২০২০ এর সময়টা, শুধু ইতিহাসে নয়, থাকবে সর্বত্র।
কিছু অভ্যাস আর নতুন কিছু শব্দ রয়ে যাবে মানুষের মনে-
এ যেমন, লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব।
শব্দগুলো আগেও ছিল- তবে লুকায়িত।
আগুন জ্বালা সিগারেটের ধোঁয়ার মত বর্তমান তাকে সামনে এনেছে।
সমাজে এগুলো আগেও হতো, কিন্তু অভ্যাস হিসেবে নয়;
বরং তখন এক প্রকার বদোভ্যাস্যের অসভ্য চর্চাই ছিল সভ্যতার আধার।
দূরত্বটা এখন শারীরিক, ঘর্ষণহীন, স্পর্শবর্জিত।
কিন্তু এর আগেও ‘সামাজিক দূরত্ব’ ছিল, এ সমাজেই।
দূরত্ব ছিল ধর্মের নামে, ছিল জাতের নামে, ছিল শ্রেণীর নামে।
প্রেম ছিল, কিন্তু তার আগে ছিল ‘সামাজিক দূরত্ব’।
বিয়ে হতো, তবে প্রাধান্য পেতে ‘সামাজিক দূরত্ব’।
মসজিদে, মন্দিরেও সর্বাগ্রে বসত ‘সামাজিক দূরত্ব’।
অধিকার, আইন, সম্মানের সাথে মিশে ছিল ‘সামাজিক দূরত্ব’।
রক্তের কণায়, অস্থির মজ্জায় ছিল ‘সামাজিক দূরত্বের’ বদোভ্যাস,
দূরে ঠেলে দিয়ে দেয়াল গড়া ছিল সভ্য হওয়ার প্রতিমূর্তি।
‘মানুষ’ নয় বরং ‘দূরত্ব’ গড়ার কারিগরী বিদ্যা শেখাত, শিক্ষা।
পিতা-মাতা থেকে প্রেম-প্রীতি-ন্যায় নয় বরং দেয়া হতো ‘দূরত্বের’ দীক্ষা।
আজ সবাই পৃথক।
আজ সর্বত্র আলাদা থাকার প্রতিশ্রুতি।
‘স্টে হোম, স্টে সেফ’ এর স্লোগান আজ কান পাতলেই শোনা যায়।
আজ যেনো বহু বছরের চর্চা উলঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে।
আজ যেনো মন খুলে সব বলছে তাদের হৃদয়ের সুপ্ত কথা-
”দূরে থাক। দূরে থাক, হতোচ্ছাড়া।”
“তোর শরীরের জন্য”
“তোর বুদ্ধির জন্য”
“তোর ধর্মের জন্য”
“তোর শ্রেণীর জন্য”
“দূর হ, দূর হ”।
আজ এ দূষিত চিন্তা প্রকাশ্য।
আজ এ অবিভক্তির রূপ পরিষ্কার।
আদম-হাওয়া তো লজ্জায় নিজেদের আবৃত করেছিলেন, সংযত হয়েছিলেন।
কিন্তু এ আদম সন্তানেরা আজ যদি নিজেদের উলঙ্গ রূপে লজ্জা না পায়-
তবে হে ধরা, দ্বিধা হও।
চিন্তার এ বিভক্তি, মনুষ্যত্বের ‘লকডাউন’ ও ‘সামাজিক দূরত্বের’ মিথ্যে চর্চা-
আর নয়, এভাবে চলাটা আর মোটেই নয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন