সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

ব্যবস্থা ও চেতনায় যখন ধর্ম যুক্ত হয়

যদি দুনিয়ার সকল সম্পদকে শ্রেণীবিভাগ করতে চাই তাহলে দেখা যাবে যে দুনিয়ার সকল সম্পদ মূলত দুইভাগে বিভক্ত। একটি হচ্ছে কাঁচামাল ও অপরটি হচ্ছে শ্রম। আল্লাহ দুনিয়ায় পর্যাপ্ত রকমের কাঁচামাল প্রদান করেছেন এবং সেই কাঁচামালকে যাতে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য মানুষকে দিয়েছেন শ্রম করার সামর্থ্য ও মেধা। ধরুন আপনি একটি জাহাজ তৈরি করতে চান। জাহাজ তৈরির কাঁচামাল লোহা আপনি পাচ্ছেন প্রকৃতি থেকে যা আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন। এবার এই লোহাকে আপনি নিজের মেধা ও শ্রম দিয়ে জাহাজ তৈরি করবেন। অতএব উন্নয়নের জন্য মূল দুটি উপাদানই হলো কাঁচামাল ও শ্রম।
প্রচলিত যে সিস্টেমগুলো রয়েছে তাতে এই কাঁচামাল ও শ্রমকেই ব্যবহার করে উন্নয়ন ঘটানো হচ্ছে কিন্তু এর ফলে সমাজে তৈরি হচ্ছে শোষণ ও বিশৃঙ্খলা। যদি আমি গণতন্ত্রের দিকে তাকাই তবে দেখবো যে ব্যক্তি মালিকানার ফলে কাঁচামাল একজনের কাছে কুক্ষিগত হচ্ছে এবং তারাই প্রতিটি উন্নয়নের থেকে লাভবান হচ্ছে। যদিও যারা শ্রম ও মেধা দেয় তাদের এজন্য মজুরী দেয়া হয় কিন্তু সে মজুরী তাদের শ্রমের তুলনায় নিতান্তই নগণ্য। এর ফলেই পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে গিয়ে সমাজতন্ত্রের আবির্ভাব হয় যেখনে কাঁচামালকে রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে কাঁচামাল যেমন রাষ্ট্র সরবরাহ করে তেমনি শ্রমকেও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু সেখানেও এক প্রকার শ্রেণীর হাতে ক্ষমতা যাওয়ার ফলে তারা এক পর্যায়ে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করে এবং আবারও সেই বৈষম্য দেখা দেয়। তো দেখা যাচ্ছে যে উভয় তন্ত্রেই শেষমেষ বৈষম্যের স্বীকার হতে হচ্ছে।
মূলত তাত্ত্বিকভবে দেখতে গেলে সকল তন্ত্রই সঠিক কিন্তু প্রায়োগিক দিকে গিয়ে প্রতিটি তন্ত্রই তাদের আবেদন ধরে রাখতে সক্ষম হয় নি। এই আবেদন হারিয়ে ফেলার কারণ হচ্ছে যিনি কাঁচামালের দায়িত্বে থাকেন ও শ্রমকে পরিচালনা করেন তিনি নৈতিকভাবে শক্তিশালী হন না। এর কারণ হচ্ছে দায়িত্বে থাকার ফলে তিনি ক্ষমতা ও সম্পদের সংস্পর্শে আসেন ও এর ফলে তার মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়। এখন যদি তার মধ্যে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা থাকে তবে তিনি এই অবক্ষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। কারণ ধর্মের মাধ্যমে তার মধ্যে স্রষ্টার প্রতি ভয়ের সৃষ্টি হয়, নিজের বিবেকের প্রতি সদাচারণ করার শিক্ষা তিনি লাভ করেন। ধর্ম থেকে তিনি নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা পান। তার মধ্যকার স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা দূরীভূত হয় ও এর ফলে সে প্রতিটি কাজ করে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণের জন্য।
সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্রের ফলে যে সাম্য, শোষণহীন সমাজ, বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিমালিকানা ইত্যাদি সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয় মূলত তা তাত্ত্বিকভাবেই শতভাগ মানা হয়, প্রায়োগিক দিক থেকে যদি বিবেচনা করি তবে ফলাফল শূন্যের ঘরে দেখা যাবে। কিন্তু প্রকৃত ইসলামের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে অর্ধপৃথিবীতে এমন একটি ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যে ব্যবস্থার ফলে ব্যক্তির ভিতরে নীতি-নৈতিকতার প্রসার হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে সেই ধার্মিক যে কোনো কাজের আগে ন্যায় অন্যায় নিয়ে ভাবছে। সে প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহীতার ভয় পাচ্ছে।
সমাজতন্ত্র যে সাম্য দিতে পারে নি প্রকৃত ইসলামের মাধ্যমে তা সহজেই লাভ হবে, গণতন্ত্র যে বাক-স্বাধীনতা দিতে পারে নি তাও ইসলাম দিবে যা ইসলামের ইতিহাস থেকে আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। অতএব প্রকৃতভাবে যদি উন্নয়ন করতে হয় তবে প্রকৃত ধর্ম অত্যাবশ্যক। ধর্মকে বাদ দিয়ে আপনি যে জীবনব্যবস্থাই নিন না কেন তা আপনার কাছে তাত্ত্বিক দিক দিয়েই ভালো লাগবে, প্রায়োগিক দিক দিয়ে তা আপনাকে কখনই প্রশান্তি দিতে সক্ষম হবে না। তবে বলে রাখা ভালো, বর্তমানে ইসলাম বলে যেটা পৃথিবীতে প্রচলিত আছে সেটা আল্লাহ রসুলের প্রকৃত ইসলাম নয়, বরং প্রকৃত ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের যদি শান্তি পেতে হয় তাহলে প্রকৃত ইসলামের রূপরেখাটি জেনে সেটা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কারণ তাত্ত্বিকভাবে নয় শুধু প্রকৃত ইসলাম বাস্তবেই অর্ধপৃথিবীতে শান্তি দেওয়ার ইতিহাস রচনা করেছিল।
প্রকাশ- দৈনিক বজ্রশক্তি, (১২.০২.২০১৮)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

সময় কাটে

সময় কাটে  ঘড়ির কাটার সাথে, যখন হয়না কথা জমে নীরবতা।  দূর বহুদূরের পথ,  তোমার আমার হোক শপথ, একসাথে খুঁজব সব গলি। আকাশের কোটি তারা, নিজ পথে...