাম। মানুষও তাদেরকে ইসলামের পক্ষের লোক ভেবে সাহস পায়। কিন্তু এই আবেগসর্বস্ব আন্দোলন বা রাজনৈতিক দলগুলো বাস্তব সংকটের সামনে বড়ই অসহায়। কেননা দাঙ্গা দিয়ে কোনোদিন যুদ্ধ মোকাবেলা করা যায় নি, কোনোদিন যাবেও না। এদের লম্ফঝম্ফ দেখে বরং বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিবাদী, উগ্রবাদী দেশ বলে চিনে নিতে পারবে।
এসব কিছুর সম্মিলনেই ইরাকে, সিরিয়ায় যেমন হয়েছে আমাদের দেশেও রণাঙ্গণ প্রস্তুত করা হতে পারে। জঙ্গিাবাদের ভুল আদর্শ একবার ছড়িয়ে পড়লে তা থাকুক বা না থাকুক পশ্চিমা পরাশক্তি ও আঞ্চলিক পরাশক্তিরা উভয়ে মিলে বাংলাদেশকে ইরাক সিরিয়ার মতো পরিণত করবেই। তখন বাংলাদেশের অবস্থা কীরূপ হবে তা বুঝাই যায়।
অতএব মন্ত্রীমহোদয়ের কথা অনুসারে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হলেও তা দেশকে সংকট থেকে মুক্ত করতে পারছে না। সুতরাং আমাদের আত্মপ্রসাদ উপভোগের সময় এখনও আসে নি, এখনই বলা যায় না দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে নাকি দেশ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী, অস্ত্রব্যবসায়ী ও ধর্মব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র আরো গাঢ় হয়েছে। বরং দেশকে যদি অস্থিতিশীল হওয়া থেকে বিরত রেখে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা যায় এবং এই সমস্যার সঠিক সমাধান করা যায় তখন এই কথা বলা সময়োপযোগী হবে। “শেষ ভালো যার সব ভালো তার”- কথাটি ভুললে চলবে না। এখনও বাংলাদেশ প্রবল হুমকির মুখেই রয়েছে, এখন সেটা থেকে মুক্তির পথ সন্ধান করতে হবে, দৃষ্টি সেদিকে নিবদ্ধ রাখতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন